(দিনাজপুর২৪.কম) ৪৮তম ওভারে পরপর দুই বলে ওয়াহাব রিয়াজ যখন মইন আলী ও ক্রিস ওকসে তুলে নিলেন- ইংল্যান্ডের জয়ের সবশেষ সম্ভাবনাটুকুও শেষ হয়ে গেল। ম্যাচ পুরোপুরি হেলে পড়লো পাকিস্তানের দিকে। টিভি ক্যামেরা তখন মাঠে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের উল্লাস না দেখয়ে ধরা হলো ড্রেসিং রুমের বারান্দায়। সেখানে মুখে হাসি নিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে হাততালি দিচ্ছেন মিকি আর্থার। পাকিস্তানের কোচ। ধারাভাষ্যকার তখন বারবার বলছিলেন ‘হোয়াট এ কামব্যাক বাই ওয়াহাব রিয়াজ’।

টিভি ক্যামেরায় আর্থারকে ধরা, আর ভাষ্যকারের উত্তেজিত ‘কামব্যাক’ বলা কাকতালীয় নয়। এর মধ্যে একটি মিল রয়েছে। কারণ কিছুদিন আগে এই আর্থারই ওয়াহাব রিয়াজকে পুরোপুরি বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন। জাতীয় দলে ওয়াহাবের শেষ লেখা হয়েছিল তখনই। পাকিস্তানের কোচ বলেছিলেন, গত দুই বছরে সে আমাদের কোন ম্যাচ জেতাতে পারেনি, তাকে কেন জাতীয় দলে ডাকা হবে? তাইতো বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে জায়গা হয়নি তার।

একই অবস্থা মোহাম্মদ আমিরের এশিয়া কাপের পর থেকে পারফরম্যান্স ভালো না হওয়ায় তাকেও নেয়া হয়নি বিশ্বকাপের দলে।

কিন্তু ভাগ্য যাদের ডাকে, তাকে আটকে রাখার উপায় কী? শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ পেসার দরকার এমন ভাবনায় দলের নেয়া হয়েছে তাদের দুজনকে। সাবেক ক্রিকেটাররাও বারবার বলেছেন, অনভিজ্ঞ পেসার দিয়ে বিশ্বকাপ জেতা যায় না। তাই একেবারে শেষ মুহূর্তে দুজনে বিশ্বকাপ দলে ঢোকেন।

তাদের অর্ন্তভূক্তি যে যথার্থই ছিলো সেটি কী দারুণ ভাবেই না প্রমাণ করলেন দুজনে। পাকিস্তানকে এনে দিলেন দুর্দান্ত এক জয়। বিশ্বকাপের সবচেয়ে ফেবারিট ইংল্যান্ডকে পাকিস্তান হারিয়েছে ১৪ রানে। স্লগ ওভারে দুজনের দুর্দান্ত বোলিং এনে দিয়েছে এই জয়।

ইংল্যান্ড যখন ক্রমশ জয়ের দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন একে একে সেঞ্চুরিয়ান জস বাটলার,মইন আলী, ক্রিস ওকসদের তুলে নিয়ে জয় নিশ্চত করেন দুজন। ৭৫ বলে সেঞ্চুরি করা বাটলারকে ফিরিয়ে আমির প্রথম পাকিস্তানকে জয়ের সুবাস  এনে দেন। বাটলার ক্রিজে থাকলে ইংল্যান্ড যে নিশ্চিত জিতে যাবে তাতে কারো সন্দেহ থাকার সুযোগ ছিলো না। এরপর অলরাউন্ডার মইন আলীর আর অন্য প্রান্তে ক্রিস ওকসের মারমুখী হয়ে ওঠাটাও ভয় ধরিয়ে দেয় পাকিস্তান শিবিরে। কিন্তু তাদের দুজনকে পরপর দুই বলে ফিরিয়েছেন ওয়াহাব।

সবমিলে ওয়াহাব ৩ উইকেট নিয়েছেন, আর আমির নিয়েছেন দুটি। তার চেয়েও বড় কথা শেষ ওভার গুলোতে দুজনে ইংল্যান্ডকে হাতখুলে খেলতে দেননি। প্রথম দিকেও বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন দুজনেই।

আমির এর আগের ম্যাচেও ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ওয়াহাব প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করে প্রমাণ করেছেন বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার অভ্যাসাটা এখনো আছে দুজনের। -ডেস্ক