(দিনাজপুর২৪.কম) ১৯৮০ সালের দিকে জেন ফন্ডা তার ব্যায়ামের অনেক ভিডিও ক্যাসেট বিক্রি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ভিডিওটেপ ডিভিডি করে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল ফর্মে আনা হয়েছিল।
সেই সময় পার হয়ে এখন কিভাবে ইউটিউবে জায়গা করে নিল ফিটনেস ভিডিও?
৩০ বছর বয়সী ক্যাসি হো ইউটিউবে যখন ব্লগ খুলেন এবং তার ব্যায়ামের ভিডিও আপ করেন তিনি জানতেন যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ব্যাপক সাড়া পাবেন।
ফিটনেস ভিডিও ব্লগার ক্যাসি হো’র ইউটিউব চ্যানেলে প্রায় চার মিলিয়ন ফলোয়ার বা অনুসারী রয়েছে যারা তার বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম অনুসরণ করে থাকে। পাশাপাশি ফেসবুক ও ইন্সট্রামেও তার ১০ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে।
ফিটনেস ব্লগারদের মধ্যে ক্যাসি অন্যতম যিনি অনেক কম বাজেটে বিশ্বের নজর কাড়তে পেরেছেন।
কিন্তু ফিটনেস কুইন হিসেবে পরিচিত জেন ফন্ডা যিনি লাখ লাখ মানুষকে অ্যারোবিকস শেখাতে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন, তার জন্য বা তার অনুসারীদের জন্য বিষয়টা এত সহজ ছিল না। আশির দশকে লাখ লাখ দর্শক টিভিতে বসে তার যোগব্যায়ামগুলো শেখার চেষ্টা করত। ১৭ মিলিয়নেরও বেশি ভিডিওটেপ বিক্রি করেন তিনি।
কিন্তু বর্তমানে ইউটিউবে ত্রিশ মিলিয়নেরও বেশি ফিটনেস ভিডিও রয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও তৈরি হয়েছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম।
ক্লিকন মিডিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড উইলসন বলছেন ‘বর্তমান ডিজিটাল যুগে ফিটনেস ভিডিওর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে সুস্থ রাখতে আরো বেশি উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।’
যারা নিজেকে ফিট রাখতে চায় তারা এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমেই ভিডিওগুলো দেখছে ও প্রয়োগ করছে।
যেমন ৩৫ বছর বয়সী জুজকা লাইট একজন ফিটনেস ব্লগার। চেক এই নারী থাকেন লস এঞ্জেলেসে। ২০১২ সালে তিনি তার চ্যানেল চালু করেন। তার ছোট ছোট ‘ওয়ার্কআউট ভিডিও’গুলোর বেশ কিছু অনেক জনপ্রিয় হয়েছে। যা ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেখেছে।
বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির ডিজিটাল কমিউনিকেশন্সের অধ্যাপক মার্ক ব্রিল বলছেন, ‘বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন ব্যবহার ও মোবাইল ভিডিওর ব্যবহার বাড়ার কারণে ফিটনেস ভিডিওর দর্শকও বেড়েছে।’
তিনি বলেন, যে কোনো জায়গায় বসে তারা ভিডিওগুলো দেখতে পারছে। যেহেতু মোবাইল ডিভাইসেই দেখতে পারছে , তাই সেটি প্রাইভেটও থাকছে।
প্রযুক্তির যুগে মানুষ প্রযুক্তিকে বেছে নিয়েই নিজেকে সুস্থ রাখতে চাইছেন- ফিটনেস ভিডিওর জনপ্রিয়তায় এমনটাই প্রমাণিত হচ্ছে । -ডেস্ক