(দিনাজপুর২৪.কম) আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে ৪ লেন বিশিষ্ট ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। আজ শনিবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুন মঙ্গলবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক খুলে দেয়া হবে। এ সময় তিনি রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত দক্ষিণ এশিয়ার আন্তযোগাযোগ ও বাণিজ্য সুবিধা শীর্ষক এক সংলাপে বক্তব্য রাখছিলেন। এবার ঈদে এ মহাসড়কে কোনো ভোগান্তি হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে রাজধানীর যানজট সম্পর্কে তিনি বলেন, রাস্তায় শুধু যানজটই নয় জনজটও আছে। বৃষ্টি হলে সৃষ্টি হয় জলজট। এ ৩ জটে ঢাকা শহরের অবস্থা বেহাল। আমাকে তো রাস্তায় যেতেই হবে। অনেকে সমালোচনা করেন, মন্ত্রী রাস্তায় কেন? এ দেশে রাস্তায় না গেলে কোনো কাজ হবে না।
এ সংলাপে সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, নেপালের রাষ্ট্রদূত এইচ কে শ্রেষ্ঠা ও এফবিসিসিআইর সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি কত চ্যালেঞ্জিং তা আমি জানি। গত সাড়ে ৩ বছরে ১০৩ বার পরিদর্শন করেছি। রাস্তার পাশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, শ্মশান, কবরস্থান আছে। এগুলো সরানো আমাদের দেশে অনেক কঠিন। ফলে এগুলো সরাতে অনেক সময় লেগেছে। একটা মসজিদ সরাতে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ১০ বার বসতে হয়েছে। ইতিমধ্যে অন্তত ১৯০ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ২০টি সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন নির্মিত ১০০ কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে।
এ মহাসড়কে ৬ লেনের কাজ অচিরেই শুরু করতে পারা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। ঢাকা মেট্টোরেল সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এর ফিজিক্যাল কনস্ট্রাকশন কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালে শেষ করা হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজ শেষ হবে। আর ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত সম্পূর্ণ কাজ শেষহবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস সম্পর্কে কাদের বলেন, এ প্রকল্পটি অচল অবস্থার মধ্যে ছিল। উত্তরা থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত কাজ শুরু হয়েছে।
৪ দেশের মধ্যে গাড়ি চলাচল নিয়ে সম্প্রতি হওয়া চুক্তি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এডিবি ৩ বছরের সময় চেয়েছে। কিন্তু আমরা বলেছি, ৬ মাসের বেশি সময় দেয়া যাবে না। আশা করি আগামী ৬ মাসের মধ্যে চুক্তি শর্ত অনুসারে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোসহ অন্যান্য বিষয় সম্ভব হবে। এ আন্তযোগাযোগে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাও আসতে পারে। এগ্রিমেন্ট অনুসারে ডোর ইজ ওপেন। পদ্মা সেতু সম্পর্কে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ ২০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে। এর আশপাশের রাস্তা ফোরলেন করা হচ্ছে। এসব সড়ক ৪ দেশের আন্তযোগাযোগের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।(ডেস্ক)