আজম খান। পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) রেল লাইনের ঐ বস্তিতে, জন্মেছিল একটি ছেলে, মা তার কাঁদে, ছেলেটি মরে গেছে, হায়রে হায় বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ…। শুধু গানের কথায় নয়, যিনি এ গানটি গেয়েছিলেন সেই ছেলেটিও সত্যি সত্যি মরে গেছে। তিনি বাংলাদেশের পপ ও ব্যান্ড সঙ্গীতের গুরু আজম খান। আজ তার নবম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১১ সালের এই দিনে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্ম নেন এই রকস্টার। বাবা আফতাবউদ্দিন আহমেদ, মা জোবেদা খাতুন।

১৯৫৬ সাল থেকে কমলাপুরে বসবাস শুরু করে আজম খানের পরিবার। মাত্র ২১ বছর বয়সে ঢাকা উত্তরের সেকশন কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন আজম খান। দেশ স্বাধীন হবার পর গান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। লাকী আখন্দ ও হ্যাপি আখন্দসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ব্যান্ডদল ‘উচ্চারণ’। উচ্চারণের গান সংগীত জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, গোটা উপমহাদেশেই আজম খান পেয়েছিলেন অসাধারণ জনপ্রিয়তা। ১৯৭২ সালে ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ ও ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দুটি সরাসরি সম্প্রচার করে বিটিভি। ব্যাপক প্রশংসা আর তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় এই দুটি গান। দেশজুড়ে পরিচিতি পায় তাদের গান। ১৯৭৪ সালে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে আরেকটি অনুষ্ঠানে গাইলেন ‘রেললাইনের ঐ বস্তিতে’ গানটি। এ গান চারদিকে হৈচৈ ফেলে দেয়।

আজম খানের পাড়ার বন্ধু ছিলেন ফিরোজ সাঁই। পরবর্তীকালে তার মাধ্যমে পরিচিত হন ফকির আলমগীর, ফেরদৌস ওয়াহিদ, পিলু মমতাজের সঙ্গে। এক সঙ্গে বেশ কয়েকটা জনপ্রিয় গান করেন তারা। এরই মধ্যে আরেক বন্ধু ইশতিয়াকের পরামর্শে সৃষ্টি করেন একটি রক ঘরানার গান ‘জীবনে কিছু পাব না এ হে হে!’ বলা হয়, এটি বাংলা গানের ইতিহাসে প্রথম হার্ডরক গান! বিশ্বের বেশ কটি দেশে কনসার্ট পরিবেশন করেন এই পপগুরু। আজম খান বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার আলম খানের ছোট ভাই। তিনি ১৯৭১ সালে একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঢাকায় সংঘটিত কয়েকটি গেরিলা অভিযানে অংশ নেন। আজম খানের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছেÑ ‘বাংলাদেশ’, ‘ওরে সালেকা, ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘অনামিকা’, ‘অভিমানী’, ‘আসি আসি বলে’ প্রমুখ। শিল্পীর কখনো মৃত্যু হয় না। তারা শুধু আড়ালে চলে যান। -ডেস্ক