(দিনাজপুর২৪.কম) আল-জাজিরায় প্রচারিত তথ্যচিত্র কাটপিস করে বানানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরের শহীদ বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে করদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্নখান থেকে কাটপিস জোগাড় করে কীভাবে একটা কিছু বানাইছে আর প্রধানমন্ত্রীকে এ জন্য দায়ী করেছে। এটা কোনোমতেই, কোনো যুক্তিতেই ঠিক নয়।’

তথ্যচিত্রটি তৈরির সঙ্গে কারা কারা জড়িত, কীভাবে জড়িত তা খুঁজে বের করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তির কর্ম দিয়ে তাকে বা তার আত্মীয়কে অভিযুক্ত করা যেতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানকে নয়।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিল করা প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যেদিন মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, সেদিন মুক্তিযোদ্ধা। সেদিন বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সে জন্য খেতাব পেয়েছে এটাও সঠিক। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে (জিয়াউর রহমানের) সম্পৃক্ততার দালিলিক প্রমাণ আমাদের কাছে আছে, সেই জন্য আমরা তাকে বঙ্গবন্ধুর খুনি হিসেবে চিহ্নিত করেছি।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি উনাদের (বিএনপি) উদ্দেশে বলতে চাই, কোনো মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের দেশের প্রচলিত আইনে, পৃথিবীর কোথাও প্রচলিত আইনে কোনো মামলা চলে না, তার বিরুদ্ধে আদালত কোনো রায় দেয় না। সেই কারণে (মারা যাওয়ায়) আদালত তেনার (জিয়াউর রহমান) সম্পৃক্ততা কতটুকু সেই ব্যাপারে হয়তো কোনো মন্তব্য করেনি। তার অর্থ এই নয় তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না।’

জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত কোনো আক্রোশমূলক নয় উল্লেখ করে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এর দালিলিক তথ্য-প্রমাণ আছে। খুনিরা তার সম্পর্কে কী বলেছে, জীবিত অবস্থায় তিনি কোথায় কী বলেছেন, সেই সম্পর্কিত রেকর্ডও আছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর অঞ্চলের কর কমিশনার মো. খায়রুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং গাজীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার সাদাত সরকার। অনুষ্ঠানে ২১ জন করদাতাকে সম্মাননা ও সনদ দেওয়া হয়। -ডেস্ক