(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে নিজেদের শঙ্কার কথা জানালো বিএনপি। সোমবার নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে নিজেদের শঙ্কার কথা জানায় দলটি। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা তাদের শঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ইভিএম ব্যবহারে তারা অনড়।

সোমবার বিকাল চারটায় নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির দুই মেয়রপ্রার্থীসহ দলটির প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কে এম নূরুল হুদা ও বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘বাক্স ও ব্যালট ছিনতাই এবং পেপার লুটসহ অনিয়ম দূর করতে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তে আমরা অনড়।’

সাক্ষাৎকালে বিএনপি নেতারা ইভিএমের বিরোধিতাসহ নির্বাচনের সময় দল সমর্থিত ও নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানি বা গ্রেফতার না করতে সিইসির সহযোগিতা চান। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান দলটির নেতারা।

সাংবাদিকদের সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রার্থীদের অহেতুক গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হবে।’

অন্যদিকে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীরবে নিঃশব্দে ভোটচুরির প্রকল্প হলো ইভিএম। পৃথিবীর দুইশ দেশের মধ্যে মাত্র চারটি দেশে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এই চারটি দেশের সরকার এবং নির্বাচন কমিশন কোনোটাই বিতর্কিত নয়। বাংলাদেশের সরকার এবং নির্বাচন কমিশন দুটিই বিতর্কিত। ফলে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ইভিএম অন্তরায়।’

খসরু বলেন, ‘২০১৪ সালে ভোটারবিহীন প্রার্থীবিহীন একটা নির্বাচন করে সরকার ক্ষমতা দখল করেছে। ২০১৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এখন আবার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে। এখন ক্ষমতা দখলের একটি নতুন প্রক্রিয়া দেখতে পাচ্ছি সেটি হলো ইভিএম।’

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য ৩৫ হাজার ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রস্তুত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। দুই সিটিতে থাকছে দুই হাজার ৪০০ এর বেশি ভোটকেন্দ্র। আর ১৪ হাজার ৬০০’র মতো ভোটকক্ষ থাকছে। -ডেস্ক