(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন ছিল, তা শেষ হওয়ার পর ঢাকা এরই মধ্যে অনেকটা আগের রূপে ফিরে এসেছে। সড়কে অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে শুরু করা হয়েছে ট্রাফিক সপ্তাহ – শহরের বিভিন্ন রাস্তায় কিংবা রাস্তার মোড়ে মোটরসাইকেল ও গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করছেন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই গত রোববার শুরু হয় ট্রাফিক সপ্তাহ এবং এরপর থেকে দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-তে বেড়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির ভিড়। বিআরটিএ বাংলাদেশে যানবাহনের লাইসেন্স দেয়া সহ বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ করে। বুধবার দুপুরের দিকে বিআরটিএ’র মিরপুর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা গেল বাস, প্রাইভেট কার, জিপসহ বিভিন্ন গাড়ির দীর্ঘ লাইন। দুটো গেটের সামনেই দেখা যায় বিআরটিএ’র কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতি। গাড়িগুলো যেন শৃঙ্খলা বজায় রেখে এক গেট দিয়ে ঢুকতে পারে এবং বের হওয়ার সময়ও যাতে কেউ লাইন না ভাঙে, সেই চেষ্টাই করতে দেখা যায় কর্মকর্তাদের। কার্যালয়ের ভেতরেও ছিল মোটরসাইকেল ও গাড়ি সহ মানুষের বিপুল সমাগম। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিআরটিএ’র একাধিক কর্মকর্তা জানান, কয়েকদিন ধরে যেসব গাড়ি এসে বিআরটিএ’তে ভিড় জমাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই আসছে ফিটনেস ও লাইসেন্স সংক্রান্ত কাগজ ঠিক করাতে। আবার কেউ এসেছেন ডিজিটাল নম্বর প্লেট, ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্ড করাতে, কেউবা এসেছেন লার্নার কার্ডের জন্য। তবে গাড়ির ফিটনেস ও লাইসেন্স এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজ করাতেই এসেছেন বেশিরভাগ মানুষ। প্রতিটি বুথেই ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। বিআরটিএ’র ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করেই ভিড় বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। গেইটের বাইরেও ছিল সুযোগসন্ধানীদের ভিড় – এরা দালাল যারা পয়সার বিনিময়ে দ্রুত কাজ করিয়ে দেয়।

‘ভিডিওতে কথা বলা যাবে না আপা’

বিআরটিএ’র কর্মকর্তাসহ যেসব সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এসেছেন তাদের অনেকের সঙ্গে আমি কথা বলতে চেয়েছি একটি ফেসবুক লাইভ করার জন্য। “ভিডিও হলে কথা বলা যাবে না আপা,” এমন কথা বলে প্রায় সবাই সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে ‘অফ দ্য রেকর্ড’ অর্থাৎ নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই কথা বলেছেন।সদ্য লাইসেন্স নেয়া এক ভদ্রলোক যেমন বলছিলেন, “আপা কথা বলতেতো এখন ভয় লাগে, কিছু বলবো না, যদি ধরে নিয়ে যায়”।

কয়েকজন বলছিলেন, “বিআরটিএ-তে কোনো কাজ ঠিকভাবে করা যায় না, এখানে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। এজন্য এখানে দালালদের ধরে মানুষ”।

বিভিন্ন বুথসহ ওই এলাকার আশেপাশের রাস্তাতেও ছিল বিআরটিএ’র সেবা প্রত্যাশীদের ভিড়।
যে কয়েকজনের সাথে কথা বলতে পেরেছি তাদের মধ্যে কোম্পানির গাড়ির কাগজ ঠিক করতে আসা মানুষ ছিলেন। -ডেস্ক