(দিনাজপুর২৪.কম)  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ। আগামী দিনে যারা দেশের জন্য কাজ করবে আমি আশা করছি তারা আমাদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলব।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৭’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭.১ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। মাথাপিছু হার, দারিদ্র্যের হার, সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি বেড়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিশ্বব্যাংক। তাদের অভিযোগ কানাডার আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে করার। সেই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। তারা শিক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশকে আর অবহেলা করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবক্ষেত্রেই এগিয়েছি, আরও এগিয়ে যাব। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, বাজেট বৃদ্ধি করেছি। ৫ কোটি মানুষ নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত হয়েছে। হতদরিদ্রের হার কমেছে, লেখাপড়ার হার বেড়েছে।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হব। আমরা বিজয়ী জাতি। মাথা উঁচু করে চলব।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বাজেট বাড়ানো হয়েছে। এবার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়েছে। সবার বেতন বাড়ানো হয়েছে প্রায় ২৩ ভাগের মতো। বিশ্বের কোনো দেশে এত বেতন বাড়ানো হয় না।
মুক্তিযুদ্ধের কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৬ সালে ৬ দফা উত্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এই ৬ দফা। তার জন্য বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। ৭০ এর নির্বাচনে সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী লীগ। তার পরও ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি।
এ বছর ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৭-এর পদকপ্রাপ্তরা হলেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে গ্রুপ ক্যাপ্টেন অব. শামসুল আলম বীর উত্তম, আশরাফুল আলম, শহীদ মো. নজমুল হক, মরহুম সৈয়দ মহসিন আলী, শহীদ এন এম নাজমুল আহসান, শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। এছাড়া চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক এ এইচ এম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী, সাহিত্যে রাবেয়া খাতুন ও মরহুম গোলাম সামদানী কোরায়শী। সংস্কৃতিতে অধ্যাপক এনামুল হক ও ওস্তাদ বজলুর রহমান বাদল। সমাজসেবায় খলিল কাজী ওবিই, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে শামসুজ্জামান খান ও অধ্যাপক ললিত মোহন নাথ (প্রয়াত)এবং জনপ্রশাসনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
স্বাধীনতা পদকের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়েছে। -ডেস্ক