bijory-dinajpur24(দিনাজপুর২৪.কম) মিডিয়ার সঙ্গে সেই ছোটবেলা থেকে সখ্য। নাটকে, বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করে হয়েছেন দর্শকপ্রিয়। অভিনয়ের পাশাপাশি আরেক পরিচয় হলো একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পীও। বলা হচ্ছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিজরী বরকতউল্লাহর কথা। দীর্ঘদিন মিডিয়ার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন তিনি। কাজ করেছেন অসংখ্য নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে। কিন্তু অনেক দিন ধরেই নেই বিজরী।  ক্যামেরার সামনে দেখা মেলে না তার। তবে কি পুরোদস্তুর সংসারী হয়ে গেলেন বিজরী? এমন প্রশ্নই তার ভক্তকুলের। সেই সূত্রেই বিজরীরর সঙ্গে আলাপ। দীর্ঘক্ষণের গল্পে জানিয়েছেন এখন একটি মাত্র নাটকে অভিনয় করছেন তিনি। সকাল আহমেদের পরিচালনায় ‘বাবুই পাখির বাসা’ ধারাবাহিকে। এত দিনের অভিজ্ঞ একজন অভিনেত্রীর ঝুলিতে মাত্র একটি নাটক! কিন্তু কেন? দূরে সরে থাকা কিংবা কমিয়ে কাজ করার কারণ কি? জানতে চাইলে বিজরী বলেন, কাজ তো হচ্ছেই না। কমে গেছে। আর সেখানে আমার একটি সিরিয়াল চলছে। বিজরী বললেন, এখন নাটক নির্মাণ কম হচ্ছে বলে তিনিও কম কাজ করছেন। এর মধ্যেও একেকটি চ্যানেলে অন্ততপক্ষে চারটি ধারাবাহিক প্রচার চলছে। পাশাপাশি খ- নাটক তো রয়েছেই। আবারও প্রশ্ন বিজরীকে। আগে যেখানে ৬/৭টি ধারাবাহিকে কাজ করতেন সেখানে এখন মাত্র একটি আপনার ঝুলিতে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে? বিজরী বলেন, দেখুন আমাকে কাজে নিয়ে নির্মাতারা পয়সা দিতে পারবে না। নাটকে আমার যা সম্মানী সেটা কেউ দিতে পারেন না। তাই তো ‘নন আর্টিস্ট’ দিয়েও নাটকে অভিনয় করানো হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। বিজরী আরো বলেন, দেখা গেছে নাটকে একজন আর্টিস্ট থাকলে ‘নন আর্টিস্ট’ দিয়ে অভিনয় করায় নির্মাতারা। বাবা নিলে মা পাওয়া যায় না। অবস্থাটা এমনই পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে কাজ করার কি কোনো উপায় আছে! গত কিছুদিন আগেই নাট্যাঙ্গনে বিদেশি সিরিয়াল প্রচার বন্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে এফটিপিও। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে দেখা মেলেনি বিজরীর। তবে এই আন্দোলনে তিনিও সমর্থন জানিয়েছেন। বিজরী বলেন, আমি চাই আমাদের নাটকের সুদিন ফিরুক। এত কোটি কোটি টাকা লগ্নি করে চ্যানেল বিদেশি সিরিয়াল প্রচার করবে কেন? আর আমরাই বা কেন বিদেশি সিরিয়াল দেখবো। এফটিপিওর এ আন্দোলনে আমারও সমর্থন রয়েছে। বর্তমান সময়ে অনেক নতুন শিল্পী নাটকে কাজ করছেন। তাদের বিষয়ে বিজরী বলেন, নতুন শিল্পীরা ভালো কাজ করছেন। অনেকের মধ্যে মেধা রয়েছে। কিন্তু সঠিক চর্চার জায়গাটা নেই। সকাল বিকাল শুধু এক সেট থেকে অন্য সেটে দৌঁড়াচ্ছে তারা। নির্মাতারা বলছেন তোমরা অমুক সংলাপ দাও। তমুক সংলাপ ওভাবে দাও। কিন্তু শেখা হচ্ছে না। চর্চার কথা বলছেন বিজরী। একটা সময় নাটকের শুটিং শুরুর আগে অনেক মহড়া হতো। এখন সেটা নেই। এ প্রসঙ্গে বিজরী বলেন, আপনি মহড়ার কথা বলছেন! স্ক্রিপ্টই শুটিং সেটে গেলে দেয়া হয়। অনেক নির্মাতা তো বলেই ফেলে, আপু আপনিই শুধু স্ক্রিপ্টের কথা বলেন। আর কেউ চায় না। আমার কথা হচ্ছে নাটকের স্ক্রিপ্ট যদি না পড়ি তাহলে কীভাবে বুঝবো আমার চরিত্রটি কীভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে। কিন্তু এটাই এখনকার বাস্তবতা। তাহলে এটা নাটকের জন্য কী অশনিসংকেত নয়? বিজরী বলেন, পুরো টিভি ইন্ডাস্ট্রিই এখন ধ্বংসের মুখে। আরো ধ্বংস হবে। সরকার যদি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে পরিণতি যে কী হবে সেটা কেউ বলতে পারে না। মাত্র আড়াই বছর বয়সে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশুতোষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান বিজরী। এরপর ১৯৮৮ সালে ‘সুখের ছাড়পত্র’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে একজন অভিনেত্রী হিসেবে তার ছোটপর্দায় অভিষেক ঘটে। নাটকটি প্রযোজনা করেছিলেন তারই বাবা বরকতউল্লাহ। তবে এ নাটকে বিজরী নিজের কিংবা তার বাবার ইচ্ছায় অভিনয় করেননি। একজন অভিনয়শিল্পীর রিপ্লেসমেন্ট হিসেবেই হঠাৎ নাটকটিতে অভিনয় করেন তিনি। তখন বিজরী ক্লাস সিক্সে পড়তেন। তবে ১৯৯৩ সালে বিজরী ধারাবাহিক নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’-এ অভিনয় করেন। এটি ছিল তার জীবনের প্রথম ধারাবাহিক। এটি ওই সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আবদুস সাত্তার পরিচালত ‘মেঘ কালো’র মাধ্যমে প্যাকেজ নাটকে বিজরী কাজ শুরু করেন। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। সদরুল পাশার নির্দেশনায় ‘পিউলি টারমানিক ক্রিম’-এর বিজ্ঞাপনে প্রথম মডেল হন তিনি। এরপর তিনি বেশ কটি বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। -ডেস্ক