(দিনাজপুর২৪.কম) ‘ভারতের রান তাড়া করতে যেও না।’ পাকিস্তানকে এই মূল্যবান পরামর্শটি দিয়েছিলেন তাদেরই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি পাকিস্তানের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়কও বটে। কাজেই তিনি যে খুব খারাপ পরামর্শ দেশকে দেবেন না, তা বোঝা উচিত ছিল পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমদের। কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডে স্যাঁতসেতে পিচ, মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির পূর্বাভাসের লোভে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথের উল্টা দিকেই হাঁটলেন তিনি।

এবং ভারতের ইনিংস থেকেই মাথায় হাত। সহায়ক পরিবেশেও মোহাম্মদ আমির-হাসান আলিরা ভারতীয় ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে ব্যর্থ। রহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলের ওপেনিং পার্টনারশিপে উঠে গেল ১৩৬ রান। তারপর ৩৩৬ রানের বিশাল টার্গেট। বাবর আজম আর ফখর জামান ছাড়া টপ অর্ডারের কেউই কিন্তু আর চাপের মুখে দাঁড়াতে পারেননি।

শুধু রোববারের ট্যুইট নয়, ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগেও বর্তমান পাকিস্তান অধিনায়ককে সাবেকদের পরামর্শ ছিল, ‘পিচ ভিজে না থাকলে ভারতের বিরুদ্ধে টসে জিতে ব্যাটিং নিও।’ আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে ট্যুইটারে ইমরান জানিয়েছিলেন, ‘বিরাট কোহলি-ব্রিগেডের বিরুদ্ধে দলে স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান ও বোলারদেরই রাখা উচিত। যারা এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের চাপ সত্ত্বেও পারফর্ম করতে পারবে। এছাড়া পিচ স্যাঁতস্যাঁতে না থাকলে প্রথমে ব্যাট করাই ভালো।’

১৯৯২ বিশ্বকাপে ইমরান খানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। তার ক্রিকেট মস্তিষ্কের প্রশংসা দেশে-বিদেশে বহুবার শোনা গেছে। তাহলে কি রোববার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইমরানের পরামর্শ ভুলে গিয়েছিলেন সরফরাজ? আর সত্যিই কি পাকিস্তান অধিনায়কের টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া ভুল ছিল? বিশেষজ্ঞদের সিংহভাগ কিন্তু তেমনই বলছেন। এহেন সাবেকের পরামর্শ উপেক্ষা করা সরফরাজের উচিত হয়নি বলেই ধারণা ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের। এদিন গৌতম গম্ভীর, কেভিন পিটারসেন, মাইকেল ক্লার্করা বলছিলেন, পরে ব্যাট করলে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে টার্গেট সেট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই হয়তো সরফরাজ প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এরকম উইকেটে প্রথমে ব্যাট করাই শ্রেয়।
বিরাট কোহলি অবশ্য টসে হারার পর বলেন, ‘টসে জিতলে আমরা প্রথমে ফিল্ডিংই করতাম।’ -ডেস্ক