(দিনাজপুর২৪.কম) ইরাকে নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে ১৫৭ জন নিহত হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই দেশটিতে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ইত্যাদি নানা দাবিতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীরও ৮ সদস্য প্রাণ হারিয়েছে। তদন্ত কমিটির বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

রয়টার্স বলছে, বিক্ষোভ দমনে অত্যধিক শক্তি প্রয়োগ করেছে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। বিক্ষোভকারীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে তারা। প্রতিবেদনে এর জন্য নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বেকারত্ব, নিম্নমানের জনসেবা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অক্টোবরের শুরু থেকে ইরাকে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ সহিংস রুপ ধারণ করলে শত শত মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘুষগ্রহণ ছাড়াও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অন্তঃকলহ এবং সাধারণ মানুষকে উপেক্ষার অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

বিক্ষোভ নিয়ে তদন্ত কমিটির মত, নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বিক্ষোভের সময় তাদের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বিক্ষোভ সামলানোর দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ আরও কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করে তাদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য শুরু করার সুপারিশ করেছেন তারা।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদি বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এ কমিটি গঠন করেন। এছাড়া তিনি তার মন্ত্রীপরিষদে রদবদলসহ সংস্কারমূলক নানান পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

তবে সমালোচকরা বলছেন, মাহদির প্রতিশ্রুতি অস্পষ্ট। এতে জনমানুষের ক্ষোভ কমবে না। ইতোমধ্যে বিক্ষোভকারীরা আগামী শুক্রবার ফের বিক্ষোভ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ স্থগিত রয়েছে।-ডেস্ক