(দিনাজপুর২৪.কম) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গুলশানের বাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত মামলার রিভিউ আবেদন (রায় পুনর্বিবেচনা) খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তাকে বাড়িটি ছাড়তেই হবে। সব আইনি প্রক্রিয়ায় হেরে যাওয়ার পরও বাড়ি ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন মওদুদ আহমদ।
তিনি বলেন, এই বাড়িটির সঙ্গে আমার জীবন জড়িত। আমার সন্তানরা এখানে বড় হয়েছে। তাই আমি এ বাড়িটি ছাড়ছি না।
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও কেন বাড়িটি ছাড়বেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকার কারণে সরকার আমাকে এই বাড়ি ছাড়া করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। আদালত বাড়ি ছাড়ার অর্ডার দিলে তখন আমি আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করবো। আইনের তো অনেক দিক আছে।’
রবিবার এ সংক্রান্ত রিভিউ আবেদনটি পর্যবেক্ষণসহ খারিজের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। এরপর রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বাড়ি না ছাড়ার বিষয় নিজের মন্তব্য দেন।
এর আগে আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে মওদুদ আহমদ নিজের পক্ষে নিজেই শুনানি করেন। শুনানিতে আরও অংশ নেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। তাদের সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ ছাড়া দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
গত ৩১ মে শুনানি শেষে ৪ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ। গত বছর ২ আগস্ট মওদুদ আহমদের ভাই মনজুর আহমদের নামে ওই বাড়ির নামজারির নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজউকের আপিল গ্রহণ করেন আপিল বিভাগ।
গত ৩০ আগস্ট এ মামলার ৮০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে পরে রিভিউ করেন মওদুদ। এক আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট ওই বাড়ি মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন করার জন্য হাইকোর্ট রায় দেন। রাজউক এ রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করে ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ আপিল বিভাগ রাজউককে আপিলের অনুমতি দেন। এরপর চলতি বছর এ মামলার শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাড়িটি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক হারুনুর রশীদ রাজধানীর গুলশান থানায় মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
২০১৪ সালের ১৪ জুন এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে তাদের আবেদন গত বছরের ২৩ জুন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ করেন মওদুদ আহমদ। এ আবেদনের শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার দুটি বিষয়ে রায় দেন আপিল বিভাগ।
দুদকের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাড়িটির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির (রাজউক) কাছ থেকে এক বিঘা ১৩ কাঠার এ বাড়ির মালিকানা পান এহসান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের পাশাপাশি তার স্ত্রী অস্ট্রিয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন এহসান। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। এর পর ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট মওদুদ তার ইংল্যান্ডপ্রবাসী ভাই মনজুরের নামে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করে বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেন বলে মামলায় অভিযোগ করে দুদক। -ডেস্ক