তপন কুমার সসরকার (দিনাজপুর২৪.কম) নওগাঁর আত্রাইয়ে দিনের পর দিন বাড়ছে লোডশেডিং। কাটতেই চাচ্ছে না লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের এর যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছে মানুষ। বিদ্যুতবিহিন ভ্যাপসা গরম যন্ত্রনার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুন।
শুধু মাত্র উপজেলা সদর এলাকার সঞ্চালন লাইনটি ভিন্নতার কারণে লোডশেডিংয়ের হার তুলনামূলক কিছুটা কম হলেও গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরো ভয়াবহ। গ্রামে সন্ধা হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। আকাশে সামান্য মেঘ দেখা দিলেই সেদিন আর বিদ্যুতের আলো দেখেনা গ্রামের গ্রাহকরা। দিন কি রাত সমান তালে চলছে লোডশেডিং। গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং এর মাত্রা এত ব্যাপক যা মানুষের ধৈর্য্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি১-এর অধিনে আত্রাই সাব জোনাল অফিসের আওতাধীন প্রায় ৪৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তাদের জন্য প্রায় ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় মাত্র ৩থেকে ৩.৫ মেগাওয়াট। ফলে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ বঞ্চিত থাকতে হয় আত্রাই বাসিকে। এর ফলে এখানকার ইলেক্ট্রনিক্স, প্রিন্টিং, পোল্ট্রি, চা, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় এর প্রভাব পড়ছে বেশী। বিদ্যুতের ঘন ঘন ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ গ্রাহকদের ক্ষোভের সীমা নেই।
উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক এম এ কাওছার বলেন, আত্রাইয়ে বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল কলেজের কোমল মতি শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে প্রাইমারী লেভেলের কচিকাচা শিশুরা প্রচন্ড গরমে ও অব্যহত লোডশেডিংয়ের কারনে শ্রেনী কক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন কোন না কোন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেনী কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদেও বৈদ্যুতিক সেবা দিতে ব্যর্থ হলেও থেমে নেই নতুন সংযোগ দেয়ার কার্যক্রম।
অব্যহত লোডশেডিংয়ের ব্যাপারে যোগাযোগ করলে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুত সমিতির আত্রাই সাব জোনাল অফিসের এজিএম মোঃ ফিরোজ জামান বলেন, আমার দায়িত্ব প্রাপ্ত এলাকায় ১০-১১মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমি পাই মাত্র ৩থেকে ৩.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। চাহিদামত পেলে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ রাখা সম্ভব হবে। এর মধ্যে মেইন লাইনে বিভিন্ন সমস্যাতো রয়েছেই।