(দিনাজপুর২৪.কম) ক্রিকেটে একের পর এক ওয়ানডে জয়ে উড়ছে বাংলাদেশ। আর বছরের শেষটাও রাঙাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ দল। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামছে টাইগাররা। জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হবে সিরিজ। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে চলতি বছর টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। শুধু তাই নয়, এই ম্যাচে জয় ধরা দিলে সামনে আসবে আরো একটি হোয়াইটওয়াশের সুযোগও। এরই মধ্যে টাইগাররা দেশের মাটিতে জিতেছে টানা ৪ ম্যাচ। জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে ৩-০তে।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে ১৯৫ রানেই থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজদের সামনে ক্যারিবীয়রা ব্যাটিং শক্তি দেখানোর সাহসও পায়নি যেন। তবে টাইগারদের ব্যাটিংয়ে কিছুটা হলেও ছিল অস্বস্তি। ৫ উইকেটে জয় এলেও বড় বিপদেও পড়তে পারতো দল। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসানরা শেষ পর্যন্ত হাল না ধরলে হারের শঙ্কাও থাকতো। দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল দলে ফেরায় স্বস্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার কাছ থেকে বড় কিছু পায়নি দল। তার সঙ্গী হিসেবে শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমেছিলেন লিটন কুমার দাস। একবার জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ফিফটির আগে বাজে শটে আউট হন। জিম্বাবুয়ে সিরিজে দারুণ খেলা দুই ওপেনারকেও হতাশ করেনি দল। কিন্তু ইমরুল কায়েসও হয়েছেন ব্যর্থ। ওয়ানডেতে ফর্মে থাকা আরেক ওপেনার সৌম্যকেও সুযোগ দেয়া হয়েছিল কিন্তু ১৯ রানেই থামে তার ইনিংস। বলতে গেলে চার ওপেনারের ওপর আস্থার প্রতিদান রাখতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত মুশফিকুর রহীম একাই টেনেছেন দলকে। তাই ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা হলেও থাকবে চিন্তার কারণ।
চার ওপেনার খেলানোটা ছিল বলতে গেলে ২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষারই অংশ। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিপক্ষে বুমেরাং হতে পারে সেটিও বিবেচনায় রাখা দরকার। তবে কি বাংলাদেশ এমন দল যেকোনো দলের বিপক্ষে পরীক্ষার সাহস করতে পারে? অবশ্য অধিনায়ক তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় না। এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ বাকি। হোমে এক চ্যালেঞ্জ থাকে, অ্যাওয়েতে আরেক চ্যালেঞ্জ। আর সৌম্যর আসলে ছয়ে সাতে ব্যাট করার অভ্যাস আছে। কাজেই ইমরুল হয়তো রেয়ার কেইস। সৌম্য করেছে, এশিয়া কাপ ফাইনালে সাতে খেলেছে। আবার ওর হাতে শটস খেলার সামর্থ্য আছে। পেস বল সামলাতে পারে। ফর্মেও আছে। লাস্ট তিন ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছে। যদিও একটা আনঅফিসিয়াল। মিঠুনও ভালো ফর্মে আছে। বাট ডিউ ফ্যাক্টর সব কিছু চিন্তা করে, যদি স্পিনাররা স্ট্রাগল করে, সৌম্যর কাছ থেকে কিছু ওভার পাওয়া যায় কিনা এসব চিন্তা করে আসলে সৌম্যকে খেলানো।’
আজ দলের পরিবর্তন নিয়েও রয়েছে গুঞ্জন। অধিনায়ক মাশরাফি কিছুটা ইনজুরিতে থাকায় তার খেলা না খেলা নিয়ে রয়েছে কিছুটা হলেও সংশয়। তবে মাঠে অনুশীলনে ছিলেন তিনি। তবে বেশির ভাগ সময়ই তাকে দেখা গেছে বসে থাকতে। তখনই ইনজুরি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে শুধু হাসলেন। বলেন, ‘ঠিক আছি। দেখি।’ তবে পরক্ষণেই তিনি দেখিয়ে দিলেন ফিজিও থিহান চন্দ্র মোহানকে। এ ছাড়াও ক্যারিবীয়দের স্পিন দুর্বলতার সুযোগ নিতে আরো একজন স্পিনার খেলানোর কথা  শোনা যাচ্ছে।  সেই ক্ষেত্রে নাজমুল ইসলাম অপুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অপু দলে আসলে বাদ পড়তে পারে ইমরুল কিংবা রুবেল হোসেন। গতকাল বাংলাদেশের দলের ঐচ্ছিক অনুশীলন হলেও দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই মাঠে এসেছিলেন অধিনায়কের সঙ্গে। দেখা যায়নি নিয়মিত অনুশীলনে মুশফিকুর রহীমকে। মাঠে আসেননি সাকিব ও মাহমুদুল্লাহও। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচ হারের পরও সিরিজ হার ঠেকানোর ম্যাচের আগে কোনো ধরনের অনুশীলন করেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল।
চলতি বছর বাংলাদেশ দল দুটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। ৫ মাস আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে জয় পেয়েছে। এরপর  দেশের মাটিতে জয় এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। শুধু তাই নয় এই বছর ১৮ ওয়ানডের মধ্যে ১২টিতে জয় পেয়েছে টাইগাররা। -ডেস্ক