(দিনাজপুর২৪.কমআজ থেকে দ্বিতীয় ধাপে গ্যাসের বাড়তি মূল্য কার্যকর হতে যাচ্ছে।  এর আগে গত ২৩ ফেব্রয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভোক্তা পর্যায়ে দুই দফায় গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল। মূল্য বৃদ্ধির এই ঘোষণার পর প্রায় সব মহল থেকেই সরকারি এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। ভোক্তা সাধারণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানানো হয়। রাজপথে সভা-সমাবেশ থেকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানায় ভোক্তারা। এসব প্রতিবাদের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকরে যাচ্ছে সরকার।

দুই ধাপে তারা ৮ খাতে গড়ে ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ দাম বাড়িয়েছিল। প্রথম দফার দাম কার্যকর হলেও আদালতের রায়ে আটকে যায় দ্বিতীয় দফার (১ জুন) দাম।  শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে আবার সে আদেশ স্থগিতও হয়ে যায়।

বিইআরসি বলছে, এই অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বাড়াতে আর কোনো বাধা নেই।

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মশিউর রহমান জানান, ১ জুন থেকেই তারা দ্বিতীয় দফায় বাড়তি গ্যাসের দাম কার্যকর করবেন। বিইআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এই দাম কার্যকর করবেন বলেও জানান তিনি।

দ্বিতীয় দফায় দাম বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ায় দুই চুলার গ্যাসের দাম পড়বে ৯৫০ টাকা আর এক চুলা ৯০০ টাকা। বাণিজ্যিকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম হবে ১৭ দশমিক ০৪ টাকা, সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার হবে ৪০ টাকা।

ক্যাপটিভ পাওয়ার প্রতি ঘনমিটার ৯ দশমিক ৬২ টাকা, বিদ্যুৎ খাতের গ্যাসের দাম হবে ৩ দশমিক ১৬ টাকা, চা-বাগানে গ্যাসের দাম হবে ৭.৪২ টাকা, সার কারখানায় ২ দশমিক ৭১ টাকা, শিল্পে ৭ দশমিক ৭৬ টাকা। এ ছাড়া গৃহস্থালি কাজে মিটার ব্যবহারকারীদের দাম হবে ১১ দশমিক ২০ টাকা।

জানা গেছে, দ্বিতীয় দফায় মূল্য বৃদ্ধির আদেশ কার্যকর হওয়ার ফলে বছরে সরকারের অতিরিক্ত আয় হবে ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। এর ৮১ শতাংশ অর্থ যাবে সরকারি কোষাগারে। বাকি ১৯ শতাংশ অর্থ যাবে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানির কোষাগারে। অন্যান্য কোম্পানির আয় দিয়ে সরকারের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকা- পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, মূল্যবৃদ্ধির ফলে গত ১ মার্চ থেকে আবাসিক খাতে দুই চুলার জন্য হয় ৮০০ এবং এক চুলার জন্য ৭৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু তিন মাস যেতে না যেতে দ্বিতীয় ধাপে বৃহস্পতিবার থেকে দাম আরও বাড়বে। এসময় থেকে দুই চুলার জন্য ৯৫০ এবং এক চুলার জন্য ৯০০ টাকা দিতে হবে।

মার্চের আগে এক চুলার জন্য ৬০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৬৫০ টাকা দিতে হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে এক লাফে দাম বেড়ে গেছে ৩০০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য খাতে যেমন বিদ্যুৎ, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সার, শিল্প, চা-বাগান, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও গৃহস্থালিতে মিটার ব্যবহারকারীদের জন্যও একই হারে দাম বাড়ানো হয়েছে।

বাণিজ্যিকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের জন্য ১১ দশমিক ৩৬ টাকা থেকে বেড়ে মার্চে হয়েছিল ১৪ দশমিক ২০ টাকা। এখন জুন থেকে হবে ১৭ দশমিক ০৪ টাকা। সিএনজির দাম ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে মার্চে হয়েছিল প্রতি ঘনমিটারে ৩৮ টাকা। এখন জুনে আরও বেড়ে হচ্ছে ৪০ টাকা।

ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১ মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটারের দাম বেড়ে হয়েছিল ৮ দশমিক ৯৮। এখন ১ জুন থেকে হবে ৯ দশমিক ৬২ টাকা। বিদ্যুৎ খাতের গ্যাসের দাম মার্চ থেকে বেড়ে হয়েছিল ২ দশমিক ৯৯ টাকা আর জুন থেকে হচ্ছে ৩ দশমিক ১৬ টাকা।

চা-বাগানে গ্যাসের দাম মার্চ থেকে বেড়ে হয়েছিল ৬ দশমিক ৯৩ টাকা আর ১ জুন থেকে হচ্ছে ৭ দশমিক ৪২ টাকা। সার কারখানায় মার্চে বেড়ে হয়েছিল ২ দশমিক ৬৪ টাকা এবং জুন থেকে হচ্ছে ২ দশমিক ৭১ টাকা। শিল্পে গ্যাসের দাম মার্চে বেড়ে হয়েছিল ৭ দশমিক ২৪ টাকা আর জুনে হচ্ছে ৭ দশমিক ৭৬ টাকা।

এছাড়া গৃহস্থালি কাজে মিটার ব্যবহারকারীদের দাম বেড়ে মার্চে হযেছিল ৯ দশমিক ১০ টাকা। এখন ১ জুন থেকে হচ্ছে ১১ দশমিক ২০ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন দুই চুলার বিল ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা আর এক চুলার বিল ৪০০ টাকা থেকে বড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছিল। -ডেস্ক