-ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আজ (বৃহস্পতিবার)। গত ২৮ নভেম্বর ধার্য তারিখ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল সোয়া ৯টায় আদালত বসবেন। আজকের এই শুনানিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পুলিশ। র‌্যাব সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দ-প্রাপ্ত খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়া হয়েছে মানবিক কারণে, মামলায় দ-াদেশের ভিত্তিতে নয়। তাই তার আইনজীবীরা আশা করছেন, মানবিক বিবেচনায় আপিল বিভাগ হয়তো খালেদা জিয়াকে আজ জামিন দেবেন। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বয়োবৃদ্ধ একজন নারী-এই কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়া হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় চাওয়া এই জামিন আবেদন সুপ্রিমকোর্টে নাকচ হয়ে গেলে রাজপথে আন্দোলনে যাবে-মর্মে বিএনপি’র পক্ষ থেকে হুমকি রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আজকের শুনানি এবং আদেশকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। আদালত অঙ্গন থেকে এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তে পারে রাজপথে। এরই সতর্ক ব্যবস্থা হিসেবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর এই প্রস্তুতি। প্রস্তুতির মধ্যে গতকাল বুধবার থেকে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে বাড়তি গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সন্ধ্যা নাগাদ বাড়ানো হয় পোশাকী পুলিশ। সেই সঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিশও বাড়ানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট কম্পাউন্ডে প্রবেশের ৫টি গেটেই বসানো হয়েছে বাড়তি প্রহরা। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রবেশদ্বারেও নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আজ আইনজীবী, আইনজীবীদের সহকারী, আদালত সহায়ক কর্মচারী-ইত্যাদি পরিচয় নিশ্চিত হয়েই উচ্চ আদালত প্রাঙ্গনে প্রবেশ করতে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। বিচারপ্রার্থীদের চলাচলও সীমিত থাকবে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতার কারণে গতকাল বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে বিচরণ ছিলো স্বাভাবিকের চেয়ে কম। সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে স্কয়ার হাসপাতাল এলাকায় আটক করে কলাবাগান থানা পুলিশ। তিনি বিএনপি’র আইনবিষয়ক সম্পাদক। তবে পরকীয়ার ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানান কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিতোষ চন্দ্র। তাকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপিপন্থী অনেক আইনজীবী নেতাই গতকাল বাসায় থাকেননি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় তাদের গ্রেফতার করে বলে জানায় সূত্রটি। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যত কড়াকড়িই হোক-মাঠ পর্যায়ের আইনজীবীরা আদালত অঙ্গনে প্রবেশের চেষ্টা করবেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটির ওপর শুনানির তারিখ ছিলো। ওইদিন আপিল বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কারান্তরীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন তলব করেন। এ প্রেক্ষিতে আজ সরকারের পক্ষে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপনের কথা।

এদিকে বিএসএমইউ’র একটি সূত্র জানায়, মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন ্এখনো প্রণয়ন করেনি। নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন তৈরির পর আদালতে দাখিল করবে। এ জন্য আজ আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করতে পারে।

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছর দ-িত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হয় ১৪ নভেম্বর। ১৭ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বারকোর্ট আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জামিন আবেদনটি আপিল বিভাগ গত ২৮ নভেম্বর শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানির এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত সর্বশেষ অবস্থা বোঝার জন্য মেডিকেল রিপোর্ট তলব করেন। সেই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন ৫ ডিসেম্বর। ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, মো. জয়নুল আবেদীন, এ. জে. মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান প্রমুখ।-ডেস্ক