google-site-verification: google5ae70a53735248dc.html আশ্রয় ও খাদ্যের জন্য হাহাকার - Dinajpur24 | The Largest Bangla News Paper of Bangladesh আশ্রয় ও খাদ্যের জন্য হাহাকার - Dinajpur24 | The Largest Bangla News Paper of Bangladesh
  1. dinajpur24@gmail.com : admin :
  2. erwinhigh@hidebox.org : adriannenaumann :
  3. dinajpur24@gmail.com : akashpcs :
  4. AnnelieseTheissen@final.intained.com : anneliesea57 :
  5. maximohaller896@gay.theworkpc.com : betseyhugh03 :
  6. self@unliwalk.biz : brandymcguinness :
  7. ChristineTrent91@basic.intained.com : christinetrent4 :
  8. CorinneFenston29@join.dobunny.com : corinnefenston5 :
  9. rosettaogren3451@dvd.dns-cloud.net : darrinsmalley71 :
  10. Dinah_Pirkle28@lovemail.top : dinahpirkle35 :
  11. emmie@a.get-bitcoins.online : earnestinemachad :
  12. EugeniaYancey97@join.dobunny.com : eugeniayancey33 :
  13. vandagullettezqsl@yahoo.com : gastonsugerman9 :
  14. cruz.sill.u.s.t.ra.t.eo91.811.4@gmail.com : howardb00686322 :
  15. Kristal-Rhoden26@shoturl.top : kristalrhoden50 :
  16. azegovvasudev@mail.ru : latricebohr8 :
  17. jarrodworsnop@photo-impact.eu : lettie0112 :
  18. cruz.sill.u.strate.o.9.18.114@gmail.com : lonnaaubry38 :
  19. corinehockensmith409@gay.theworkpc.com : meaganfeldman5 :
  20. kenmacdonald@hidebox.org : moset2566069 :
  21. news@dinajpur24.com : nalam :
  22. marianne@e.linklist.club : noblestepp6504 :
  23. NonaShenton@miss.kellergy.com : nonashenton3144 :
  24. armandowray@freundin.ru : normamedlock :
  25. rubyfdb1f@mail.ru : paulinajarman2 :
  26. vaughnfrodsham2412@456.dns-cloud.net : reneseward95 :
  27. Roosevelt_Fontenot@speaker.buypbn.com : rooseveltfonteno :
  28. kileycarroll1665@m.bengira.com : sabinechampion :
  29. Sonya.Hite@g.dietingadvise.club : sonya48q5311114 :
  30. gorizontowrostislaw@mail.ru : spencer0759 :
  31. jcsuave@yahoo.com : vaniabarkley :
  32. online@the-nail-gallery-mallorca.com : zoebartels80876 :
বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
নতুন রুপে আসছে দিনাজপুর২৪.কম! ২০১০ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের পুরনো নিউজ পোর্টালটির জন্য দেশব্যাপী সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা প্রয়োজন। সারাদেশে সংবাদকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা এখনই প্রয়োজনীয় জীবন বৃত্তান্ত সহ সিভি dinajpur24@gmail.com এ ইমেইলে পাঠান।

আশ্রয় ও খাদ্যের জন্য হাহাকার

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
  • ০ বার পঠিত

(দিনাজপুর২৪.কম) বন্যার মতো ধেয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা খাবার আর পানির জন্য হাহাকার করছে। সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সংবাদকর্মীদের গাড়ি থামিয়ে জানালায় খাবার আর পানির আকুতি জানাচ্ছে রোহিঙ্গা নারীরা। কখনও কখনও সংবাদকর্মীদের কাপড় টেনে ধরে থামাতে চাইছে তাদের। নারীরা তাদের বাচ্চাদের দেখিয়ে খাবার ভিক্ষা চাইছে। এদিকে ত্রাণকেদ্রে বাড়ছে ভীড়। ২৫ কিলোগ্রাম চাল আর কয়েক প্যাকেট বিস্কুট পেতে মরিয়া এই অসহায় মানুষগুলো। এপির খবর।

সম্প্রতি ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সরকার। এরপর থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশছে মৌসুমি বাতাসে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে কূন্যে ছুড়ছেন সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হচ্ছে তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে মানুষকে। আহত শরণার্থী হয়ে তারা ছুটছে বাংলাদেশ সীমান্তে। গত দুই সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মুখে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এত অল্প সময়ে এই বিরাটসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশ করায় বাংলাদেশে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এবিসি নিউজের খবরে উঠে এসেছে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শরণার্থী শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের বিপন্নতার চিত্র। একটি অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরের নেতা নূর মোহাম্মদকে উদ্ধৃত করে এবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন শরণার্থী যারা এসেছে তাদের অনেকেই দুদিন ধরে কিছু খায়নি। অনেকেই তিন দিন ধরে অভুক্ত আছে। তাদের রান্না করার মতো কিছু নেই, কিছু একটি বিছিয়ে যে ঘুমাবে সেরকম কিছুও নেই। অনেক শিশুর কোনও পোশাক নেই গায়ে, তারা উলঙ্গ অবস্থায় আসছে। নূর মোহাম্মদ জানান, শরণার্থীদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র অভাব রয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে প্রাণের ভয়ে সবকিছু ছেড়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছিল, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়া এলাকাগুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক নতুন টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, কুটুপালং শরণার্থী শিবিরের চারদিকে দুর্ভোগ ও দুর্দশা চোখে পড়ে। পুরো পরিবার, অসুস্থ মানুষ, আহত মানুষ, বৃদ্ধ থেকে নবজাতকরা একটু আশ্রয়, খাবার ও পানির জন্য হাহাকার করছে।

প্রতিদিন নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা জঙ্গলের গভীরে আশ্রয় নিচ্ছেন। পাহাড়ি এলাকায় টিলা কেটে বাঁশে তারপুলিন টানিয়ে কোনওরকম মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করছে এসব শরণার্থীরা। কোনও গাড়ি দেখলেই তারা খাবারের আশায় জড়ো হচ্ছে। কেউ কেউ পাচ্ছে কিন্তু যারা পাচ্ছে না তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকছে আরও গাড়ি আসার অপেক্ষায়। একটি অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে আলি জোহার ও তার স্ত্রী খুদিজা। বিধ্বস্ত ও নির্বাক খুদিজার কোলে দুদিনের এক নবজাতক। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথে জঙ্গলে এ শিশুর জন্ম হয়েছে। মেয়েটির এখনও নাম রাখা হয়নি। কিন্তু তার জীবন শুরু হয়েছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে, যেখানে নেই বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন বা বেঁচে থাকার মতো সব সরঞ্জাম। নবজাতক মেয়ের বাবা আলি জোহার জানায়, ‘আমি দুই দিন আগে বাংলাদেশে এসেছি। কারণ কয়েকজন বৌদ্ধ এসে আমাদের ছুরিকাঘাত করতে থাকে এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। আমার বাড়ি পুড়ে গেছে। সঙ্গে কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি।’

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার শিন্নি কুবো বলেন, ‘আমার ভয় হচ্ছে, আরও মানুষ আসবে। তাদের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের বিশাল অংকের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এমন ঘটনা নজিরবিহীন। এ পরিস্থিতি আকস্মিক। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এ পরিস্থিতি চলবে।’ শরণার্থী শিবিরগুলোতে শিশুদের বিপন্নতা তুলে এনেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাও। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র ভিভিয়ান ট্যান আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনেকেই তাদের বাবা-মাকে পালিয়ে আসার পথে হারিয়েছে। কেউ আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে থাকছে। অনেকেই আবার পুরোপুরি একা। এসব শিশুর জন্য নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে ভিভিয়ান জানান, এসব শিশু রক্ষার জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও এনজিওর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার নামের এনজিও শিশুদের গরম খাবার ও সহায়ক খাদ্য ও পুষ্টির সরবরাহ করছে। কিন্তু অপুষ্টির শিকার হয়ে অনেকেই অসুস্থ আছে। ভিভিয়ান আরও বলেন, দুঃখের বিষয় হলো শুধু তারা ভ্রমণের কারণেই এ অবস্থায় পড়েনি। পালিয়ে আসার আগেও কয়েকদিন ধরে না খেয়েছিল তারা।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৫৭ কোটি ১২ লাখ টাকা সহায়তা ঘোষণা করা হয়। তবে এই সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র ভিভিয়ান ট্যান একথা স্বীকার করেছেন। আলজাজিরার পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল ২ লাখ ৭০ হাজার শরণার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় সামর্থ্য জাতিসংঘের রয়েছে কি-না। জবাবে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের যথেষ্ট সামর্থ্য নেই। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে যে চিত্র দেখেছি তাতে আমাদের কী প্রয়োজন তা জানা গেছে। তহবিলের জন্য আবেদন জানাতে হবে।’

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, এ পরিস্থিতিতে আমরা দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রথমত জরুরি প্রয়োজন যা জীবন বাঁচাতে দরকার। যেমন- খাবার, পানি ও থাকার ব্যবস্থা করা এবং চিকিৎসা সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তা দেওয়া। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও ভূমি কেনার বিষয়ে আলোচনা করছি। কারণ যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে তাহলে চরম অবস্থা তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত মানুষের ফলে স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এমনকি স্থানীয়দের সঙ্গেও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। ফলে সতর্কতা ও ভালোভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা দরকার।

মিয়ানমারে বড় মানবিক বিপর্যয়, কত লোক নিখোঁজ তা জানা নেই : মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেছে অক্সফাম। এক বিবৃতিতে অক্সফামের এশীয় আঞ্চলিক পরিচালক লান মারকাদো বলেছেন, মিয়ানমারে সহিংসতায় সেদেশ থেকে পালিয়ে আসা লোকদের বাংলাদেশ সরকারের পুনর্বাসনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। মারকাদো বলেন, এক লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মিয়ানমারের বেসামরিক নাগরিক সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় তাদের দুর্দশায় অক্সফাম গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় অসংখ্য মানুষ গ্রেপ্তার হওয়ার ফলে মিয়ানমারে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার লোক বিপজ্জনক ভ্রমণ করে সীমান্ত অতিক্রম করছে এবং এ কারণে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে প্রবেশাধিকার কঠোর করা হয়েছে। ফলে কত লোক নিখোঁজ অথবা আটকা পড়েছে তা জানা নেই। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার থেকে আগত এসব নিরীহ জনগণ মারাত্মক সংকট মোকাবিলা করছে এবং এদের মধ্যে অনেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হয় রোহিঙ্গাদের : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সবার জীবনের গল্প যেন এক। কষ্ট, দুর্ভোগ, ক্ষুধা, আতঙ্ক আর স্বজন হারানোর বেদনা। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, হেলিকপ্টার থেকে তাদের ওপর গুলি বা বিশেষ কিছু ছোড়া হতো। এতে অনেকে গুলিবিদ্ধ হন; প্রাণও হারান অনেকেই। রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ভিভিয়ান তান সম্প্রতি কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান। গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা ঢুকেছে বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। রাখাইন থেকে বেঁচে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, নারী, শিশু, বৃদ্ধ– কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এই রক্তপাত বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, আঞ্চলিক শক্তি ও সরকারের প্রতি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তারা।

গলা কেটে রোহিঙ্গাদের মারছে সেনারা : মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আর ‘মারমা’ বা ‘মগ’ জনগোষ্ঠী মিলে রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। প্রথমে গ্রামগুলো ঘিরে ফেলা হচ্ছে। এরপর সেনারা নির্বিচারে গুলি করছে। গুলির পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে জবাই করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। গত ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে এভাবে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভাগা রোহিঙ্গাদের লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে বলেও অভিযোগ করেন প্রাণ নিয়ে ফিরে আসা রোহিঙ্গা আরিফুর রহমান। আরিফুর রহমান আরাকান রাজ্যের তুমব্রু রাইট গ্রামে বসবাস করতেন। ব্যবসা করে বাড়ি-গাড়ি সবই করেছিলেন। মিয়ানমার সেনারা গত ৬ জুলাই তুমব্রু গ্রাম জ্বালিয়ে দিলে আরিফের বাড়িও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তার প্রাইভেট কারটিও জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

চোখের সামনে ছেলেকে গুলি করল ওরা : ১৬ বছরের মোহাম্মদ জুনায়েদকে হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে বেঁধে রাখতে হয়েছে। গুলির আঘাত তার শরীরে। ব্যথানাশক মরফিনের কার্যকারিতা কমে এলে যন্ত্রণায় জুনায়েদ বিছানা থেকে লাফিয়ে ওঠে। সেটি বন্ধ করতেই এমন ব্যবস্থা। জুনায়েদ রোহিঙ্গা কিশোর। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। একদিন আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে জুনায়েদের মাথায় গুলি লাগে। জুনায়েদের বাবা মোহাম্মদ নবী এএফপিকে বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনারা আমার চোখের সামনে জুনায়েদকে গুলি করে। এরপর থেকেই তীব্র ব্যথায় কাতর সে।’

জাতিসংঘের সম্পদে ঘাটতি রয়েছে : রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের সম্পদে ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ভিভিয়ান ট্যান জানান, রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহারে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। দ্রুত চাহিদা মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে তহবিলের জন্য আবেদন করবো।

কোন দেশে কত রোহিঙ্গা : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতিত। ১৯৪৮ সালে স্বাধীন বার্মা রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর থেকে অসংখ্যবার রোহিঙ্গা মুসলমানদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের ওপর চলেছে নির্মম নির্যাতন। এই নির্যাতিত মানুষেরা নিজ দেশের নাগরিকত্ব হারিয়ে আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। এখনও ১০ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকত্বহীন অবস্থায় মিয়ানমারে অবস্থান করছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বেসামরিক সশস্ত্রগোষ্ঠী ও বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের ধারাবাহিক নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময়ে বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। মূলত ১৯৭০ দশক থেকে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছাড়তে শুরু করে। গত সাড়ে চার দশকে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়েছে। এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। পৃথিবীর কোন দেশে কত রোহিঙ্গা আছে তার একটি ‘আপাত’ হিসাব দিয়েছে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরা। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার বরাতে পাওয়া এ তথ্য গতকাল এক প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা মুসলমানের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ছয় লাখ ২৫ হাজার। যদিও এর চেয়ে বেশিসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে বলে ধারণা করেন স্থানীয়রা। রাখাইনের বাইরে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা আছে বাংলাদেশেই। এদের বেশিরভাগই কক্সবাজারের উপকূলবর্তী বিভিন্ন নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ক্যাম্পে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাব অনুযায়ী, সহিংসতার শিকার হয়ে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) গত শুক্রবার সর্বশেষ জানিয়েছে, নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা বেড়ে তিন লাখের উপরে যাবে। অর্থাৎ গত ১১ মাসে সাড়ে তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এরই মধ্যে বাংলাদেশে এসেছে। এই সময়ে মিয়ানমারে সহিংসতায় মারা গেছেন প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সূত্র মতে, কক্সবাজার উপজেলার বিভিন্ন উপকূলে যেসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে, সেখানে দশকের পর দশক ধরে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এদের মধ্যে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত উভয় শরণার্থীই রয়েছেন। অনেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। মিয়ানমারের উপকূলবর্তী রাজ্য রাখাইন। সেখান থেকে নৌকায় করে বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর পাড়ি দিয়ে রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়ার উপকূলে পৌঁছায়। এভাবে ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে প্রায় এক লাখ ১২ হাজার রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। তারা সেখানে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শেল্টার সেন্টারে আছে। গত শুক্রবার মালয়েশিয়ার মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির মহাপরিচালক জুলকিফলি আবু বাকার বলেছেন, তাদের উপকূলে যাওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের তারা ফেরাবে না, আশ্রয় দেবে।

গত আগস্টে নতুন করে সহিংসতা শুরুর আগে জাতিসংঘ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রায় চার লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। আরও এক লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার কথাও বলা হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে রয়েছে দুই লাখ, পাকিস্তানে রয়েছে সাড়ে তিন লাখ, মালয়েশিয়ায় দেড় লাখ, ভারতে ৪০ হাজার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ হাজার, থাইল্যান্ডে পাঁচ হাজার এবং ইন্দোনেশিয়ায় এক হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত করা হবে : সেনাবাহিনীর হামলা-নির্যাতন-ধর্ষণের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করবে বাংলাদেশ। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যারা এসেছে সবাইকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত করা হবে। রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর গত ২৫ অক্টোবর থেকে প্রায় এক লাখ ৬৪ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ আর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে সহায়-সম্বল হারানো এসব ‘দেশহীন’ শরণার্থীর ভাষ্যে।

মিয়ানমারে সামরিক প্রশিক্ষণ বন্ধের তাগিদ যুক্তরাজ্যের এমপিদের : রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ করতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনকে তাগিদ দিয়েছেন দেশটির ১৫৭ আইনপ্রণেতা (এমপি) ও তাদের সহযোগীরা। বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপি ও মিয়ানমারে গণতন্ত্রায়নে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির সহসভাপতি রুশনারা আলীর নেতৃত্বে এমপিরা এক চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই তাগিদ দেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে মিয়ানমারের কার্যত নেতা অং সান সু চিকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর আচরণ মিয়ানমারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মেডিকেল টিম গঠন করে কক্সবাজার, উখিয়া ও বান্দরবান সীমান্তপথে পালিয়ে আসা অসুস্থ শরণার্থীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গতকাল এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা দিতে ইতোমধ্যে ২৪টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এর মধ্যে কক্সবাজার ও উখিয়াতে ২১টি এবং বান্দরবানে তিনটি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তারা সেখানে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধির চিকিৎসা প্রদান করছে।

‘রাখাইনে ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে চাপ দেওয়া হয়নি’ : রাখাইন রাজ্যে হত্যা-ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে বাংলাদেশ থেকে কোনো চাপ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তুরস্কের ফার্স্ট লেডি শরণার্থীশিবিরে সফর করে গেছে। কিন্তু দেশের সরকারপ্রধান এখনও পরিস্থিতি দেখতে যাননি।

‘রোহিঙ্গাদের পাশে নেই বিএনপির নেতারা’ : আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে কক্সবাজারে ছুটে গেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। অথচ বিএনপির নেতারা সেখানে না গিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ-ভাসানী) জাতীয় সম্মেলনে হাছান মাহমুদ এই মন্তব্য করেন।

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার কূটকৌশল করছে’ : মিয়ানমার সরকারের মতো রোহিঙ্গা সমস্যা ধামাচাপা দিতে এই সরকারও কূটকৌশল গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা হত্যাযজ্ঞের শিকার। অথচ মিয়ানমার সরকার বলছে তারা নাকি সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বাংলাদেশের সরকার জনগণের মনের কথা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। গতকাল সকাল ১১টার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। -ডেস্ক

নিউজট শেয়ার করুন..

এই ক্যাটাগরির আরো খবর