সুকুমার দাস বাবু, পঞ্চগড় (দিনাজপুর২৪.কম)  পঞ্চগড় আটোয়ারী উপজেলার ৮নং দারখোর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হযবরল অবস্থা এমনি একটি অভিযোগ উঠেছে। এলাকা সূত্রে জানাযায় জাদববাটি গ্রামের হামিদুল ইসলামের ছেলে ডুংডুংগী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মোঃ লুসান আলীকে গত ০৭/০৩/২০১৮ইং তারিখ দুপুর ১.১০ ঘটিকায় ৮নং দারখোর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেওয়ালে কে বা কাহারা বিভিন্ন ধরনের লেখা লেখি করে। সেই সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও মোছাঃ সাবা বিদ্যালয় পড়–য়া ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মোঃ লুসান বিদ্যালয় হতে বাড়ি ফেরার পথে পথ রোধ করে বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে বেধরক মারধর করে। ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করতে গেলে ০৮/০৩/২০১৮ইং তারিখ সকাল ৯.২০ ঘটিকার সময় বিদ্যালয় মাঠে ৩/৪টি ছাত্র/ছাত্রী খেলা ধুলা করে। কিছুক্ষন পরে মাঠে কয়েকজন কৃষক এসে জানায় এই বিদ্যালয়ে অনেক অনিয়ম, দেখার কেউ নেই। (তুমার কাম পাননি এত সকালে স্কুলত আইচেন স্কুলডা ১১টা ছাড়া খুলেই না)। তারা অভিযোগ করে বলে বিদ্যালয়ের প্রতিনিয়তই শিক্ষকেরা নিজের খেয়াল খুশিমত বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে। সরকারী বিধি মতাবেক সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান করার নিয়ম থাকলেও তারা নিয়ম ভঙ্গকরে পাঠদান করাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ আমির হোসেন তার নাতিকে সকাল ১০.১৫ মিনিটে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন, তখনো বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষক উপস্থিত হয় নি। তিনি এসে গনমাধ্যম কর্মীদেরকে দেখতে পেয়ে তিনি বলেন এই বিদ্যালয়ের অনেক সমস্যা সময়মত কোন শিক্ষকই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় না। এ অবস্থায় বিদ্যালয় চলতে থাকলে ছাত্র/ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। সভাপতি বলেন আমরা এই বিষয়ে অনেকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবগত করেছিলা, কিন্তু তারা কোন কর্ণপাত করেন নি। তাৎক্ষনিক ভাবেই সভাপতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহবদ্দীনকে মুঠো ফোনে বিদ্যালয়ে আসার জন্য ডেকে নেন। ইতি মধ্যেই সহকারী শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন ১০.২৫ মিনিটে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তিনি বলেন আমি অসুস্থ ছিলাম তাই আসতে দেরি হয়েছে। তাৎক্ষনিক সভাপতি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল লতিফকে বিদ্যালয়ের বিষয়টি অবগত করেন। মোঃ আব্দুল লতিফ গণমাধ্যম কমীর সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি বলেন আপনারা পারলে লেখা লেখি করেন আমার কিছুই করার নেই, আমি দেখব অফিসের কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা বলে ফোন কেটে দেন। সহকারী শিক্ষক মোছাঃ সাবা তিনি ১০.৩২ মিটিটে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তিনি গণমাধ্যম কমীদের জানান আমার দাদী ভিষন অসুস্থ তাই বিদ্যালয়ে আসতে দেরি হয়েছে। ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবক বৃন্দ জানায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এটা নতুন কিছু নয় প্রায় তারা দেরিতে আসে। এই বিদ্যালয়ের কোন নিয়ম নীতি নেই। ১০.৩৫ মিনিটে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহবদ্দিন তড়িঘরি মটরসাইকেল যোগে এসে অফিস রুমে প্রবেশ করে পতাকা বের করে পতাকা উত্তোলন করে এবং সাথে সাথে টয়লেট পরিস্কার করতে যান। তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন আজকে আমাদের মা সমাবেশ পালন করা হবে এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, শাহবদ্দিনকে জানায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে। কিন্তু আপনদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা খাদিমুল ইসলাম তার নাতীকে বিদ্যালয়ে পাঠ দানের জন্য নিয়ে আসেন। তিনি বলেন সভাপতি ঠিক থাকলে আজকে বিদ্যালয়ের নিয়ম-নীতি ঠিক থাকতো। আপনারা নিজেই বিদ্যালয়ে এসে দেখলেন নিজের খেয়াল খুশিমত কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপসারন দাবী করছি। উল্লেখ যে, এই শিক্ষক এই বিদ্যালয়ে থাকলে ছাত্র/ছাত্রীরা ভাল শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে না।