(দিনাজপুর২৪.কম) ঠাকুরগাঁও শহরের জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম ( বিডি হল) এর সামনে রয়েছে বাংলার সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত “সূর্য সন্তান” ম্যুরালটি। গত বছরের শেষের দিকে এটিকে আলোকিত করেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক জেলা প্রশাসক। কিছুদিন আলোর মধ্যে থাকলেও পুনরায় অন্ধকারে হারিয়ে যায় সাত বীরশ্রেষ্ঠ সূর্য সন্তানের স্মৃতিতে নির্মিত ম্যুরালটি। মঙ্গলবার (০৪সেপ্টেম্বর) রাতেও চোখে দৃশ্যমান হয় অন্ধকারাচ্ছন্ন সে ম্যুরালটির। “ দেশের জন্য যুদ্ধ করে যাঁরা শহীদ হয়েছে। যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি সোনার এই বাংলাদেশ। আজ তাদের স্মৃতিতে নির্মিত এ ম্যুরালটিই পড়ে রয়েছে অন্ধকারে? এমনি প্রশ্ন উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের সচেতন মহলে। যানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের তত্ত্ববধানে প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম (বিডি হল) এর সামনে সাত বীরশ্রেষ্ঠকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘সূর্য সন্তান’ নামে একটি ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়। ২০১২ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন সূর্য সন্তানদের ম্যুরালটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের কিছুদিন পর থেকেই হঠাৎ করেই অবহেলিত অবস্থায় পরে থাকে এ ম্যুরালটি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অন্ধকারে ছিল ম্যুরালটি।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ম্যুরালটির নিচে বীরশ্রেষ্ঠদের নামের লেখাগুলো উঠে গিয়েছিলো একসময়। পরে সেগুলি কুড়িয়ে নিয়ে যায় পথ শিশুরা। এই নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নজরে আসে প্রশাসনের।

অবশেষে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে নির্মিত এই ম্যুরাল ‘সূর্য সন্তান’ ফলকের আলোকিত ও রক্ষনাবেক্ষনের কাজ শেষ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। কিন্তু আলোর ব্যাবস্থা করেও শেষ পর্যন্ত আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় ম্যুরালটি।

ম্যুরালটির পাসে কথা হয় জয় মহন্ত অলক নামের এক পথচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই অন্ধকারে ছিল সূর্য সন্তানের ম্যুরালটি। গতবছর এটার মধ্যে লাইট লাগানো হয়েছিলো, সবকিছু ঠিক করা হয়েছিলো। দেখতে সুন্দরও লাগছিল এটাকে। আমরা বন্ধুরা মিলে অনেক ছবিও তুলেছি এর পাশে দাড়িয়ে। হঠাৎ করেই কিছুদিন থেকে দেখছি এটা আবারো অন্ধকারের মধ্যে পরে আছে। দেখে খারাপ লাগলো। যদি এটাকে আবারো আলোকিত করে দেওয়া হয় তাহলে অনেক ভালো হয়। সেই সাথে যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি সোনার এই বাংলাদেশ তাদের স্মৃতিকে কেউ যেন অবমূল্যায়ন না করে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদর উদ্দীন বদর জানান, যাঁদের জন্য আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। আজ ঠাকুরগাঁওয়ে তারাই অবহেলিত। শুধু এটা নয় আজকাল মানুষদের যখন শহীদ মিনারে জুতা পড়ে আড্ডা দিতে দেখি। খুব কষ্ট লাগে । নতুন প্রজন্মের অভিভাবকরা ও তাদের সন্তানদের নৈতিকতার কি অবস্থা হয়েছে আজ। ভাষা আন্দোলনের বিষয়ে তারা কেন জানি জানতে আগ্রহী না। প্রশাসন যদি বড় মাঠের শহীদ মিনারটি সারা বছর রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব পালন করে তাহলে ভাষা শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহা.সাদেক কুরাইশী জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু এই ম্যুরালটি অন্ধকারের মধ্যে আবারো পড়ে রয়েছে, সেটাকে আলোর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আখতারুজ্জামান বলেন, এই ম্যুরালটি আলোকিত ছিলো হয়তো কোন কারনে এটি আবারো অন্ধকারের মধ্যে পড়েছে। এটি যদিও জেলা পরিষদের তত্ত্ববধানের মধ্যে পরে তবে আমরা এটার ব্যাপারে জেলা পরিষদের সঙ্গ কথা বলবো। এটি আলোকিত করতে ও এর রক্ষনাবেক্ষণে আমরা সহযোগিতা করবো। -ডেস্ক