(দিনাজপুর২৪.কম) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও বৃহস্পতিবার (০২ আগস্ট) বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে পঞ্চমদিনের মতো মাঠে নেমেছে তারা।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে টানা চার দিন ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। উত্তরা থেকে বনানী,মতিঝিল বা রাজধানীর অন্য কোনো এলাকায় যেতে গিয়ে সাধারণ নাগরিকদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সাধারণত সকালে সাড়ে আটটায় উত্তরার জসীমউদ্দীন সড়কের মোড়ে যে সংখ্যক বাস থামতো, বৃহস্পতিবার সকালে তার ছিলো হাতে গোণা কয়েকটা। এয়ারপোর্ট বাসস্ট্যান্ডের অপেক্ষমান যাত্রীরা বাসে ওঠার জন্য প্রায় এক কিলোমিটার আগে চলে এসে র‌্যাব-১ দপ্তরের সামনে পর্যন্ত দাড়িয়ে ছিলো। উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে যতগুলো গণপরিবহণকে রাজধানীরি দিকে আসতে দেখা গেছে; সেগুলোর সবই ছিলো যাত্রী পূর্ণ।

অন্যান্য দিন বিমানব্দর গোল চত্বরে সকালে দীর্ঘ যানজট থাকলেও বৃহস্পতিবার সকালে গণপরিবহণের চাপ না থাকায় ওই রাস্তায় মোটামোটি স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। একই অবস্থা ছিলো খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডে। অফিসগামী যাত্রীরা এয়ারপোর্টের দিক থেকে যখনই একটা বাস আসছিলো,সেটাতে ওঠার জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছিলেন।

একটি বাসের চাপায় গত রোববার কুর্মিটোলায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় গত চার দিন ধরেই রাজধানীতে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। মোহাম্মদপুর এলাকায় সকালে গণপরিবহণ একেবারে ছিলো না বললেই চলে। সকাল সোয়া নয়টা পর মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাস ডিপোতে একটি বাসও দেখতে পাওয়া যায় নাই। ওখান থেকে বিআরটিসি বাসগুলো বড্ডার নতুন বাজার যায়।

এছাড়া মোহাম্মদপুর বাস ডিপোর বাইরে থেকে লেগুনা ছাড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে। গণপরিবহণ না পেয়ে অফিসগামী লোকজন হেটে বা রিকশায় রওনা হয়েছেন মোহাম্মদপুর থেকে।
মোহাম্মদপুরের শিয়া সমজিদ এলাকা থেকে সকালে আলিফ পরিবহণের একটি বাস সকাল নয়টার পর রামপুরার বনশ্রীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। ওই এলাকা থেকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর এবং রামপুরার বনশ্রী উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে। গণপরিবহণ না থাকায় এবং স্কুল বন্ধ থাকায় ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কে সকালে যানজট থাকলেও বৃহস্পতিবার সকালে ওই রাস্তা সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মতো ফাঁকা ছিলো।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই ঢাকায় বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ৯দফার দাবিতে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছে। নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব। -ডেস্ক