(দিনাজপুর২৪.কম) ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টি ২০ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ নিয়ে তারা ক্রিকেটের এই মারকুটে ফরমেটে দুবার চ্যাম্পিয়ন হল। রোববার রাতে ক্রিকেটের নন্দকাননখ্যাত কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ক্যারিবীয়রা ফাইনালে ইংলিশদের ৪ উইকেটে হারায়।
শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ১৯ রান প্রথম চার বলেই চার ছক্কা হাকিয়ে কার্লোস ব্রাথওয়েট দলকে শিরোপা উৎসবে মাতান।
একই মাঠে দিনের মধ্যভাগে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে ক্যারিবীয় মেয়েরা।
ইংলিশদের দেয়া ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপের মুখে পড়েছে ড্যারেন স্যামির দল।
প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনার জনসন চার্লস, ক্রিস গেইল ও লেন্ডল সিমন্সের উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে ক্যারিবীরা।
চতুর্থ উইকেটে ৭৫ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ান মারলন স্যামুয়েলস ও ডোয়াইন ব্রাভো।
ব্যাট হাতে ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলার পর বল হাতেও দারুণভাবে জ্বলে উঠেছেন জো রুট। দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে আউট করেছেন দুই ওপেনার চার্লস ও গেইলকে। ১ রান করে ফিরে যান চার্লস।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শতক হাঁকানো গেইল ফাইনালে করতে পেরেছেন মাত্র ৪ রান। সেমিফাইনালের নায়ক সিমন্সও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি উইকেটে। তৃতীয় ওভারে ডেভিড উইলির শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন রানের খাতা না খুলেই।
তবে হাল ধরে রেখেছিলেন স্যামুয়েলস। মাঝে ব্রাভোর দায়িত্বশীল ইনিংস। শেষ ওভারে ব্রাথওয়েটের অলৌকিক ব্যাটিং। চার বলে চার ছক্কা। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে তখন ইডেন গার্ডেনে ক্যারিবীয়দের উদ্দাম উল্লাস।
২০১২ সালে প্রথম টি২০ বিশ্বকাপ জেতার পর গেইলরা নেচেছিলেন গ্যাংনাম স্টাইলে। এবার নাচলেন ব্রাভো প্রবর্তিত ‘চ্যাম্পিয়ন ড্যান্সে’। মুষ্টিবদ্ধ হাত একবার সামনে, একবার পিছনে; এমন নাচতো আসলে গেইলদেরই মানায়।
৬৬ বলে ৮৫ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা স্যামুয়েলস পান ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
আর টুনামেন্ট সেরা হন ভারতের বিরাট কোহলি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ইংল্যান্ডও পড়েছিল চাপের মুখে। ২৩ রান সংগ্রহ করতেই তিনটি উইকেট হারায় ইংলিশরা।
ব্যাটিংয়ে নেমে জেসন রয় এবং অ্যালেক্স হেলিসের উদ্বোধনী জুটি বেশিকিছু করে দেখাতে পারেনি। প্রথম ওভারেই স্যামুয়েল বাদ্রির বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরত যান রয়। দ্বিতীয় ওভারে হেলিসকে ফেরত পাঠান আন্দ্রে রাসেল। ৩ বল খেলে ১ রান করে ফেরেন তিনি।
পঞ্চম ওভারে আবারও বাদ্রির আঘাত। এবার ঝরে পড়লেন ইংলিশ দলপতি ইয়ন মরগান। ১২ বলে ৫ রান করে স্লিপে দাঁড়ানো গেইলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এ অবস্থায় দলের হাল ধরেন জো রুট ও জস বাটলার। দলের সংগ্রহ বাড়াতে দেখেশুনে খেলা শুরু করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। তবে সতর্কতার মাঝেই কিছু ছয়-চারের মারে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন রুট। ক্রিজে স্থির হওয়ার পর বাটলারও চড়াও হন। দুই প্রান্ত থেকেই ক্যারিবীয় বোলারদের শাসন শুরু করেন তারা।
তবে বারোতম ওভারে কালোর্স ব্র্যাথউইটের বলে সীমানায় ধরা পড়েন বাটলার। ২২ বল খেলে ৩৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এর মধ্যে অবশ্য ঝড়ো গতিতে খেলে নিজের অর্ধশতক তুলে নেন রুট। তাকে সঙ্গ দিতে নেমে ১৪ তম ওভারে ডোয়াইন ব্রাভোর আঘাতে সাজঘরে ফেরেন মারমুখি হয়ে ওঠা বেন স্টোকস। ৮ বলে ১৩ রান করে ফেরেন তিনি। স্টোকস এর বিদায়ের পর একই ওভারে শূন্য রানে ফেরেন মঈন আলী।
১৫ তম ওভারে ব্র্যাথউইটের শিকার হন একপ্রান্ত আগলে রাখা জো রুট। আসা-যাওয়ার মিছিলে শেষ পর্যন্ত তিনি শামিল হন ৫৪ রানের ইনিংস গড়ে।
রুট ফেরার ডেভিড উইলি ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর বেশ চড়াও হন। ১৪ বলে ২১ করার পর ব্র্যাউইটের বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে চার্লসের হাতে তালুবন্দী হন। দুর্দান্ত এক ক্যাচে সাজঘর ফিরেন তিনি। আর ১৯ তম ওভারে ব্রাভোর শিকার হন ৪ বলে ৪ রান করা প্ল্যাঙ্কেট।
শেষ পর্যন্ত ক্রিস জর্ডানের ১৩ বলে ১২ এবং আদিল রশিদের ৪ বলে ৪ রানের সুবাদে ইংলিশদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৫ রান।
ক্যারিবীয়দের পক্ষে ডোয়াইন ব্রাভো ও কার্লোস ব্র্যাথউইট ৩টি করে উইকেট নেন। আর স্যামুয়েল বাদ্রি নেন ২টি উইকেট। -ডেস্ক