(দিনাজপুর২৪.কম) স্বাগতম মাহে রমজান। সিয়াম সাধনার মাস রমজানুল মোবারক দুয়ারে হাজির। রহমত, মাগফেরাত ও মুক্তির মহা সওগাত নিয়ে প্রতি বছর এ মাস আমাদের সামনে হাজির হয়। রমজান মাস উম্মতে মুহাম্মদীর একক বৈশিষ্ট্য। অতীতেও রোজা ছিল কিন্তু এত বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও তাৎপর্যময় ছিল না। রমজান এ উম্মতের ওপর আল্লাহ তায়ালার অফুরন্ত কৃপার নিদর্শন। মানবজাতির ঐকান্তিক সফলতা অর্জনের অপার সম্ভাবনা নিহিত আছে এ মাসে। রমজানে মহান প্রভুর রহমতের অবারিত বারিধারা বর্ষিত হয়। তার নিয়ামতের ভাণ্ডার খুলে দেয়া হয়। অগণিত বান্দাকে মাফ করে দেয়া হয়। মুক্তির সুসংবাদ পৌঁছে দেয়া হয় মুমিনের দুয়ারে দুয়ারে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে প্রতিটি বিশ্বাসী বান্দার জন্য আল্লাহর ঘোষিত পুরস্কার প্রাপ্তির সুযোগ রয়েছে। এ মাস মানুষের জীবনের গতিবিধি পরিবর্তন করে দিতে পারে। তাকে পৌঁছে দিতে পারে তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।
দীর্ঘ এগার মাসে অন্তরে যে মরীচিকার সৃষ্টি হয় তা দূর করতেই রমজানের সিয়াম। এর লক্ষ্য হলো পঙ্কিলতার ঘূর্ণাবর্তে আবৃত আত্মার কলুষিত ধোঁয়াকে রহমতের বারিধারায় পবিত্র করা। হৃদয়ের কামভাব দূর করে আত্মাকে নির্মল ও নিষ্কলুষ করা। মুমিন জীবনের গতিধারায় সফলতা আনা। কৃত্রিমাত্মক ভেদাভেদ দূর করে মহানুভবতা ও সহমর্মিতাবোধ জাগ্রত করা। সিয়াম মানুষকে ফেরেশতাদের অনুকরণের মাধ্যমে যতদূর সম্ভব নিজকে প্রবৃত্তির গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার শিক্ষা দেয়। সিয়ামের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষের পাশবিক ইচ্ছা ও জৈবিক চাহিদার মধ্যে সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা আনা। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জন করতে পারে। চিরন্তন জীবনের অনন্ত সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহন করতে পারে। কারণ ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে জৈবিক ও পাশবিক ইচ্ছায় ভাটা পড়ে। পশুত্ব নিস্তেজ হয়ে যায় এবং মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয়। দারিদ্রপীড়িত অগণিত মানুষের অনাহারক্লিষ্ট মুখ তার অন্তরে সহানুভূতির উদ্রেক করে। তখন অন্তর বিগলিত হয় মহান রাব্বুল আলামিনের কৃতজ্ঞতায়। উদ্দেশ্যের এই সাধুতার কারণেই সিয়াম আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। রোজাদারের প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে এ ঘোষণা নেই। রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধও আল্লাহর কাছে মিশকে আম্বরের মতো সুগন্ধিযুক্ত। প্রেমিক ও প্রেমাস্পদের মধ্যে ভালোবাসার সুদৃঢ় বন্ধন স্থাপিত হয় এই রোজা দ্বারা। রোজা হচ্ছে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অপূর্ব সোপান।
রমজান মানুষকে নতুন জীবন দান করে। রমজানের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে একজন মুমিন তার জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতে পারে। অল্পদিনের বিচরণস্থল এই দুনিয়ায় অনন্ত জগতের পাথেয় সংগ্রহ করার জন্য রমজানের চেয়ে বেশি সম্ভাবনা আর কিছুতেই নেই। এজন্যই রাসুল (সা.) আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেল কিন্তু তার জীবনের বিচ্যুতিকে ক্ষমা করাতে পারল না সে বড়ই দুর্ভাগা! রমজানের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে আমাদের রোজাটি হতে হবে নিষ্কন্টক ও সুনির্মল। রোজার প্রকৃত দাবি ও চাহিদা পূরণ করতে হবে যথার্থভাবে।
পবিত্র এ মাসজুড়ে সারা দিন রোজা রাখার মধ্য দিয়ে শুধু পানাহারের ক্ষেত্রে সংযম প্রদর্শিতই হবে না- দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষ খাদ্যাভাবে যে কষ্ট পায়, তার শিক্ষার এক মহান সোপান। ইসলামের এ শিক্ষার মাধ্যমে এটাই স্পষ্ট হয়- গরিব, দুঃখী, অনাহারী মানুষের প্রতি একজন মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য বর্তমান। অন্যদিকে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক যে বৈষম্য রয়েছে, তা নিরসনে ইসলাম অনুসারীরও দায়িত্ব ও ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ এক মহান সাম্যবাদী চেতনা।
রমজানের আগে থেকে এবং মাসের শুরুতেই কিছু অসৎ ব্যবসায়ী রোজায় প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ নিত্যপণ্যের মূল্য কোনো কারণ ছাড়াই বাড়িয়ে দেয়। এ প্রবণতা যেমন ইসলামসম্মত নয়, তেমনি দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়মনীতির লঙ্ঘন। এতে সংযমের পরিবর্তে অসংযম সাধিত হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে। -(ডেস্ক)