(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেনি বরং সব সময় ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। গতকাল সকালে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে এ বছরের হজ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। দেশের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য হজযাত্রীদের প্রতি দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা পবিত্র জায়গায় যাচ্ছেন- দোয়া করবেন, যেন এই বাংলাদেশে আমাদের ধর্মে যারা বিশ্বাসী এবং সঙ্গে সঙ্গে অন্য ধর্মে যারা বিশ্বাসী তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে সহঅবস্থান করতে পারে। ধর্মের নামে যারা বিভ্রান্তির পথে যাচ্ছে আল্লাহ যেন তাদের সুপথে আসার পথ করে দেন। আমাদের দেশের মানুষ যেন একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং উন্নয়নের গতিধারাটা যেন আমরা অব্যাহত রাখতে পারি। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক সেটাই আমরা চাই। যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে আল্লাহ যেন তাদের মনমানসিকতাটা যেন পাল্টে দেন। তাদের যেন হেদায়েত করেন- সেটাই আমরা চাই। আমাদের পবিত্র ধর্ম, মানবতার ধর্ম ইসলামের বদনাম যেন কেউ করতে না পারে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র পুনরোল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মে কোথাও বলে না যে কেউ আত্মঘাতী হলেই বেহেশতে চলে যাবে। কিন্তু এই বিভ্রান্তিটা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা চাই না যে আমাদের দেশ কোনো বিভ্রান্তির মধ্যে থাকুক। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বজলুল হক হারুন, সৌদি দূতাবাসের ডেপুটি কাউন্সিলর সালেহ আল মুতাইরি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল জলিল স্বাগত বক্তৃতা করেন। পরে দেশ ও জাতির বৃহত্তর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে অনুষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম হজ ফ্লাইট ২৪শে জুলাই সকালে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে এবং ২৬শে আগস্ট পর্যন্ত এই হজ ফ্লাইট চলবে। এ বছর বিমান এবং সৌদি এয়ার লাইন্স ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে।
বারবার মৃত্যুুর মুখোমুখি হয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আইভি রহমানসহ আমাদের ২২ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। আমার দলের লোকজন এমনভাবে আমাকে ঘিরে রেখেছিলেন যে আমার গায়ে একটা স্প্ল্লিন্টার লাগেনি, তাদের গায়ে লেগেছে এবং এই স্প্লিন্টারে ১ হাজারের মত নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং অনেকেই ধীরে ধীরে মারাও গেছেন। মোহাম্মদ হানিফের (ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র) কথা আপনারা জানেন। তিনি আমাকে সম্পূর্ণভাবে সবসময় ধরে রেখেছিলেন। তখনও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই বাঁচিয়েছেন। হয়তো কোনো কাজ তিনি করাতে চান সে জন্য। কিন্তু আমরা চাই না যে, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটুক।
হজযাত্রী প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে হজযাত্রী ছিলেন ৪৭ হাজার ৯৮৩ জন। এবছর হজযাত্রী হলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ এবার বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক হজ পালন করবেন। তিনি বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি বারবার হজ পালন করেছেন। সেজন্য হজ ব্যবস্থাপনায় সমস্যাগুলো নিজেই অনুধাবন করেছেন। তাই যখনই সরকার গঠন করেছেন সে সমস্যাগুলো সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছেন। হজ উইং এর অফিস জেদ্দা হতে মক্কাস্থ বাংলাদেশ হজ মিশনে স্থানান্তর করায় গৃহীত সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মক্কার হজ মিশনকে শক্তিশালী করেছি। তিনি বলেন, আমরা ২০১০ সালে গৃহীত জাতীয় হজ নীতিকে আরো যুগোপযোগী ও তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর করে ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি-২০১৬’ প্রণয়ন করেছি। এই নীতির আলোকেই বর্তমানে হজ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে এবং আমরাই তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করে ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনার সূচনা করেছি। হজযাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটালাইজ করার পাশাপাশি বছরব্যাপী রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম উন্মুক্ত করে প্রাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর ফলে প্রতারণা বন্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের অধিকাংশ হজযাত্রীরা জেদ্দা হজ টার্মিনালে অবতরণ করে থাকেন। সরকার জেদ্দা হজ টার্মিনালে প্লাজা ভাড়া নিয়েছে। এতে প্রশাসনিক, চিকিৎসা ও আইটি সেবাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে হজযাত্রীরা সেবা ও সুবিধা পাচ্ছেন। আগামীতেও হজ ব্যবস্থাপনায় সফলতার ধারা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি হজ এজেন্সি এবং তাদের সংগঠন হাব (এইচএএবি) কে সুসংগঠিত করা হয়েছে। আমরা হজে অব্যবস্থাপনার অভিযোগে অভিযুক্ত হজ এজেন্সিগুলোকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করেছি। কোনো ব্যত্যয় হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। গত সাড়ে আট বছরে আমাদের বহুমাত্রিক পদক্ষেপ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাজীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছি।  বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হজ ব্যবস্থাপনায় চরম দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জোট সরকার হাজীদের দুর্দশা লাঘবে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে প্রথমেই হজ ব্যবস্থাপনায় অতীতের সব অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করা হয়েছে।