সংগৃহীত ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) ১৩৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশের প্রাচীন জলাভূমি আড়িয়াল বিল। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা সদর থেকে মাত্র সাড়ে ৪ কিলোমিটার দূরে গাদিঘাট গ্রাম। এই গ্রাম থেকেই মূলত শুরু আড়িয়াল বিলের। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি এ বিলের বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে উৎপাদন হচ্ছে বিশাল আকৃতির মিষ্টি সব কুমড়া।

আড়িয়াল বিলের একেকটি মিষ্টি কুমড়ার ওজন দুই মণেরও বেশি। এটি দেশজুড়েই জনপ্রিয়। বিলের চারপাশে মিষ্টি কুমড়ার পসরা নিয়ে বসেছেন চাষিরা। সেখান থেকে মিষ্টি কুমড়া যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে।

শ্রীনগর উপজেলার শুধু গাদিঘাট অংশের আড়িয়াল বিলে ২৭০ হেক্টর জমিতে এবার মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করা হয়েছে। আশি^ন মাসে এই মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদ শুরু। ফাল্গুন মাসেই বিক্রি শুরু হয়ে যায়। বিলের প্রতি হেক্টর জমিতে ৪২ টন মিষ্টি কুমড়া আবাদ হয়ে থাকে। গেল বছর বিলে ১১ হাজার ২৪০ টন মিষ্টি কুমড়া আবাদ হয়েছিল।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিলের চারদিকে সবুজে ঘেরা আঁকাবাঁকা কাঁচা সড়কের দুপাশে এখন স্তূপ আকারে সজ্জিত করে রাখা হয়েছে এসব কুমড়া। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে এই মিষ্টি কুমড়া কিনে গাড়িতে করে নিয়ে যান রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, সাভার, সদরঘাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাট-বাজারে।

চাষিরা আরও জানান, বর্ষায় পুরো আড়িয়ল বিল পানির নিচে ডুবে থাকে। বর্ষার পানির সঙ্গে বিলে প্রচুর পলি পড়ে। এতে বিলের জমি বেশ উর্বর হয়ে ওঠে। সেই উর্বর জমির মধ্যে ১৪ হাজার হেক্টরে ধান চাষ করা হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া ও অন্যান্য সবজি আবাদ করা হয়। শত বছরের আড়িয়ল বিলের সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। বিলের বাতাস, মাটি, পানি তাদের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন।

কুমড়া চাষি ফজল বেপারি জানান, এ বছর প্রতি কেজি কুমড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। তিনি তার ভিটা থেকে সর্বোচ্চ ৭২ কেজি ওজনের একটি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছেন। একেকটি কুমড়া পিস করে ২০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

শ্রীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সান্ত¡না রানী জানান, এ বছর আড়িয়ল বিলের শ্রীনগর অংশের প্রায় ১৯০ হেক্টরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৪২ থেকে ৪৫ টন করে কুমড়া পাওয়া যায়। কৃষকরা বর্ষা মৌসুম শেষে ভাসমান অবস্থায় কচুরিপানার মধ্যে কুমড়ার বীজ বপন করেন, যা বাংলাদেশে বিরল। চাষাবাদ শুরু হয় আশ্বিন মাসে, আর ফাল্গুন মাসে বিক্রি শুরু হয় আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়া। তিনি আরও জানান, আড়িয়ল বিলের এক একটি কুমড়া ১৫০ কেজি থেকে ২০০ কেজি পর্যন্ত হয়। এটা কোনো হাইব্রিড বীজ নয়। এখানকার কৃষকরা বছরের পর বছর ধরে এ মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে আসছে। চাষিদের অনেকেই এই মিষ্টি কুমড়ার বীজ সংরক্ষণ করে রাখেন। -ডেস্ক