রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদ। -পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) রিজেন্ট হাসপাতালের জালিয়াতি কর্মকাণ্ডের জন্য বিতর্কিত হওয়ার পর মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের রাজনৈতিকসংশ্লিষ্টতা নিয়ে সরগরম রয়েছে বিভিন্ন অঙ্গন। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির গত কমিটিতে সদস্য ছিলেন- এমন খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তোলপাড়।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশাজীবী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষনেতাদের সঙ্গে থাকা সাহেদ করিমের ছবি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

দলের আন্তর্জাতিক উপকমিটির বিভিন্ন সভা-সেমিনারে দেখা গেলেও তিনি যে সদস্য ছিলেন এ খবরটির সত্যতা স্বীকার করছেন না কেউ। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য সচিব শাম্মী আহমেদ বলেন, ‘উপকমিটির জন্য দলের সভাপতির সম্মতি বা স্বাক্ষরের প্রয়োজন পড়ে। গত কমিটিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাক্ষর করেননি। ফলে এটাকে অ্যাপ্রোভাল কমিটি বলার সুযোগ নেই। এছাড়া সদস্য হিসেবে আমরা তার নামে কোনো চিঠিও ইস্যু করেনি। আর বর্তমান কমিটি তো এখনো হয় নাই।’

শাম্মী আহমেদ আরও বলেন, ‘কখনো তাকে সভা-সেমিনারে আমন্ত্রণ করা হয়নি। হয়তো কখনো কারও সঙ্গে এসেছেন সেমিনারে। কারও সঙ্গে এলে তো তাকে বের করে দিতে পারি না। আর ছবি তো কতজনই উঠায়, সব কী আর খেয়াল রাখা যায়?’ আন্তর্জাতিক উপকমিটির চেয়ারম্যান অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ জমির বলেন, ‘বেশকিছু সভা-সেমিনারে সাহেদ করিমকে দেখা গেছে।’

এদিকে সাহেদ ফেসবুক পেজে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। গণমাধ্যমেও আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক উপকমিটির বিভিন্ন সেমিনারে যোগাযোগ শেষে উপকমিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বক্তব্যও দিয়েছেন। তবে কখনো উপকমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আমার জানামতে তিনি কখনো আওয়ামী লীগের উপকমিটিতে ছিলেন না। এ রকম পরিচয় দিয়ে যারা সুবিধা নেয় তারা প্রতারক।’ সাহেদ কারও আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘প্রতারক, ধোঁকাবাজ, মানুষ নামের কলঙ্ক, যাদের কোনো রাজনৈতিক ঐতিহ্য-ইতিহাস নেই, মানুষের জীবন নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলে, হুমকির মুখে ফেলে দেয়- তাদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে এ ধরনের সাহেদদের কঠোরভাবে দমন করতে হব।’

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘সাহেদ এক সময় বিএনপি করত, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান, নাজমুল হুদার সঙ্গে তার খাওয়ার ছবি রয়েছে। প্রতারণার ট্রেনিং সে ওইখান থেকেই নিয়েছে। এ ধরনের লোকদের আওয়ামী লীগে জায়গা হতে পারে না, হবে না।’

সূত্র : আ. সময়