(দিনাজপুর২৪.কম) নির্বাচন কমিশনের কাছে আওয়ামী লীগের কোনো আবদার নেই জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিরও যেন কোনো আবদার না থাকে। আর নির্বাচন কমিশন কারও ‘আবদার’ না শুনে সংবিধান অনুযায়ী যেন নির্বাচন দেয় সে অনুরোধও করেছেন তিনি। গতকাল রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন। বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম জিয়া নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছেন আওয়ামী লীগের আবদার যেন কানে না শুনেন। আমি তাকে (খালেদা জিয়া) বলতে চাই, আওয়ামী লীগের কোনো মামা বাড়ির আবদার নেই, সেটা বিএনপির থাকতে পারে। আওয়ামী
লীগ নেতা বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তারা (বিএনপি) এখন মামলা প্রত্যাহারের কথা বলছে। আমাদের একজন এমপি কারাগারে, আমরা ক্ষমতায়। তার ছয় মাসের দণ্ড হয়ে গেছে। দুই-তিনজন মন্ত্রী নিয়মিত কোর্টে হাজিরা দিচ্ছেন। আমরা তাহলে তাদের মামলা প্রত্যাহার করতে বলব না? মামলা প্রত্যাহারের সঙ্গে নির্বাচনের পরিবেশের সম্পর্ক নেই। শিক্ষকদের রাজনীতি করার কোনো দরকার নেই মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক দল সমর্থন করা যার যার অধিকার। শিক্ষকরাও সমর্থন করতে পারেন। কিন্তু শিক্ষকরা সক্রিয় রাজনীতি করলে শিক্ষার মান উন্নত হবে না। মানসম্মত শিক্ষার জন্য মানসম্মত শিক্ষকতাও দরকার। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য শিক্ষকদেরও হোমওয়ার্ক করতে হবে। তা হলে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য শুভ হবে। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার গুণগতমানের উচ্চতা? আমি সেটা মনে করি না। জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে দুজন পাস করে। এটা কোয়ালিটি শিক্ষা নয়। আমরা কোয়ালিটি শিক্ষা চাই। আমরা পরীক্ষার্থী চাই না, শিক্ষার্থী চায়। তিনি বলেন, ‘ধাজকাল তো প্রশ্নপত্র লিক হয়ে যায়। ইন্টারনেট আমাদের অনেক উন্নতি করে দিচ্ছে। সারা দেশ ডিজিটাল হচ্ছে। কিন্তু ইন্টারনেটের কিছু সমস্যাও আছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসে ইন্টারনেটের একটা ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বলবো ইন্টারেটে প্রশ্নপত্র লিকের সুযোগ তোমরা প্রত্যাখ্যান করো। জীবিকার জন্য নয়, জীবনের জন্য শিক্ষা চাই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, মাদক, ইয়াবা এবং দুর্নীতিকে না বলো। দুর্নীতি করবে না, মাদক নেবে না, মাদককে ঘৃণা করবে। তিনি বলেন, আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য শেখ হাসিনা ছাড়া আরেকজন রাজনৈতিকও মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে না। আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল এর বিরুদ্ধে কথা বলে না। আজকে ইয়াবা আমাদের তরুণ সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অথচ ইয়াবার বিরুদ্ধে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা নীরব। কোনো রাজনৈতিক নেতা ইয়াবার বিরুদ্ধে কথা বলছে না। মাদক অভিন্ন শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে যে রাজনৈতিক দল করুন না কেন। ইয়াবা আমাদের সবার শত্রু, মাদক আমাদের শত্রু। তাই এর বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে কথা বলতে হবে। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার। -ডেস্ক