(দিনাজপুর২৪.কম) রাশিয়া বিশ্বকাপ চলাকালীন শুরু হচ্ছে আফগানিস্তান-বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। যার ফলে এ সিরিজের আকর্ষণ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দিন তাই অন্য যে কোনো সিরিজের তুলনায় এ সিরিজ নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনাও কম। দর্শক, সমর্থক ও অনুরাগিদের উৎসাহ-আগ্রহ যেমনই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের আলোকে সিরিজটির গুরুত্ব আছে যথেষ্ঠই। সামনে ভরাট ক্রিকেট মৌসুম। আফগানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। তার ঠিক আগে এমন এক দলের সঙ্গে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ, যে আফগানিস্তান টেস্ট অভিষেকের প্রহর গুণছে। আগামী ১৪ জুন থেকে ব্যাঙ্গালোরের এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হচ্ছে আফগানিস্তানের। বলার অপেক্ষা রাখে না, টেস্ট মর্যাদা লাভের আগে থেকেই টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে আফগানরা টাইগারদের ওপরে। এখনো টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তান র‌্যাংঙ্কিংয়ের আট নম্বর দল। শ্রীলঙ্কা নয় আর বাংলাদেশ দশ নম্বর। কাজেই দর্শক আগ্রহ কম থাকলেও বাংলাদেশের জন্য এ সিরিজ কিন্তু কম গুরুত্বের নয়। বরং এতে একটা অন্যরকম চ্যালেঞ্জ আছে। কাজেই আফগানদের সঙ্গে ভালো খেলার ও জেতার তাগিদ আছে। তবে র‌্যাংকিংয়ে আফগানিস্তান এগিয়ে থাকলেও একটা আশার কথা হলো, বাংলাদেশ দুই মাস আগে শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে এই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে; শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে। দুই পর্বের ফিরতি রাউন্ড রবিন লিগে প্রতিবার লঙ্কানদের হারিয়ে ভারতের সঙ্গে ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ।
শুধু ফাইনাল খেলাই নয়, ম্যাচের শেষ ওভার শুরুর আগেও সম্ভাব্য বিজয়ী দল ছিল বাংলাদেশ; কিন্তু শেষ পর্যন্ত দিনেশ কার্তিকের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে শেষ বলে দুঃখজনক হার সঙ্গী হয়ে আছে সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের। এর পর ঘরে ফিরে ক্রিকেটাররা প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগের বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছেন। তারপর প্রথম শ্রেণির আসর- বিসিএলেও চার দিনের ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। মোট কথা, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের চর্চা না হলে ঘরের মাঠে খেলার মধ্যেই ছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের কোনো আসর হলে হয়ত ক্রিকেটারদের চেয়ে নির্বাচকদের কাজটা সহজ হয়ে যেত। তারা দেখে, শুনে ও বুঝে দল সাজাতে পারতেন। এখন নিদাহাস ট্রফির পারফরমেন্স দেখেই আজ দল চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে দল গঠন প্রক্রিয়া শেষ। গতকালই দল জমা পড়ছে বোর্ডে। আজ রোববার বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন অনুমোদনে বিসিবি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষনা করবে আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল।
যথারীতি ক্রিকেটার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচকরা সতর্ক, সাবধানি। তবে সব কিছু ঠিক থাকলে স্কোয়াড হবে ১৫ সদস্যের। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এবং অপর নির্বাচক হাবিবুল বাশার কারো মুখ দিয়ে একটি কথাও বের হয়নি। তবে তাদের অতি কাছের সূত্র নিশ্চিত করেছেন, নিদাহাস ট্রফি থেকে দলে দুটি পরিবর্তন আসছে। বাঁ-হাতি ওপেনার ইমরুল কায়েস আর ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ সম্ভবত বাদ যাচ্ছেন এই সিরিজ থেকে। ভেতরের খবর, ইমরুল ও তাসকিনকে বাইরে রেখেই দল সাজানো হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, নিদাহাস ট্রফিতে দল ছিল ১৬ জনের। আর এবার দল হবে ১৫ জনের। তার মানে দু’জন বাদ গেলে তো আরও একজনের অন্তর্ভুক্তি ঘটবে। ঘটাতেই হবে। তিনি কে?তা নিয়ে খানিক সংশয় আছে। তবে প্রধান নির্বাচকের একটি মন্তব্যে অবশ্য অনেক সংশয় দূর হয়ে গেছে। গতকাল  তিনি একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমরা এমন কাউকে নিতে চাই না, যে টিম কম্বিনেশনে প্রথম একাদশে থাকবে না। বিকল্প পারফরমার হয়ে দলে থাকে। তার চেয়ে সে যদি টেস্ট পারফরমার বা স্পেশালিস্ট হয়, তাহলে তাকে দেরাদুন নিতে চাই না। বরং তাকে আফগানিস্তানের কিপক্ষে বসিয়ে না রেখে দেশে টেস্ট দলের প্র্যাকটিসে রাখাকেই বেশি অর্থপূর্ণ মনে করি আমরা। প্রধান নির্বাচক কারো নাম না বললেও বোঝাই যায়, ইঙ্গিতের তীরটা ইমরুল কায়েসের দিকে। যাকে এখনো টেস্টে তামিম ইকবালের সঙ্গী ভাবা হয়। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এ বাঁ-হাতি ওপেনার সৌম্য সরকার আর লিটন দাসের বিকল্প। তারা খারাপ খেললে, কিংবা আহত হলেই হয়ত ইমরুলকে বিবেচনায় আনা হয়। কাজেই ইমরুলকে দলে না নিয়ে দেশে টেস্টের জন্য প্রস্তুত করার কথা ভাবা হচ্ছে। সম্ভবত সেটাই হবে। আর দ্রুত গতির বোলার তাসকিন আহমেদের পিঠে সমস্যা ছিল। তা নিয়ে প্রাথমিক ক্যাম্পে জায়গা পেলেও এখনকার খবর, এবার আর তাসকিনকে আফগানদের বিপক্ষে বিবেচনায় আনা হচ্ছে না। এদিকে দলের গঠন শৈলিও মোটামুটি চূড়ান্ত। ১৫ জনের দলে চার পেসার। মিডল অর্ডার কাম স্লো মিডিয়াম আরিফুল অবশ্য এ চার জনের বাইরে।অর্থাৎ চারজন পেসার থাকবেন দলে। নিদাহাস ট্রফিতে তাসকিনসহ ছিলেন পাঁচজন (রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, আবু জায়েদ রাহি ও আবু হায়দার রনি)। এখন তাসকিন বাইরে চলে গেলে ওই চারজনই থাকবেন। কাজেই বাইরে থেকে কারো অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা শুন্যের কোটায়। তাহলে ১৫ জন সদস্য কেন হবে? প্রধান নির্বাচকের একটি আভাসে তৈরি হয়েছে জটিলতা। তিনি বলে দিয়েছেন, টি-টোয়েন্টিতে অটোমেটিক চয়েজ নয়- তাদের ব্যাকআপ পারফরমার হিসেবে দেরাদুনে না নিয়ে দেশে প্র্যাকটিস করার জন্য রেখে যাবার কথাই ভাবা হচ্ছে। তাহলে ১৫ নম্বরে যাবেন কে? মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আর মোহাম্মদ মিঠুনের যে কোনো একজন হয়ত হবেন।কিন্তু জোর গুঞ্জন আছে, মোসাদ্দেককে হয়ত ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট দলে নেয়া হবে। তাহলে কি মোহাম্মদ মিঠুন? না অন্য কেউ? সে ক্ষেত্রে পেস বোলার কাম হার্ড হিটার আবুল হোসের রাজু দলে ঢুকে যেতে পারেন। -ডেস্ক