সুকুমার দাস বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেষা বালিয়া (ভুড়ভুসী ডাঙ্গা) গ্রামে ভয়াবহ এক অগ্নিকান্ডে ১৩ পরিবারের ৪০টি কাঁচা-পাঁকা ঘর সম্পুর্ন পুড়ে গেছে। অগ্নিকান্ডের হাত থেকে রক্ষা পেতে আরো প্রায় ১০/১২টি পরিবারের বেশ কিছু বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চার ঘটিকা নাগাদ ওই গ্রামের জনৈক বাচ্চু বর্মনের বাড়ি সংলগ্ন আবর্জনার স্তুপ হতে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়। চলমান বৈরী আবহাওয়ায় আগুনের লেলীহান শিখা মুহুর্তেই সমস্ত গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাচ্চু বর্মনের তেমন ক্ষতি না হলেও ওই গ্রামের সংসারু বর্মন, বাবুল চন্দ্র, রবি বর্মন, অর্জুন বর্মন, সুরেন্দ্র নাথ, নারদ বর্মন, ডোল গোবিন্দ বর্মন, শুকরু বর্মন, দেবলাল বর্মন, রনজিত বর্মন, কালী প্রসাদ বর্মন, ভবেশ চন্দ্র ও বাজারু বর্মন উল্লেখযোগ্য।
অগ্নিকান্ডে বিভিন্ন শ্রেণীতে অধ্যয়নরত প্রায় ৩৫ শিক্ষার্থীর বই-পুস্তক, নগদ ৩/৪ লক্ষাধিক টাকা, জমির দলিল, ধান-চাল, সোনার গহনা সহ বাড়ি-ঘরে অবস্থিত সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে সরকারী অনুদান পৌছানোর পূর্বেই তাদের অসহায় অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবার প্রতি দেড় বান্ডিল ঢেউটিন ও রান্নার ব্যবস্থা সহ ৩ দিনের খাবারের বন্দোবস্ত করে দেন পার্শ্ববর্তী পাল্টাপাড়া গ্রামের মৃত: মো: আফতাবর রহমানের ছোট ছেলে মো: কামরুজ্জামান কামু (মিলার)। এদিকে পাল্টাপাড়া বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মৃত: বীর মুক্তিযোদ্ধা কমলা কান্ত বর্মনের বড় ছেলে প্রদীপ কুমার বর্মন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে একশত পিস শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেন।
উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন না থাকায় প্রায় ৩০ কি:মি: দূর থেকে পঞ্চগড় সদর হতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে পুড়ে যাওয়া ঘর-বাড়ির আগুন নেভাতে সাহায্য করে। অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে স্থানীয় বি,জি,বি ক্যাম্পের সদস্যরা ছাড়াও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছান।