-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ঘটনায় মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন প্রত্যাহারের ১৩ দিনের মাথায় ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কার্যকর ফলাফল না দেখা পর্যন্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা দেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাহমুদুর রহমান সায়েম ও অন্তরা তিথি। এ সময় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ১০ দাবির মধ্যে মাত্র দু’টি দাবি মানা হয়েছে। বাকি দাবিগুলো আদায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলবে। দাবিগুলোর বিষয়ে ফের বুয়েট ভিসির সাথে বসবেন বলেও জানান তারা। মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, দাবি পূরণে বুয়েট প্রশাসনের উদাসীনতা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। আবরার হত্যা মামলার খরচ বুয়েট প্রশাসন দেয়ার ঘোষণা দিলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ ছাড়া আবরারের পরিবারেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে আজ পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি বলেও জানান তারা। তারা বলেন, আমরা চাই দ্রুত তার পরিবারের সাথে দেখা করে তার সব ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। তিনি বলেন, আমাদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলÑ দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বল্পতম সমেয়র মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এবং তার আপডেট আমাদের সাধারণ ছাত্রদের জানাতে হবে।

সায়েম বলেন, আমরা আশা করছিÑ যেহেতু মামলাটি তদন্তাধীন। যখন এটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবে তখন তা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালকে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরো বলেন, চার্জশিটের বিষয়টি যেহেতু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে। সেহেতু আমরা আশা করছি- তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে তদন্ত করে মামলার চার্জশিট দায়ের করবে।

অন্তরা তিথি বলেন, আমাদের দাবি ছিল বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা। যেহেতু বুয়েটে এটা নিষিদ্ধ করেছে কিন্তু যারা এটি অমান্য করবে তাদের কী ধরনের শাস্তি প্রদান করা হবে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ মর্মে একটি নোটিশ দিতে হবে। এ ছাড়া এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আর যাতে না ঘটে এবং ঘটলে তার শাস্তি কী হবে সে বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, এর আগে যেসব হলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তাতে জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা এবং আহসানউল্লাহ হল ও সোহরাওয়ার্দী হলে আগের ঘটনায় জড়িত সবাইকে ছাত্রত্ব বাতিল করার দাবি ছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই ঘটনাগুলোর ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
অন্তরা তিথি আরো বলেন, শুধু ভিসি স্যারের জবাবদিহিতা ও শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো দাবি পুরোপুরি মানা হয়নি। যদিও অন্য দাবিগুলোর ব্যাপারে কাজ চলছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা অ্যাকাডেমিকভাবে পিছিয়ে পড়ছি। কিন্তু আমরা চাই না আরেকটা আবরারকে জীবন দিতে হয়। বা আমাদের সাথে এই ব্যাপারগুলো ঘটুক। বৃহত্তর স্বার্থে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ না নিলেও প্রশাসন তার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

দাবি পূরণে তৎপর না হলে প্রশাসনকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, আমরা চাই প্রশাসন তৎপরতার সাথে বুয়েটের কল্যাণেই আমাদের দাবিগুলো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করবে। আমরা চাই না, প্রশাসনে থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পারস্পরিক দোষারোপ করে কাজের গতি স্থবির করে দিক। প্রশাসন সদিচ্ছা পোষণ করলেও তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এখনো রয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অনেক সময় গড়িয়েছে। প্রশাসন তৎপর হলে এ সময়ের মধ্যেই আরো অনেক অগ্রগতি প্রদর্শন করতে পারত। প্রয়োজনে আমরা ভিসি স্যারের সাথে আবার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছি। প্রশাসন তৎপর না হলে আমরা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবো।

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের কারণে ১১ অক্টোবর বুয়েট ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের সব দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের শর্তে ১৪ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে আন্দোলন শিথিল করে। পরে সব দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে ১৬ অক্টোবর বুয়েট মিলনায়তনে গণশপথের মধ্য দিয়ে মাঠের আন্দোলনে ইতি টানেন শিক্ষার্থীরা। তবে মামলার অভিযোগপত্র পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বহিষ্কার না করা পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন তারা। -ডেস্ক