(দিনাজপুর২৪.কম) বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালতে পৌঁছেছে। মিন্নির আইনজীবি জানিয়েছেন বিকেল নাগাদ ছাড়া পেতে পারেন মিন্নি।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে জামিনের আদেশের কপি বরগুনার আদালতে পৌঁছায়। মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মিন্নির হাইকোর্টের জামিনের আদেশের স্বাক্ষরিত কপি আজ বেলা ১২টার দিকে বরগুনার আদালতে এসে পৌঁছেছে। এখন আমরা মিন্নির পক্ষে বেলবন্ড (জামিননামা) দাখিলের অনুরোধ করবো। আদালতের বিচারক বেলবন্ড গ্রহণ করে কারা কর্তৃপক্ষকে রিলিজ অর্ডার পাঠাবেন।

আমরা আশা করছি, সকল দাফতরিক কাজ শেষ করে আজকের মধ্যেই মিন্নিকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।’

এদিকে বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার মূলনথি জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে না আসায় অভিযোগপত্র গ্রহণ নিয়ে আদেশ দেননি সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এ মামলায় ৬ কিশোর আসামিকে যশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে সোমবার মিন্নিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতির আদালত

এর আগে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী মিন্নিকে সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদনের ওপর নো-অর্ডার (কোনও আদেশ নয়) দেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত।

এর ফলে মিন্নির জামিনের মুক্তিতে আর কোনও বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা। চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত এ আদেশ দেন।

অন্যদিকে মিন্নিকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আটকাতে ফের আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। ওই ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটিতে সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী তাকে (রিফাত শরীফ) ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে দেখা যায়। গত ২ জুলাই নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। পরে রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ১৬ জুলাই সারাদিন জেরা করার পর নিহত শরীফের স্ত্রী মিন্নিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

রিফাত হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে মিন্নির পরিবারের দাবি, পুলিশ যা বলতে বলেছে, আদালতে তা-ই বলেছেন তিনি। -ডেস্ক