আবু হাসান মোঃ মাসুদ (দিনাজপুর২৪.কম) “হটাও ফার্ম বাঁচাও গ্রাম গড়ে তুলো সংগ্রাম” এই মূলমন্ত্র বুকে ধারন করে গর্জে উঠেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের আপমর সাধারণ মানুষ ।আর এর পেছনে রয়েছে যথেষ্ট যৌক্তিকতা কারণ পরিবেশ বিপর্যয় ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে মুরগির খামার স্থাপন করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের গুতিকই মানুষ। এ ইউনিয়নের হটরাপাড়া ও বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন জনবহুল আবাসিক এলাকায় কৃষি জমি ভরাট করে অবৈধভাবে আফতাব হ্যাচারি নামে একটি মুরগির খামার স্থাপন করা হচ্ছে। খামারটির কার্যক্রম শুরু হলে আশপাশের প্রায় সাতটি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

খামারটির পাশেই চৈতন্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধুপাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে সবচে বেশি কষ্ট হবে খামারের মাত্র ১০ গজ দূরে অবস্থিত কিন্দার গার্ডেনের ছোট ছোট কোমল মতি শিশুদের ।যাদের গ্রামের দূষণ মুক্ত পরিবেশে বড় হওয়ার কথা তারাই আজ সবচে বেশি হুমকির সম্মুখীন ।এছারা খামার এর ঠিক আশেপাশে রয়েছে তিনটি ঈদ গাহ মাঠ যাতে প্রতি বছর ঈদের সময় নামায পড়ে হাজার হাজার গ্রামবাসী ।সবচে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপারটি সেটি হল মুসলমানদের ধর্ম পালনের সবচে উপযুক্ত স্থান হল মসজিদ আর খামার এর ঠিক আশেপাশে কমপক্ষে ৫-৬ টি মসজিদ এর অবস্থান, খামার এর গন্ধের কারণে যাতে নামায পড়া কঠিন হয়ে পড়বে । মুরগির খামারের বিষ্ঠা এবং বর্জ্যে বায়ু ও পানি দূষিত হয়ে পড়বে। ফলে শ্বাসকষ্টসহ বায়ু ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হবে এলাকার কয়েক হাজার নারী পুরুষ ও শিশু। এলাকার কয়েকটি গ্রাম বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।মুরগির খামার হলে মুলত হাজারও সমস্যার মধ্যে প্রধান প্রধান সমস্যা গুলোর কয়েকটি আফতাব হ্যাচারির পঞ্চগড় এর তেতুলিয়ার অন্তর্গত ভজনপুর এর বুড়াবুড়ি নামক স্থানে স্থাপিত অন্য একটি খামার পর্যবেক্ষণের পর সংক্ষিপ্ত আকারে নিচে দেওয়া হল ঃ-

(১) এলাকায় মশা ও বড় বড় মাছির উপদ্রপ বেরে যাবে ।

(২) অত্র এলাকায় কোন ধরনের মৌসুমি ফলের গাছ যেমনঃ আম, কাঁঠাল, জাম, বরই,আতা ইত্যাদি হবে                            না ।

(৩) ফার্মের আশেপাশে অন্তত পক্ষে ১০০ একর জমি তে কোন ধরনের আবাদ করা সম্ভব হবে না ।

(৪) মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে ।

(৫) বায়ু বাহিত , পানি বাহিত অসুখ বেড়ে যাবে ।

(৬) ছোট কোমল মতি শিশুরা স্কুলে গন্ধের কারনে পড়ালেখাই মন দিতে পারবে না যা শিক্ষার উপরে একটা দীর্ঘকালীন খারাপ প্রভাব ফেলবে ।

(৭) আশেপাশের একটা বিশাল পরিমাণ আবাদি জমিতে ফসল না হওয়ার কারণে অনেক খেটে খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে যা দেশের উন্নয়েনের অগ্র যাত্রা কে বাধাগ্রস্ত করবে।

জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০০৮ এ উল্লেখিত পরিবেশ আইন ও সরকারি নীতিমালার অনুছেদ ৬.১.১.১.ক ( বাণিজ্যিক খামার ঘনবসতি এলাকা এবং শহরের বাইরে স্থাপন করতে হবে ) না মেনেই আফতাব হ্যাচারি মুরগির খামারটি নির্মাণ করার কারণে সাত গ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুরগি খামার প্রতিরোধ কমিটি করেছেন। লোকালয়ের পাশে অবৈধভাবে মুরগির খামার স্থাপনের প্রতিবাদে গত ২১ জুলাই ২০১৫ তারিখ রোজ মঙ্গলবার জগদল চৈতন্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই কমিটি এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।কমিটির সভাপতি আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত উপস্থিত ছিলেন।
কমিটির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন,’আফতাব হ্যাচারি হাজার হাজার মানুষের দাবিকে অগ্রাহ্য করে এলাকার কিছু দালালকে সাথে নিয়ে তাদের মুরগি খামার নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন। সাত গ্রামের মানুষ মিলে জেলা প্রশাসকসহ পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। খামারটি চালু হলে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে।’ সবচে বর যে সমস্যা সেতা হল গ্রামের আবাদি জমি ভরাট করে পরিকল্পনাহিন ভাবে গড়ে উঠছে আফতাব হ্যাচারি নামের সেই সর্বনাশা খামারটি ।

হটরাপাড়া গ্রামের আশপাশের সাত গ্রামের মানুষ এই খামার নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু খামার নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে।এমতবস্তাই উক্ত মুরগির খামার বন্ধের জন্য যথাযথ কত্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি ও আইনগত পদক্ষেপ কামনা করছি ।কিছু ছবি দিলাম ।

এলাকাবাসির পক্ষ থেকে –

আবু হাসান মোঃ মাসুদ,

প্রভাষক,গণিত বিভাগ,হাজী মোহম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয় ,দিনাজপুর-৫২০০।