টুইটারে নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা

(দিনাজপুর২৪.কম) যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবনে (ইউএস ক্যাপিটল) বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকেরা হামলার ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতৃবৃন্দরা। ২০ ডিসেম্বর নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের আগে পুরো ঘটনাটিকে ‘গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মারাত্মক আক্রমণ’ হিসেবে অবিহিত করছেন তারা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে হামলার ঘটনায় বিশ্বনেতাদের কে কি বললেন, তা তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্ব নেতারা মনে করেছিলেন, বাইডেনের শপথ গ্রহণের সময় আবদি পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তি ও সুশৃঙ্খলভাবে চলবে। কিন্তু তার আগে কিন্তু বুধবারের ঘটনাটি ‘ভয়াবহতা ছড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যম টুইটারে তারা এ ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন। আসুন দেখি কে কী বললেন-

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার টুইটারে ওয়াশিংটন কাণ্ডের বিষয়টিকে ‘অবজ্ঞাপূর্ণ দৃশ্য’ মন্তব্য করে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং এখন সেখানে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।’

বরিসের টুইটে পাল্টা টুইট করেন যুক্তরাজ্যের অন্যান্য রাজনীতিবিদরা। তারা বিষয়টিকে ‘সহিংসতা’ মন্তব্য করেছেন। দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা স্যার কেয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে ‘গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী নিকোলা স্টারজিউন টুইটারে লিখেছেন, রাজধানী থেকে আসা দৃশ্যগুলি ‘একেবারে ভয়াবহ।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, ‘আমি মার্কিন গণতন্ত্রের শক্তির উপর আস্থা রেখেছি। জো বাইডেন নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমেরিকান জনগণকে একত্রিত করে এই উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়টি কাটিয়ে উঠবেন।’

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-ইয়ভেস লে ড্রিয়ান তার টুইটারে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লিখেছেন- ‘গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মারাত্মক আক্রমণ’।

জামার্নির বিরোধী নেতা হাইকো ম্যাস লিখেছেন- ট্রাম্প এবং তার সমর্থকদের ‘শেষ পর্যন্ত আমেরিকান ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং গণতন্ত্রকে পদদলিত হওয়া বন্ধ করতে হবে’।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের রাষ্ট্রপতি চার্লস মিশেল বলেছেন, ‘বাইডেনের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে। আমি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করি।’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন বলেছেন, ‘আমি ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।’

নাটোর সেক্রেটারি-জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান করতে হবে’।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো টুইটারে লিখেছেন, ‘কানাডিয়ানরা গণতন্ত্রের উপর হওয়া এ আক্রমণে গভীরভাবে বিচলিত ও দুঃখ পেয়েছে। সহিংসতা জনগণের ইচ্ছাকে কাটিয়ে উঠতে কখনই সফল হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রকে সমর্থন করতে হবে- এবং তা হবে।’

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাকিন্ডা আর্ডারন টুইট করেছেন, ‘গণতন্ত্র-জনগণের ভোট প্রয়োগের অধিকার, তাদের কন্ঠস্বর শুনে এবং শান্তিপূর্ণভাবে এ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা উচিত। জনতাকে ব্যবহার করে কখনই তা বাতিল করা উচিত নয়।’

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ওয়াশিংটন ডিসির ঘটনাটিকে ‘বিরক্তিকর দৃশ্য’ মন্তব্য করে জানিয়েছেন, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রত্যাশায় আছেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ‘সংবিধান ও সাধারণ জ্ঞান’ প্রদর্শন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সব পক্ষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

ভেনিজুয়েলা সরকার বলেছে, এই দুঃখজনক ঘটনার সঙ্গে আমেরিকা ও তার আগ্রাসনের নীতিমালা নিয়ে অন্যান্য দেশগুলোও একই ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে।

টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ এবং চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিয়েরাও ওয়াশিংটনের ঘটনার নিন্দা করেছেন। পাইনেরা বলেন, চিলি আইনের শাসনের নিশ্চয়তায় মার্কিন গণতন্ত্রের নীতিতে বিশ্বাস করে।

পার্লামেন্ট ভবনের তাণ্ডবকে গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত হিসেবে দেখছেন মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রকে এক ‘অভূতপূর্ব লাঞ্ছনা’র মধ্যে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনাকে বিক্ষোভ নয়, সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। -ডেস্ক