হাফিজুর রহমান হাবিব (দিনাজপুর২৪.কম) আশ্বিনে ঝরছে শ্রাবণের মুষলধারা বৃষ্টি। গত তিন দিন ধরে একই তালে ঝরছে লাগাতার বৃষ্টি। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসেও ঝরেনি এরকম টানা বৃষ্টি। এ লাগাতার বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও ঘর-বাড়িতে উঠেছে যেমন হাটু জল, কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। স্থবির হয়ে পড়েছে সড়কে যান চলাচল। পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে। রাত থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত টানা মুষলধারা বৃষ্টিতে তৈরি হয়েছে জনদূর্ভোগ।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার ২৪ ঘন্টায় বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১১৫ মিলিমিটার। এর আগের দিন শুক্রবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১১৫ দশমিক ৫ মিলিমটার। আশ্বিনে শ্রাবনের মতো লাগাতার ভারি বর্ষণ অনেকটাই অস্বাভাবিক মনে করছেন সবাই।
কয়েকদিনের লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলে পানি জমে যাওয়ায় তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অনেক জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের আবাদি জমি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় দূর্ভোগে পড়তে দেখা গেছে নিম্নাঞ্চলের বসবাসকারী মানুষদের। বৃষ্টির পানির সাথে বেড়েছে নদী মহানন্দাসহ অন্যান্য নদীর পানিও।
এদিকে লাগাতার বৃষ্টির কারণে নেমে এসেছে নি¤œ আয়ের মানুষদের অভাব-অনটন। যারা দিন খেটে দিনের বাজারে চলে সংসার, তারা বৃষ্টির কারণে বেকার হয়ে ঘরবন্ধী জীবনে পোহাচ্ছেন ক্ষুধার যন্ত্রণা। বিপাকে পড়েছে ভ্যান চালকরাও। তাদের পেট চলে তিন চাকার ভ্যান চালানোর রোজগারে। তারাও বৃষ্টির কারণে বের করতে পারছেন না ভ্যান।
কথা হয় ভ্যান চালক আজহার আলী, হামেদালি ও জমিরের সাথে। তারা জানান, ভাই খুব বৃষ্টি। আশ্বিন মাসে শাওন (শ্রাবণ) মাসের বৃষ্টি। ভ্যান চালাতে পারছি না, কামাইও হচ্ছে না। পেটের ক্ষুধাতো বৃষ্টি বুঝে না। খুব কষ্টে আছি। এই মুষলধারা বৃষ্টির মধ্যে চা বাগানে কাজ করতে দেখা যায় একদল শ্রমিকদের। তাদের সাথে কথা হলে বলেন, উপায় নেই ভাই, পেটের ক্ষুধা মিটাতে তো কাজ করতে হবে। তাই বৃষ্টির মধ্যেই মালিকের বাগানে পাতা তুলছি।
শনিবার দুপুরে বেশ কিছু স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন স্থানে ও ঘর-বাড়িতে পানি উঠেছে। উপজেলার ডাকবাংলোর নিকটস্থ সড়কের ধারে জহিরুল ইসলাম নামের এক ভ্যান চালকের বাড়িতে উঠেছে কোমর বরাবর পানি। পানি পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন এ ভ্যান চালকের পরিবারটি। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ভাই দেখতেই পারতেছেন, আমার ঘরে পর্যন্ত পানি উঠেছে। এখন অন্য জায়গায় থাকতে হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টির পানি ও নদী মহানন্দায় পানি বাড়ার কারণে পাথর তুলতে না পারায় বেকার জীবন কাটাচ্ছেন প্রায় ১০ হাজার পাথর শ্রমিক। এই দশ হাজার শ্রমিকের পরিবারের রয়েছে ত্রিশ হাজারের বেশি সদস্য। নদীতে পাথর তুলতে না পারায় অর্থ ও অন্ন কষ্টে দিন কাটছে তাদের। লাগাতার বৃষ্টি, আর নদীর পানি বৃদ্ধিতে চলছে তাদের না দেখা অভাব-অনটনের দিনযাপন।
এ বিষয়ে বিকেলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ২৪ ঘণ্টার শনিবার দুপুর ১২টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাপ ৫০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বিকেল ৩টায় ১১৫ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তার আগের দিন শুক্রবার ১১৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তবে আগামীকাল আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ বৃষ্টিপাত কমতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা।