(দিনাজপুর২৪.কম) অবাক করা ব্যাপার! এ যেন লিওনেল মেসির কার্বন কপি! দেখতে প্রায় একই রকম। চেহারার গড়ন, চোখ, কপাল, ঠোঁট, দাড়ি, দাড়ির রঙ- সবই লিওনেল মেসি মতো। হঠাৎ তাকে কেউ দেখলে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবে নিশ্চিত। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি ইরানে থাকেন নাকি- এমন প্রশ্ন করতেই পারেন। ঠিক লিওনেল মেসির মতো দেখতে ইরানের এক ছাত্র এখন আলোচনার তুঙ্গে। তাকে বলা হচ্ছে, ইরানের মেসি। মেসির মতো দেখতে হওয়ায় রেজা পারাসতেসের বিড়ম্বনাও কম নয়। যাকে বলে ‘খ্যাতির বিড়ম্বনা’। ইরানের হামাদান শহরের বাস ২৫ বছর বয়সী রেজা পারাসতেসের। প্রথমে তিনি মুখে দাড়ি রাখতেন না। কিন্তু দেখতে ছিলেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লিওনেল মেসির মতো। বিষয়টি অন্য কেউ হয়তো সেভাবে মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করেননি। কিন্তু তার বাবা বিষয়টি ভালভাবে লক্ষ্য করেন। কয়েক মাস আগে তিনি নিজেই পুত্রকে দাড়ি রাখতে বলেন। তার দাড়িও লিওনেল মেসির মতো সোনালি রঙের। ছেলেকে নিজেই সেলুনে নিয়ে যান। ঠিক মেসির চুল ও দাড়ির কাট দিয়ে নিয়ে আসেন। এখন তো অবাক। মেসি আর রেজার মধ্যে তো কোনো পার্থক্য নেই! বার্সেলোনার ১০ নম্বর জার্সি পরিয়ে দেন রেজার গায়ে। এবার অবাকের মাত্র আরো ছাড়িয়ে যায়। এতো লিওনেল মেসির কার্বন কপি! বার্সেলোনার ১০ নম্বর জার্সি পরা রেজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাবা প্রকাশ করেন। মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠে। কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে, এটা মেসি নয়। কয়েকদিনের মধ্যে তারকা বনে যান রেজা। ‘ইরানিয়ান মেসি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান। এখন তাকে নিয়ে রীতিমতো উন্মাদনা। যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই উৎসুক জনতা তাকে ঘিরে ধরছে ছবি তোলার জন্য। বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যমেও তাঁর ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তাকে নিয়ে রিপোর্ট করেছে। এসবে কিন্তু ভালোই মজা পাচ্ছেন রাজা। বলেন, ‘এখন সবাই আমাকে ইরানিয়ান মেসি নামেই চেনে। সবাই বলে মেসির নকল করে দেখাতে! অনেকে তো বুঝেই উঠতে পারে না আমি আসলে কে! আমি সবার মাঝে এই আনন্দ ছড়িয়ে দিতে পেরে খুশি। মানুষের ভালোবাসাই আমাকে প্রেরণা যোগাচ্ছে।’ তবে মানুষের অতি উৎসাহী আচরণ উপভোগ করলেও মাঝে সাঝেই সেটা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাকে। দু’দিন আগে বড় এক ঝামেলায় পড়েন ইরানিয়ার মেসিখ্যাত রেজা। হামাদান শহরের রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাকে দেখে কয়েক শ’ উৎসুক দর্শক একত্রিত হয়ে যায়। তারসঙ্গে ছবি তোলা ও কথা বলার জন্য সবার মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। এতে রাস্তায় প্রচ- যানজটের সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশ যানজটের কারণ দেখে অবাক। যানজট দূর করার জন্য তারা রেজাকে স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান। তার গাড়ি আটকে রাখে পুলিশ। কারণ সে, রাস্তায় বের হলে ফের মানুষ জড়ো হয়ে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে রেহাই পেয়েছেন। কিন্তু ছবি মানুষের সঙ্গে ছবি তোলার আবদার মোটতে মেটাতে ক্লান্ত ইরানিয়ান মেসি বলে পরিচিত হওয়া রেজা। ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল থেকে সাক্ষাৎকার দেয়ার আমন্ত্রণ পাচ্ছেন। এমন কি টিভি বিজ্ঞাপনের জন্যও তাকে ডাকা হচ্ছে।

২০১৪ সালের একটি ঘটনা শুনালেন রেজা। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ইরানের মুখোমুখি হয় ইরান। ওই ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচটি গোলশূন্য ছিল। কিন্তু ৯১ মিনিটে লিওনেল মেসির ফ্রি-কিকে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ওইদিনের ঘটনা শুনাতে গিয়ে রেজা বলেন, ‘ওই ম্যাচের দিন আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। ম্যাচের পর বাবা আমাকে কল করলেন। বললেন, আজ রাতে বাড়ি ফেরা দরকার নেই। তুমি কেন ইরানের বিপক্ষে গোল করেছ? আমি বললাম, কিন্তু আমি তো গোল করিনি। আমি তো সে নই। বাবার খারাপ লাগবে বলে সেই রাতে আমি বাড়ি ফিরিনি।’