1. dinajpur24@gmail.com : admin :
  2. dinajpur24@gmail.com : akashpcs :
  3. self@unliwalk.biz : brandymcguinness :
  4. ChristineTrent91@basic.intained.com : christinetrent4 :
  5. azegovvasudev@mail.ru : latricebohr8 :
  6. news@dinajpur24.com : nalam :
  7. vaughnfrodsham2412@456.dns-cloud.net : reneseward95 :
  8. Sonya.Hite@g.dietingadvise.club : sonya48q5311114 :
সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
নতুন রুপে আসছে দিনাজপুর২৪.কম! ২০১০ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের পুরনো নিউজ পোর্টালটির জন্য দেশব্যাপী সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা প্রয়োজন। সারাদেশে সংবাদকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা এখনই প্রয়োজনীয় জীবন বৃত্তান্ত সহ সিভি dinajpur24@gmail.com এ ইমেইলে পাঠান।

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৫
  • ০ বার পঠিত

(দিনাজপুর২৪.কম) ‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই / যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’ কবির এই গান সত্যি হয়েছে। মসজিদেরই পাশেই কবর হয়েছিল তার। মৃত্যুর পর কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। সেখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত। কবিকে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। ‘যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,/ অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে / বুঝবে সেদিন বুঝবে!/ ছবি আমার বুকে বেঁধে / পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে / ফিরবে মরু কানন গিরি, / সাগর আকাশ বাতাস চিরি` / যেদিন আমায় খুঁজবে / বুঝবে সেদিন বুঝবে!’ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘অভিশাপ’ কবিতায় লেখা এই লাইনগুলো আজ আমাদের জন্য যেন এক চির সত্যেরই প্রতিধ্বনি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল আজ আমাদের মাঝে নেই। আছে তার অনুরণন। তিনি আমাদের জাতীয় জীবনেরই অপরিহার্য অংশ হয়ে আছেন। আজ আর খুঁজেও পাওয়া যাবেনা তাকে। কিন্তু তিনি তার সৃষ্টির মধ্য দিয়েই আমাদের মাঝে সর্বক্ষণ অস্তিত্ব হয়ে আছেন। নানাভাবে তিনি আমাদের মাঝে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন। কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। তার রচিত “চল্ চল্ চল্, ঊর্ধগগনে বাজে মাদল” বাংলাদেশের রণসংগীত হিসাবে গৃহীত। নজরুলের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী প্রতি বছর বিশেষভাবে উদযাপিত হয়। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে ২০০৫ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় নামক সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কবির স্মৃতিতে নজরুল একাডেমী, বুলবুল ললিতকলা একাডেমী ও শিশু সংগঠন বাংলাদেশ নজরুল সেনা স্থাপিত হয়। এ ছাড়া সরকারীভাবে স্থাপিত হয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান নজরুল ইন্সটিটিউট- ঢাকা শহরের একটি প্রধান সড়কের নাম রাখা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ। আবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চুরুলিয়ায় “নজরুল অ্যাকাডেমি” নামে একটি বেসরকারি নজরুল-চর্চা কেন্দ্র আছে। চুরুলিয়ার কাছে আসানসোল মহানগরে ২০১২ সালে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। আসানসোলের কাছেই দুর্গাপুর মহানগরের লাগোয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নাম রাখা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় অবস্থিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাজধানী কলকাতার যোগাযোগ-রক্ষাকারী প্রধান সড়কটির নাম রাখা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম সরণি। কলকাতা মেট্রোর গড়িয়া বাজার মেট্রো স্টেশনটির নাম রাখা হয়েছে “কবি নজরুল মেট্রো স্টেশন”। ১২ ভাদ্র। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে এ দিনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলাদেশে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে বঙ্গাব্দ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী। কবির জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ। কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকাল ৭৭ বছরের। সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। ২৩ বছরের সাহিত্য জীবনে তাঁর বিপুল সৃষ্টিকর্ম বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তাঁর ছড়ানো দ্রোহী চেতনা কাঁপিয়ে দেয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত। খ্যাতি পেয়েছেন বিদ্রোহী কবির। অভিষিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায়। কাজী নজরুল ইসলাম তার স্বল্প পরিসর সাহিত্য জীবনে রচনা করেছেন ২২টি কাব্য গ্রন্থ, ৫১টিরও অধিক গল্পগ্রন্থ, উপন্যাস, প্রবন্ধগ্রন্থ, সঙ্গীতগ্রন্থ, নাটক-নাটিকা, কিশোর কাব্য, কাব্যানুবাদ, কিশোর নাটিকা -যা প্রতিটিই শিক্ষাণীয়। সবচেয়ে বিস্ময়কর এই যে, তিনি রচনা করেছেন ৫ হাজারেরও বেশি গান। যা আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোন কবি রচনা করতে সক্ষম হননি।

ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন-শোষণ থেকে উপমহাদেশের মুক্তির আন্দোলন এবং একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান ছিল অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। সংকট ও সম্ভাবনায় নজরুলের সৃষ্টিকর্ম বাঙালির জীবনে জুগিয়ে চলেছে নিরন্তর প্রেরণা।

কাজী নজরুল ইসলামের কর্মময় জীবন যেমন ঘটনাবহুল, তেমনই বিচিত্র তার সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি। দারিদ্র্যকে সঙ্গী করে কবির পৃথিবীতে আগমন । বেশি দূর এগোয়নি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা । নজরুল নিজের চেষ্টায় প্রচুর পড়াশোনা আর জীবনাভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করেছেন চিন্তার জগৎ।

ছোটবেলায় রুটির দোকানে কাজ করা, লেটোর দলে যোগদান, যৌবনে যুদ্ধযাত্রা, সাংবাদিকতা, রাজনীতিসংশ্লিষ্টতা সব মিলিয়ে এক বিচিত্র জীবন তার। অসাম্য, অসুন্দর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অক্লান্ত বিদ্রোহী।

বিদ্রোহী কবির মর্যাদা পেলেও তিনি চিরকালের প্রেমের কবি। সব ধর্মের মানুষের কাছে তিনি পেয়েছেন সমান মর্যাদা। অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে তিনি লিখে গেছেন অবিরাম। বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে তার অজর কবিতা। বাংলা গানের জগৎকে গীতসুধারসে ভরিয়ে দিয়েছে তার বৈচিত্র্যময় গানের কলি, তাতে যোগ করেছে নতুন নতুন মাত্রা ও স্বাদ।

জন্মস্থান ভারতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে কবি নিবিড় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরের একটা সময় কেটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল-দরিরামপুরে। কুমিল্লায় তার শ্বশুরবাড়ি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেটেছে তার আনন্দ-বেদনার অনেকগুলো দিন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভারত থেকে নিয়ে আসেন বাংলাদেশে। এরপর থেকেই তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিক্ত।

তিনি সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, দেশপ্রেমী, বিদ্রোহী কবি এমনি অনেক পরিচয় তার। সর্বোপরি তিনি মানবতার কবি। বঞ্চিত লাঞ্ছিত মানবতাকে নিত্য যিনি শুনিয়েছেন জাগরণের গান, উজ্জীবিত করেছেন অভয়মন্ত্রে। তিনি সাম্যবাদী আদর্শে দীক্ষিত অকুতোভয় তেজদীপ্ত এক জীবন সাধক। -ডেস্ক

নিউজট শেয়ার করুন..

এই ক্যাটাগরির আরো খবর