স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে রোজদারদের আহাজারী চলছে। পবিত্র মাহে রমজানের ১ম দিনে প্রতিটি খাদ্যে পণ্য (ইফতারের দাম) অনেক। সাধারণ রোজাদাররা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাধারণত রোজাদাররা কলা খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু এবার কয়েকটি রোজা অতিক্রম হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে কলা খেতে পারেননি খেটে খাওয়া মানুষ ও মধ্যবিত্তরা। কলার হালা ৬০ থেকে ৭০টাকা। সবচেয়ে ছোট মালভোগ কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫টাকা হালা। যেন দেখার কেউ নেই।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরে এখন পর্যন্ত বাজার মনিটরিং কমিটিকে দেখা যায়নি। ফলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত বিক্রি করছেন বিভিন্ন খাদ্য পণ্য। শুধু কলা নয় অন্যান্য খাদ্যপণ্যের মূল্য আকাশচুম্বী। গরুর গোস্ত বিক্রি হচ্ছে ৫৭০ থেকে ৫৯০ টাকায়। খাসির গোস্ত ৬৬০ থেকে ৭০০ টাকায়। বুট, ছোলা, মসুর ডাল, খোলা সয়াবিন, বেসন, খেজুর, বিভিন্ন কোমল পানীয় সহ দাম বেড়েছে প্রায় সকল খাদ্যে পণ্যের। এছাড়াও আলুর দাম সহনীয় পর্যায় থাকলেও দাম বেড়েছে, বেগুন, পটল, বরবটি, শাক-সবজির। বিভিন্ন প্রকারের শাকের আটি বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ১৫টাকায়। পাকিস্তানি মুরগী কেজি প্রতি ২৬০ থেকে ২৯৫ টাকা, লেয়ার মুরগী কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২৩৫টাকা, বয়লার মুরগী ১৬০ থেকে ১৭৫ টাকা। আর মাছের বাজার! ৩০০ টাকা কেজির নিচে কোন মাছ বাজারে নেই। যে গুলো সাইজের মাছ যেমন- পাঙ্গাশ, রুই, কাতলা, সিলভার কার্প, তেলাপিয়া সেগুলো বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। গতকাল বাজার ঘুরে জানা গেল ইলিশের কেজি ১৬শ’ থেকে ২৬শ’ টাকা কেজি! এছাড়াও মাগুর, কই, শিং সহ অন্যান্য দেশীয় মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা কেজির বেশি।
বাহাদুর বাজার কাঁচাবাজার সমিতির সভাপতি মোঃ হানিফ বলেন, রমজান মাসে বাজারের খাদ্যেপণ্যের দাম একটু বেশিই থাকে। এ নিয়ে লেখালেখির কিছুই নেই।
দিনাজপুর মাংস হাটির সভাপতি মোঃ ভুট্টু এবং খাসির মাংস হাটির সভাপতি এরশাদ এ প্রতিনিধিকে জানান, মাংসের দাম বাড়েনি। মাংসের দাম কমাতে হলে যারা রাস্তায়-রাস্তায় গাড়ি আটকিয়ে চাঁদা নেয় তাদের দমন করতে পারলেই মাংসের দাম কিছুটা কমতে পারে। নতুবা মাংসের দাম আরও বৃদ্ধি হতে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে কিছু রোজাদারদের এ সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের অভিষাপ দিচ্ছেন এবং বলেছেন পবিত্র রমজান মাসকে টার্গেট করে অন্যায় ভাবে খাদ্য পণ্যের দাম বাড়িয়েছে আল্লাহই তাদের বিচার করবেন।
সাধারণ ভোক্তারা জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর পৌরসভা এবং ভোক্তা অধিকারের সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারীর সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সুধী মহল বলছেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: মাহমুদুল আলম পবিত্র মাহে রমজানের পুরো ১ মাস ব্যাপী সরকারি লাইসেন্সকৃত মদের দোকানে মদ বিক্রি বন্ধের জন্য নির্দেশ প্রদান করে দিনাজপুরবাসীর প্রশংসা পেয়েছেন তারা আশা প্রকাশ করেছেন দ্রুত এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং খাদ্যেপণ্য মূল্যের তালিকা প্রতিটি দোকানে ১টি করে তালিকা ঝুলিয়ে দিবেন।