-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিল খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায়ের প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত। এসময় তারা অবিলম্বে দন্ডাদেশ বাতিল করে এটি এম আজহারুল ইসলামসহ শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় সরকারকে চরমমূল্য দিতে হবে।

রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেটে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, সরকার নেতৃত্বশূন্য করে দেশকে করদরাজ্য বানানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছে। সে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে সরকার পরিকল্পিতভাবে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। কিন্তু সচেতন জনতা সরকারের এ ষড়যন্ত্র কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেবে না বরং জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট এলাকা থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, কামাল হোসাইন, শামছুর রহমান, শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম, দেলওয়ার হোসাইন, আব্দুল জাব্বার, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, হাফিজুর রহমান ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য আমিনুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, মতিউর রহমান, মোহাম্মদ আল-আমীন, আব্দুর রহমান সাজু, বনি ইয়ামিন, ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী পুর্বের সভাপতি হাফিজুর রহমান, ঢাকা কলেজ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মারুফ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারী আহমদ হোসাইন রাসেল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে চরম দলন ও পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। তার পক্ষে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত হওয়া কোন ভাবেই সম্ভব ছিল না। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে দেশের কোন থানায় মামলা তো দূরের কথা বরং কোন থানায় সাধারণ ডাইরীও করা হয়নি।

কিন্তু সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও সাজানো সাক্ষীর মাধ্যমে একজন জাতীয় নেতাকে প্রাণদন্ডে দন্ডিত করেছে। কিন্তু সচেতন জনগণ সরকারের এহেন দেশ ও জাতিসত্তাবিরোধী ষড়যন্ত্র কখনোই মেনে নেবে না বরং সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

তিনি অবিলম্বে প্রতিহিংসা ও হত্যার রাজনীতি পরিহার করে মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী সহ শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি সরকারের প্রতি আহবান জানান।

এদিকে, সিলেট মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেছেন, কোনো অপরাধ নয়, রাজনৈতিক প্রতিংসা চরিতার্থ করতে এবং জামায়াতকে নেতৃত্ব শুন্য করতেই জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে বিচারের নামে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। অথচ এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক, বানোয়াট। সরকার তাদের দলীয় লোকদের দ্বারা সাক্ষ্য দিয়ে ফাঁসির দন্ড হাসিলের মাধ্যমে একে একে শীর্ষ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার জননেতা আজহার। বিচার প্রক্রিয়ায় সরকার দলীয় লোকদের দ্বারা আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করিয়েছে।

একজন সাক্ষী আদালতে বলেছেন, তিনি ৭ কিলোমিটার দূর থেকে ঘটনা দেখেছেন। অপর একজন সাক্ষী বলেছেন, তিনি ৩ কিলোমিটার দূর থেকে ঘটনা দেখেছেন। তাদের এ বক্তব্যই প্রমাণ করে তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলেছেন। ৭ বা ৩ কিলোমিটার দূর থেকে ঘটনা দেখার দাবি সম্পূর্ণ হাস্যকর। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিচারের নামে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র ১৮ বছর বয়সের যুবক এটিএম আজহারের মতো নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় কোন বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারেনা। অবিলম্বে এই অন্যায় রায় বাতিল করে আমীরে জামায়াত সহ জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিন।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে দেয়া অন্যায় মৃত্যুদন্ডাদেশের রায় আপীলে বহাল রাখার প্রতিবাদে নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় তাৎক্ষনিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে সিলেট মহানগর জামায়াত। মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত কথা বলেন।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, সহকারী সেক্রেটারী মোঃ শাহজাহান আলী, জামায়াত নেতা মুফতী আলী হায়দার, মাওলানা আলা উদ্দিন, মাওলানা মুজিবুর রহমান, শফিকুল আলম মফিক, ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান কবির রিপন ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির সিলেট মহানগর সভাপতি ফরিদ আহমদ প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য শীর্ষ জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজহারুল ইসলামকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মামলার বিবরনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন সাক্ষী নিজেকে আজহার সাহেবের ক্লাসমেট দাবি করে আদালতে আজহার সাহেবের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আদালতে উপস্থাপিত ডকুমেন্ট অনুযায়ী আজহারল ইসলাম ১৯৬৮ সালে কারমাইকেল কলেজ ত্যাগ করেন, আর কথিত সাক্ষী ১৯৭০ সালে কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন। অতএব আজহারুল ইসলামকে ঐ সাক্ষী তার ক্লাসমেট হওয়ার যে দাবি করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। গোটা মামলাটি মিথ্যায় ভরপুর। দেশের জনগণ আশা করেছিল সর্বোচ্চ আদালতে আজহারুল ইসলাম ন্যায়বিচার পাবেন।

কিন্তু সরকারের সাজানো মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করায় দেশের জনগণের সাথে আমরাও হতবাক ও বিস্মিত। জনগণ এ রায় প্রত্যাখ্যান করছে। সরকার দেশকে রাজনীতি ও নেতৃত্বশূন্য করার যে চক্রান্ত শুরু করেছে, আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা সাজানো মামলাটি সে ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ। এই রায় বাতিল করে জননেতা আজহার সহ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তারা।

প্রসঙ্গত, জামায়াত নেতা ও যুদ্ধাপরাধী এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিমকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ ৩১ অক্টোবর এই রায় দেন।

জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আজহার একাত্তরে ছিলেন ইসলামী ছাত্র সংঘের জেলা কমিটির সভাপতি এবং আলবদর বাহিনীর রংপুর শাখার কমান্ডার। সে সময় তার নেতৃত্বেই বৃহত্তর রংপুরে গণহত্যা চালিয়ে ১৪ শ’র বেশি মানুষকে হত্যা, বহু নারীকে ধর্ষণ ও অপহরণ, নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল বলে এ মামলার বিচারে উঠে আসে। সূত্র : আ.সংবাদ