(দিনাজপুর২৪.কম) বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সফল হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তিন দিনের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি জাতীয় ঐক্য তৈরীর কাজ চলছে। আমরা এবিষয়ে নিয়মিত বসছি। আলোচনা করছি। এই জাতীয় ঐক্যে যদি সফল হওয়া যায় তবে আওয়ামী লীগ তিন দিনের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মুক্তি পরিষদের আয়োজনে খালেদা জিয়া ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের মাঠে নেমে আসতে হবে। যুবদলের নেতাকর্মীদের ঘরের ভেতর থেকে বাইরে আসতে হবে। দলে আমরা যারা বয়ষ্ক তারা সবাই বাইরে যাব। আপনারাও ঘরের ভেতর থেকে বাইরে যান। ২০ জন ২০ জন করে বাইরে যান। দেখেন পরিস্থিতি কি হয়। বিএনপি যদি রাস্তায় নামে সরকারের দাঁড়ানোর উপায় থাকবে না।

তিনি বলেন, এমনি এমনি কোনো কিছুই পাওয়া যায় না। পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। আজ আমাদের নেত্রী ও গণতন্ত্রের মাতা কারাগারে। তাকে যদি কারামুক্ত করতে হয় তবে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। এই আন্দোলন চলছে। আরও বেগবান করতে হবে। যুবকদেরকে মাঠে থাকতে হবে। আমি দেখেছি এই প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আমার বুকের উপর থেকে রাজকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। কিন্তু তাকিয়ে দেখি যুবকরা নেই। বক্তব্য শুরু হলেই পেছন থেকে যুবকরা সবাই চলে যায়। আজ সবাইকে আত্মসমালোচনা করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। আজকের নির্বাচন কমিশন একটি অথর্ব কমিশন। তারা সরকারের নির্দেশ মতো কাজ করে তাদেরকে সহযোগিতা করছে। এই কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুণর্গঠন করে আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। যে নির্বাচনে ভোটাররা নির্ভয়ে গিয়ে ভোট দিতে পারবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারাই পরিস্থিতি তৈরী করছেন। সেই দিন বেশি দূরে নয়। যেদিন জনগণ তাদের জবাব দিয়ে দেবে। আওয়ামী লীগ তাদের জন্মের শুরু থেকেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, কোনোদিন করেনি। তারা স্বাধীনতার পর সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। আজকে যেমন রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকে সেই দিনও এভাবে রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকতো।

যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরুর সভাপতিত্ব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

মানুষ চিরতরে ভোটাধিকার হারাবে : আমীর খসরু
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গাজীপুর এবং খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আওয়ামী লীগ করেনি, করেছে পুলিশ, ডিবির একটি। আর তাদের সহযোগী ছিলো নির্বাচন কমিশন। এভাবে চলতে থাকলে দেশের মানুষ চিরতরে তাদের ভোটাধিকার হারাবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচনী প্রহসন : বিপর্যস্ত ভোটের অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তম্ভ ধ্বংস হয়ে গেছে। আর এখন চতুর্থ স্টেটস গণমাধ্যমকে ধ্বংস করতে চায়। ভোট ডাকাতি করতে গিয়ে তারা গাজীপুর নির্বাচনে গণমাধ্যমকেও বাধা দিয়েছে।

তিনি বলেন, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এখন নির্বাচন করতে হয় না। তাদের কাজ ডিবি, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ করে দেয়।গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা করেনি। এগুলো করেছে পুলিশ, ডিবির একটি অংশ। আর নির্বাচন কমিশন তাদের সহযোগিতা করেছে।এখন নিজেদের নির্বাচন করতে হয় না আওয়ামী লীগকে।

আমীর খসরু বলেন, এটি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণকে একতাবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নয়তো এভাবে চললে চিরতরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। দেশ শাসিত হবে অবৈধ সরকার দ্বারা আর অবৈধ স্থানীয় প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে। সুতরাং আমাদেরকে আইনের শাসন ফিরে পেতে হলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিএনপি এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের সামনে দুটি শপথ- নিতে হবে আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করে আনা এবং দেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা।

নাগিরক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা মো: মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আযম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ বক্তব্য দেন। -ডেস্ক