(দিনাজপুর২৪.কম) ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে এক দম্পতি ও তাদের চার মাস বয়সী পুত্রসন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। এরপর খুনি নিহত নারীর মৃতদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ধর্ষণ করেছে তার ১০ বছর বয়সী মেয়েকে। এ অভিযোগে উত্তর প্রদেশ পুলিশ নাসিরুদ্দিন নামে ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সোমবার। এরপর পুলিশ জানতে পেরেছে নাসিরুদ্দিন একই রকম অপরাধ ঘটিয়েছে হরিয়ানা, দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গে। ভয়াবহ এসব অপরাধ ঘটানোর কথা সে স্বীকার করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।

এতে আরো বলা হয়, এক সপ্তাহ আগে আজমগড়ের মুবারাকপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ওই দম্পতি ও তাদের সন্তানরা।

জিজ্ঞাসাবাদে নাসিরুদ্ধিন স্বীকার করেছে যে, সে ওই পরিবারের ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী, তার স্বামী ও চার মাস বয়সী শিশু সন্তানকে হত্যা করে। এরপর নিহত ওই নারীর শরীরের ওপর হামলে পড়ে পশুর চেয়ে খারাপ মানসিকতা নিয়ে। নৃশংসভাবে সে ওই নারীর মৃতদেহকে ধর্ষণ করে। এরপর সে তাদের ১০ বছর বয়সী কন্যাকেও ধর্ষণ করে।

আজমগড়ের এসপি ত্রিবেণী সিং বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়ির ভিতরেই নিহত নারীর শরীর নাসিরুদ্দিন ভোগ করে তিন ঘন্টা ধরে। এ দৃশ্য ধারণ করে ভিডিওতে। পরে সে ওই ভিডিও দেখায় তার এক শালিকা অথবা ভাবিকে। ভিডিও দেখে তার শালিকা অথবা ভাবি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। জিজ্ঞাসাবাদে নাসিরুদ্দিন মাদক নেয়ার কথাও স্বীকার করেছে। ধর্ষণ করলে যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে এ জন্য সে আগে থেকেই সঙ্গে করে কনডম নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশকে। জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে সে একটি ছুরি ও ভারি পাথর ব্যবহার করেছে।

এসপি ত্রিবেণী বলেন, ঘটনাটি ঘটে ২৪ শে নভেম্বর। ওইদিন যখন ভিকটিমের পরিবারটি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন সে তাদের ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমেই হত্যা করে ৩৫ বছর বয়সী স্বামীকে। তারপর হত্যা করে তার স্ত্রীকে। এরপর নিহতের লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় সে ওই পরিবারের ১০ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে ধর্ষণ করে। হামলা চালায় চার বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তানের ওপর। আমরা ঘটনাস্থলে বিবস্ত্র অবস্থায় তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমরা তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছি নাসিরুদ্দিনকে। সে নিজেই অপরাধের স্বীকারোক্তি দিয়েছে। -ডেস্ক