(দিনাজপুর২৪.কম) আজ বৃহস্পতিবার খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মিশুক মুনিরের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় মোট ৫ জন নিহত হন। নতুন চলচ্চিত্র ‘কাগজের ফুল’-এর শুটিংয়ের স্থান দেখতে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির সহকর্মীদের নিয়ে মানিকগঞ্জে যান। ফেরার পথে মানিকগঞ্জেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনিরসহ নিহত চলচ্চিত্রকর্মীর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। দিনটি উপলক্ষে মিশুক মুনিরের সাবেক কর্মস্থল এটিএন নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এছাড়া মিশুক মুনিরের পরিবারের পক্ষ থেকেও এদিন বিকেলে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
এ উপলক্ষে ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ (এফএফএসবি) ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী যৌথভাবে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির স্মরণে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। একাডেমীর জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে বিকেল সাড়ে ৪টায় ‘রানওয়ে’ ও সন্ধ্যা ৬টায় স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নরসুন্দর’ এর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনিরসহ নিহত চলচ্চিত্রকর্মীদের স্মরণে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্¦লন করা হবে। এদিকে একই স্থানে সন্ধ্যা পৌণে ৭টায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রামাণ্যচিত্র ‘আদম সুরত’ এর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। তারেক মাসুদ ১৯৮৫ সালের শেষ দিকে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানকে নিয়ে নির্মাণ করেন জীবনের প্রথম প্রামাণ্যচিত্র ‘আদম সুরত’। এরপর ১৯৯৫ সালে নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধের ঘটনানির্ভর দু’টি প্রামাণ্যচিত্র ‘মুক্তির গান’ ও ‘মুক্তির কথা’।
তারেক মাসুদ ২০০২ সালে নির্মাণ করেন প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘মাটির ময়না’। মুক্তিযুদ্ধ আশ্রিত নান্দনিক এ সিনেমা কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি জিতে নেয় সমালোচক পুরস্কার। এছাড়া প্রথম বাংলাদেশী সিনেমা হিসেবে অস্কার প্রতিযোগিতায় বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ২০০৪ সালে ছবিটি ব্রিটেনের ডিরেক্টরস গিল্ড পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। এর পর তারেক মাসুদ ২০০৬ সালে নির্মাণ করেন ‘অন্তর্যাত্রা’। সর্বশেষ নির্মাণ করেন ‘রানওয়ে’ ছবিটি। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নতুন ছবি ‘কাগজের ফুল’ নির্মাণের। এ ছাড়াও তারেক মাসুদের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছে- ‘সোনার বেড়ি’ ‘একুশে’ ও ‘নরসুন্দর’। স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ ও তারেক মিলে ঢাকায় গড়ে তুলেছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান অডিও ভিশন।
১৯৫৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায় তারেক মাসুদের জন্ম। তারেক মাসুদের শৈশবে শিক্ষাজীবন শুরু হয় মাদ্রাসায়। ভাঙ্গা ঈদগাঁহ মাদ্রাসায় প্রথম পড়াশোনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। ১৯৮৯ সালে বিয়ে করেন ক্যাথরিন মাসুদকে, তিনি একজন মার্কিন নাগরিক । তাদের একমাত্র সন্তান মাসুদ নিষাদ।
অন্যদিকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মিশুক মুনির শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনির চৌধুরীর ছেলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পাঠ চুকিয়ে ওই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি ক্যামেরা হাতে কাজ করা ছিল তার আনন্দ। পুরো নাম আশফাক মুনীর চৌধুরী। চিত্রগ্রাহক ও স¤প্রচার সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মিশুক মুনীর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিবিসির হয়ে কাজ করেন। একুশে টেলিভিশন চালু হলে এ অঙ্গনের অন্যতম যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পান সংবাদ বিভাগ পরিচালনার। প্রখ্যাত সাংবাদিক সায়মন ড্রিংয়ের সঙ্গে গড়ে তোলেন এ প্রতিষ্ঠানটি। -ডেস্ক