(দিনাজপুর২৪.কম)  ভারতীয় চালের সংকট, মিল মালিকদের কারসাজি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে রাজধানীর খুচরা বাজারে ফের বাড়ল চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালে কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া কাঁচাবাজারে টমেটোর দাম কমলেও অধিকাংশ সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। তবে এখনও স্বস্তি ফেরেনি পেঁয়াজে। চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল মালিকরা কারসাজি করে দাম বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এর ওপর ভারতীয় চালের একটা সংকট রয়েছে। আর এতে সংকট তৈরি হয়ে দাম বেড়েছে। তা ছাড়া অনেকে মনে করছেন, আগামী বোরো মৌসুমের আগে চালের দাম কমার কোনো সম্ভবনা নেই। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী ও কারওয়ানবাজারের আশপাশের বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা যায়। চালের বাজারে প্রতি কেজি গুটি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৫ টাকা দামে। যা একসপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ছিল ৪১-৪৩ টাকা। বিআর-২৮ মানভেদে ৪৮-৫২, মিনিকেট (নরমাল) ৬২ এবং মিনিকেট (ভালো) ৬৪, নাজিরশাইল ৬৫ এবং পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা দামে। চালের খুচরা বিক্রেতা কবির হোসেন বলেন, চালের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। অনেকে বলেন, বাজারে বোরো মৌসুমের চাল এলে নাকি দাম কমে। তবে এর থেকে দাম আর খুব বেশি কমবে বলে মনে হচ্ছে না। খুচরা বাজারে পেঁয়াজের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মহাখালী কাঁচাবাজারের পেঁয়াজের খুচরা বিক্রেতা রফিক বলেন, পেঁয়াজের দাম এই কমছে এই বাড়ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখনও পেঁয়াজের ফলন নষ্ট ও আমদানি সমস্যার কথা বলে যাচ্ছেন। ফলে বেশি দামে কিনে আমাদের বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বাড়ানোতে আমাদের লোকসান ছাড়া লাভ নেই। বাড্ডার কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা নুর মোহাম্মাদ জানান, বাজারে কোনো পণ্যই ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই। পেঁয়াজ, চাল ও বেশ কয়েকটি সবজির দাম ক্রেতাদের অস্বস্তিতে বাড়াচ্ছে। দিন দিন মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা নাজেহাল। সপ্তাহ ব্যবধানে বেশ কিছু সবজির দাম চড়া। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি পিস লাউ ৫০, মিস্টি কুমড়া ৬০, করলা ১০০, আলু কেজি ২৫, টমেটো ১০-১৫, ফুলকপি ৩০, পাতাকপি ২৫, খিরা ৪০, পেপে ৩০, বেগুন ৬০, গোল বেগুন ২৫, কাঁচাকলা ৩০ হালি, ঝিঙ্গা ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বড় লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা হালিতে, দেশি ছোট ৪০-৫০ টাকা হালি। শিম ৫০, চিচিঙ্গা ৬০, গাজর ৩০, বরবটি ১০০, মটরশুটি ৫০, মরিচ ৮০, ভারতীয় রসুন ১২০, দেশি রসুন ৮০, আদা ৮০-১২০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে ভোজ্য তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে মাছের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। রুই ২৪০, তেলাপিয়া ১৩০, কাতলা ২৬০, ইলিশ জোড়া (ছোট) ১০০০, বড়, টেংরা কেজি ৪০০-৬০০, চিতল ৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও আগের মতোই রয়েছে, ডজন ৭৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৩০, দেশি (বড়) মুরগি পিস ৩৫০, কক মুরগী ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরু ৪৭০ টাকায় এবং খাসির মাংস ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফলের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেল ৪০ পিস, পেয়ারা কেজি ১২০, আতাফল কেজি ২০০, বরই ১২০, আনারস হালি ১২০, সফেদা ৮০, আপেল ১২০, মালটা ১৫০, আঙ্গুর ২৫০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। -ডেস্ক