(দিনাজপুর২৪.কম) আমাকে এখনো কেন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে না এমন প্রশ্ন রেখে দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজের চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন। বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের বিশেষ কারাগারে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার দেখা করতে গেলে তাদের কাছে একথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর আগে, বিকেল ৪ টা ১০ মিনিটে ওই দুই আইনজীবী খালেদার সঙ্গে দেখা করতে কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে বিকেল ৫ টা ৫ মিনিটে সেখান থেকে বের হন তারা। সাক্ষাৎ শেষে বের হয়ে সাংবাদিকদের মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘আদালতে থেকে বিচার কাজ শ্রবণ করার মতো সুস্থ নন বেগম খালেদা জিয়া। আদালতের উপর তার আস্থা আছে। কিন্তু আদালতে হাজির হবার মতো শারীরিক সুস্থতা তার নেই।’ ‘খালেদা জিয়া দুদিন আগেও কারাকক্ষের বাথরুমে পড়ে গিয়েছেন। সুস্থ না হয়ে আদালতে কী করে যাবেন বলে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন।’ আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানির তারিখ আছে। এই শুনানিতে বিএনপি নেত্রী আসবেন কি না, এমন প্রশ্নে তার আইনজীবী মাসুদ জানান, খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি সুস্থ হলে আদালতে আসবেন। ৫ সেপ্টেম্বর কারাগারে আদালত বসানোর পর বিএনপি খালেদা জিয়াকে গুরুতর অসুস্থ দাবি করে বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি তোলে। তবে তার চিকিৎসায় গঠিত সরকারি মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এসে বলেছেন, তার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেন তারা।

খালেদা জিয়া অবশ্য দেশের অন্যতম সেরা এই হাসপাতালে আসতে রাজি নন। এমনকি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন। শুরু থেকেই বিএনপি ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার দাবি করে আসলেও সম্প্রতি এর পাশাপাশি ইউনাইটেডে সম্ভব না হলে অ্যাপোলো হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, বিএনপি নেত্রীর বাম হাতের আঙ্গুলগুলো বেঁকে গিয়েছে। হাত অবশ হয়ে যাওয়ায় নাড়াচাড়া করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই খালেদা জিয়া নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। আমি আবারও বলছি তার সুচিকিৎসা দরকার। তিনি সুস্থ না হলে আদালতে যেতে পারবেন না।’

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে খালেদা জিয়া ‘অনিচ্ছুক’ এর আগে আদালতের কাছে এমন বক্তব্য পেশ করে কারা কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে সানাউল্লাহ মিয়া জানান, খালেদা জিয়া তাদের জানিয়েছেন ‘আদালতে যেতে ‘অনিচ্ছুক’এমন শব্দ তিনি বলেন নি।

এছাড়া তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের কোনো রিপোর্টও তাকে জানানো হয়নি বলে আইনজীবীদের জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)চিকিৎসা করাবেন কি না এমন প্রশ্নে খালেদার এ দুই আইনজীবী বলেন, যাওয়া না যাওয়া পরের ব্যাপার, আগে সুচিকিৎসা দরকার।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই কারাগারে বন্দী খালেদা জিয়ার অন্য একটি মামলার বিচারে ৫ সেপ্টেম্বর আদালত বসে কারাগারেই। সেদিন শুনানিতে এসে খালেদা জিয়া বলেন, তার শরীর বেশ খারাপ এবং তিনি আর আসতে পারবেন না। পরে ১২ সেপ্টেম্বর পরের শুনানিতে তিনি আর আদালতে আসেননি। আর পরেরদিন তার অনুপস্থিতিতেই বিচারের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। -ডেস্ক