বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা (দিনাজপুর২৪.কম) তালার মুড়াকলিয়া গ্রামে এক হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধার ভিটামাটি জোর পূর্বক দখল নিচ্ছে জামায়াত নেতা। আর এই অপকর্মে সার্বিক সহযোগীতা করছে তালা উপজেলা ওলামালীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল গোফুর সরদার। শনিবার বিকালে তালা রিপোটার্স ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ আলী এই অভিযোগ করেছেন। বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ আলী ভিক্ষাবৃত্তি করে তাঁর জীবীকা নির্বাহ করেন। তিনি উপজেলার মুড়াকলিয়া গ্রামের মৃত. মো. আব্দুল জব্বার মোড়লের পুত্র।
সাংবাদিক সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মোড়ল বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। দেশ স্বাধীন হবার ৪৪ বছর পর অনেকের ভাগ্য পরিবর্তণ হলেও তাঁর ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। অভাবের সংসার চালাতে বৃদ্ধ বয়সে তাকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হয়। তিনি বলেন, তাঁর মাত্র ২ বিঘার একটু বেশি জমি রয়েছে। যেখানে তিনি সহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন। উক্ত জমি জোর দখল নেবার জন্য একই গ্রামের সামছুর রহমান মোড়লের পুত্র স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. মোসলেম মোড়ল গং দীর্ঘ বছর ধরে পায়তারা চালাচ্ছে। তাকে সার্বিক সহযোগীতা করছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তালা উপজেলা ওলামালীগের সভাপতি মো. আব্দুল গফুর সরদার। এঘটনায় সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে বিজ্ঞ আদালতে মামলা (দেওয়ানী- ১০৮/৮৯) হলে আদালত মোহাম্মাদ আলীর পক্ষে রায় প্রদান করেন। রায়ের বিরুদ্ধে মোসলেম গং জজকোর্টে আপিল করলে আদালত গত ইং ১৫/০১/২০০৬ তারিখে আপিল খারিজে করে ফের তার পক্ষে রায় বহাল রাখেন। দু’দফা আইনের কাছে পরাজিত হয়ে মোসলেম মোড়ল গং উচ্চ আদালতে ফের সিভিল রিভিশন মামলা দাখিল করে। বর্তমানে মামলাটি মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলমান আছে। পৈত্রিকসুত্রে প্রাপ্ত উক্ত জমি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখলে আছে। কিন্তু এরই মধ্যে এলাকার ইউপি সদস্য ও আ.লীগ নেতা আব্দুল গফুর জামায়াত নেতা মোসলেম’র কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে বিরোধপূর্ন জমি মোসলেমকে দখল করে দেবার জন ঘর নির্মানের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জমি দখলের পায়তারার ঘটনায় গত ২৫/০৮/২০১৫ইং রোজ মঙ্গলবার মোহাম্মদ আলী নিজে বাদী হয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল গফুর, জামায়াত নেতা মোসলেম মোড়ল, তার ভাই ইসলাম মোড়ল, চাচাতো ভাই শহিদুল মোড়ল ও ইমরান মোড়লের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর পি-১১২৮/১৫, ধারা ১৪৫ দন্ড বিধি। বিজ্ঞ আদালত তফশীল জমিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য তালা থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। তালা থানার ওসি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেন। অথচ তারা তালা থানা পুলিশের নির্দেশনা মানছেনা। যে কারণে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সন্ত্রাসী চক্রের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পথে পথে ঘুরছে। এদিকে প্রভাবশালী জামায়াত নেতা মোসলেম মোড়ল গং মোহাম্মদ আলীর পরিবারের উপর কয়েক দফা নির্যাতন চালালেও আজ পর্যন্ত এর কোন প্রতিকার হয়নি। এখনও ওদের অত্যাচারে অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগি মোহাম্মদ আলী  জামায়াত নেতা মোসলেম মোড়ল গং এবং ইউপি সদস্য আব্দুল গফুরের ক্ষমতার দাপট খুঁজে বের করার পাশাপাশি তার দখলকৃত জমি রক্ষা এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য তালা থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।