দিনাজপুর২৪.কম০ ক্যারিবীয়দের ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে বেঙ্গল টাইগাররা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছে! পুচকে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে উইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংস ও ১৮৪ রানের বিশাল জয় পেলো বাংলাদেশ। টাইগারদের এ স্বরণীয় বিজয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ জয়ের ফলে প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল সাকিব বাহিনী। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা টেস্টে প্রথম ইনিংসের পর ব্যাটিং ব্যর্থতায় দ্বিতীয় ইনিংস ২১৩ রানে শেষ হলে রোমাঞ্চকর এক জয় পায় স্বাগতিক টাইগাররা।

এবার ঢাকা টেস্টে ছিলো রেকর্ডের ছড়াছড়ি! ১২৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙ্গা থেকে শুরু করে, কি না ছিলো। টেস্টের সবরকমের আকর্ষণই দেখলো এবার ক্রিকেটবিশ্ব। ব্যাটিং ও বোলিং- দুই বিভাগেই ছিল বাংলাদেশের একক আধিপত্য। তিন দিনেই উইন্ডিজদের কুপকাত করেছে টাইগাররা। পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল বাংলাদেশের দাপট। ম্যাচশেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, এমনটাই চেয়েছিলাম আমি। দলের কাছ থেকে আমার ও কোচদের এমনটাই চাওয়া ছিল। তিনি আরো বলেন, সব মিলিয়ে দারুণ টিম এফোর্ট। যখন ব্যাটসম্যানরা সুযোগ পেয়েছে সেটা কাজে লাগিয়েছে। দলের চার স্পিনার সবাই ভালো বল করেছে।

ওরা পরিকল্পনামাফিক বোলিং করে সফলতা পেয়েছে। ম্যাচে আমরা পরিকল্পনা করেছি এবং সেই অনুসারে বোলিং করেছি। বিশেষ করে মিরাজ আর নাঈম সত্যি ভালো করেছে। আমি দলের কাছ থেকে আর বেশি কিছু চাইতে পারিনা। সামনে আরো চ্যালেঞ্জ আসছে। আমরা সেই চ্যালেঞ্জগুলো নিতে মুখিয়ে আছি। এদিকে, আঙুলের চোট নিয়ে এশিয়া কাপের মাঝপথে দেশে ফিরতে হয়েছিল সাকিবকে। চোটের কারণে খেলতে পারেননি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে ফিরেছেন ক্রিকেটে।

এবার ঢাকা টেস্টে ২০ উইকেটের ১২টিই শিকার করেন অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং প্রথম ইনিংসে। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি নেন ৫ উইকেট। এমন পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি মিরাজ। ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, আমি সত্যি অনেক খুশি। অনেকদিন পর ম্যান অব দ্যা ম্যাচের অ্যাওয়ার্ড পেলাম। আমাদের বোলাররা সত্যি ভালো বোলিং করেছে। বিশেষ করে সাকিব ভাই এবং তাইজুল। এছাড়া প্রথম ইনিংসে ৫০৮ রান করে ব্যাটসম্যানরা বোলারদের কাজ সহজ করে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের ৫ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলার শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সফরকারীদের প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শিমরন হেটমায়ারের (৩৯) ক্যাচ নিজের বলে নিজেই তালুবন্দী করে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। এরপর আরও বেশী উইকেটখেকো হয়ে পড়েন মিরাজ। তার বোলিং তোপের মুখে একে একে সাজঘরে ফিরেন দেবেন্দ্র বিশু (১), কেমার রোচ (১), শন ডওরিচ (৩৭)। এর ফলে মিরাজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং স্পেলে দলীয় ১১০ রানে ৯ উইকেটের পতন ঘটে সফরকারীদের। মিরাজ তান্ডবের পর শেরমন লুইসকে লেগ-বিফোরের ফাঁদে ফেলে নিজের তৃতীয় উইকেট শিকারের পাশাপাশি অতিথি দলকে ১১১ রানে অল-আউট করে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে কম রানে অলআউট করার পর নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সফরকারীদের ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্তও নেয় স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে অসহায় আত্মসমর্পণের পর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও প্রত্যাশা অনুযায়ী করতে ব্যর্থ হয় উইন্ডিজরা।

প্রথম ইনিংসের মতো এবারও প্রথম ওভারে সাকিবের শিকারে পরিণত হয়ে মাঠ ছাড়েন ক্যারিবীয় ক্যাপ্টেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। দলনেতার বিদায়ের পর আবারও স্বাগতিকদের ঘুর্ণীবলের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ে ক্যারিবীয় টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ২৯ রানের মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে বাধ্য হন দলটির ওপরের সারির চার ব্যাটসম্যানকে। এরপর দলের হাল ধরে লড়তে থাকেন হেটমায়ার। পঞ্চম উইকেট জুটিতে শাই হোপকে নিয়ে ৫৬ রান যোগ করেন তিনি। স্বাগতিকদের বিপক্ষে এ উইকেট জুটি যখন মাথা তুলে দাঁড়ানোর পথে তখন হোপকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মিরাজ। এক প্রান্ত ধরে ব্যাট করলেও অপর প্রান্তে উইকেট হারাতেই থাকে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা।

এক পর্যায়ে কিছুটা আক্রমণাত্বক মেজাজে রান তুলতে শুরু করেন হেটমায়ার। অর্ধশতক পূর্ণের পর দলের পুরো হাল নিজের কাঁধে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে হাঁটলেও শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ নিয়ে শেষ হয় তার ইনিংস। অবশেষে মিরাজের বলে মিঠুনের তালুবন্দী হলে সেঞ্চুরি পূর্ণ থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থেকেই হেটমায়ারকে সাজ ঘরে ফিরতে হয়। এরপর ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট লাভের তৃপ্তিতে মাতেন মিরাজ। শেষ উইকেট জুটিতে রোচ ও লুইস রান ৪২ যোগ করলেও তাতে পরাজয় এড়াতে পারেনি সফরকারীরা। ৩৭ রান করা রোচকে নিজের তৃতীয় শিকারে তাইজুল পরিণত করলে জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : প্রথম ইনিংসে ৫০৮/১০।
মাহমুদউল্লাহ ১৩৬, সাকিব ৮০, সাদমান ৭৬, লিটন ৫৪; ব্র্যাথওয়েট ৫৭/২।
উইন্ডিজ : প্রথম ইনিংসে ১১১/১০।
হেটমায়ার ৩৯, মিরাজ ৫৮/৭, সাকিব ২৭/৩।
ফলাফল : বাংলাদেশ ইনিংস ও ১৮৪ রানের জয় (২-০)।
ম্যাচ সেরা : মেহেদী হাসান মিরাজ।
সিরিজ সেরা : সাকিব আল হাসান।

-ডেস্ক