-পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) করোনা ভাইরাসের কারণে একের পর এক দ্বিপক্ষীয় সিরিজ স্থগিত হয়ে গেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের। এশিয়া কাপ এবং আইসিসির মেগা ইভেন্ট টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও অনিশ্চয়তার মুখে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য তামিম, মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহদের তাই অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে। সবশেষ শ্রীলংকা সফর স্থগিত হওয়ায় এ বছর বাংলাদেশের আর কোনো টেস্টই খেলা হবে না। সাদা পোশাকে মাঠে নামার জন্য টাইগারদের অপেক্ষা করতে হবে আরও ৬ মাস। আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচি (এফটিপি) অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে উইন্ডিজরা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে এবং ২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে তারা।

প্রথমবারের মতো ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ১০টি টেস্ট খেলার সুযোগ ছিল মুমিনুলদের সামনে। তবে মাত্র দুই টেস্ট (পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে) খেলেই তৃপ্ত থাকতে হচ্ছে টাইগারদের। করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে যায় মার্চের শেষে পাকিস্তান সফর। ওই সফরে একটি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে জুনে অস্ট্রেলিয়া, জুলাইয়ে শ্রীলংকা এবং আগস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ স্থগিত হয়ে গেছে।

বলে রাখা ভালো, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২টি, শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩টি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২টি টেস্ট ম্যাচ ছিল। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এ সিরিজগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। এ সিরিজগুলো আয়োজনে বিসিবিকে নতুন স্লট খুঁজে নিতে হবে। কাজটা খুব একটা সহজ হবে না। কেননা আগামী বছরের জুনে শেষ হবে বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রটা; যা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। এখন আইসিসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এসব টেস্টের ভাগ্য।

এ বছর টাইগারদের আর কোনো টেস্টই খেলা হবে না। তবে টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে। এফটিপি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অক্টোবরে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এর পর ডিসেম্বরে শ্রীলংকার বাংলাদেশ সফর দিয়ে এ বছরের ক্রিকেট ক্যালেন্ডার শেষ হবে তামিম, মুশফিদের। লংকানদের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আয়োজক বাংলাদেশ। নতুন বছরের শুরুটাই হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে টাইগারদের সামনে এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও রয়েছে। তবে করোনা ভাইরাস বাস্তবতায় এই দুই টুর্নামেন্টও পিছিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বছর টাইগাররা সবশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে মার্চে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এর পর ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেন তারা। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে প্রথম রাউন্ড শেষেই অনির্দিষ্টকালের জন্য লিগ বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর পর থেকেই ঘরবন্দি খেলোয়াড়রা। লিটন, সৌম্য, মোস্তাফিজরা বাসায় থেকে ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন। রোজার ঈদের ছুটি শেষে সরকারি নির্দেশে অফিস খুলেছে। তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখনই মাঠে ফিরছে না ক্রিকেট।

এদিকে ক্রিকেটারদের জন্য করোনা অ্যাপ বানিয়েছে বিসিবি। ‘এজ টেন’ নামক সফটওয়্যার বা অ্যাপের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিসিবির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পুলের ৪০ জন ক্রিকেটার থাকছেন এর আওতায়। তবে এর পরিধি আরও বাড়তে পারে। -ডেস্ক