(দিনাজপুর২৪.কম) আপন জুয়েলার্সের ৫টি শোরুম থেকে জব্দ করা সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণালঙ্কার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খান।
৪ জুন রবিবার সকাল ৯টায় ঢাকা কাস্টমস হাউসের মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কারগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
মইনুল খান বলেন, ‘জব্দ করা সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণালঙ্কারের সবগুলোই অবৈধ। আপন জুয়েলার্সের ৫টি শোরুম থেকে সেগুলো জব্দ করা হয়েছিল। আপন জুয়েলার্সের পক্ষ থেকে গত ২০ দিনেও এই স্বর্ণের বিষয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণালঙ্কারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে হস্তান্তর করা হবে।’
এরপর শুল্ক ও গোয়েন্দা আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের এই কর্মকর্তা।
বনানীতে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের বাবা দিলদার আহমেদ আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক। এই পরিবারের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ থাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে একটি অনুসন্ধান কমিটি করে তদন্ত শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।
শুল্ক গোয়েন্দারা গত ১৪ ও ১৫ মে আপন জুয়েলার্সের গুলশান ডিসিসি মার্কেট, গুলশান এভিনিউ, উত্তরা, সীমান্ত স্কয়ার ও মৌচাকের ৫টি শো-রুমে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ১৩ মণ সোনা ও ৪২৭ গ্রাম হীরা আটক করেন, যার দাম প্রায় ১৭৯ কোটি টাকা।
পরে এসব স্বর্ণালঙ্কার আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জিম্মায় দিয়ে শো-রুমগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়। সোনা-গহনার বৈধতার কাগজপত্র দেখাতে আপন জুয়েলার্সের মালিকপক্ষকে তলব করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
দুই দফায় শুল্ক গোয়েন্দাদের মুখোমুখি হয়েও স্বর্ণালঙ্কারের বৈধতার পক্ষে তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে মইনুল খান আগেই জানিয়েছিলেন।
গত মঙ্গলবার দিলদারদের তিন ভাইকে শেষবার জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি বলেন, ‘২০০ জন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ২০০ গ্রাম করে স্বর্ণ বহন (ব্যাগেজ রুলে) করেছেন এমন কাগজের ফটোকপি দেখিয়েছে তারা। কিন্তু ওই ব্যক্তিদের কাছ থেকে তারা এই সোনাগুলো কিনে নিয়েছেন কিনা এমন কোনো রশিদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
এ ছাড়া আপন জুয়েলার্সের মালিকরা আয়কর ও ভ্যাটের দলিলে যে পরিমাণ স্বর্ণ মজুদ থাকার কথা বলেছেন, তার সঙ্গে আটক স্বর্ণের পরিমাণের বিস্তর ফাঁরাক রয়েছে বলে জানান মইনুল খান।
আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলার মধ্যেই তাদের কাছে সোনা গচ্ছিত রাখা ব্যক্তিদের সোনা বুঝে নিতে বলে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। ১৮২ জন সেখানে সোনা রাখার দাবি করেন। তাদের ৮৫ জনকে আটক সোনার মধ্য থেকে ২ দশমিক ৩৩ কেজি সোনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দিলদারের ছেলে সাফাত ও তার বন্ধুরা গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের দাওয়াতে ডেকে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করে অভিযোগ তুলে গত ৬ মে থানায় মামলা হয়।
এই মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফ এবং সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও তার দেহরক্ষী রহমত আলী।
এদের মধ্যে সাফাত ও নাঈমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দুই ছাত্রীর। বাকিরা তাদের সহযোগিতা করেন বলে মামলায় বলা হয়।
সাফাতসহ ৫ আসামিকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাফাত ও নাঈম ‘দোষ স্বীকার’ করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। -ডেস্ক