(দিনাজপুর২৪.কম)আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, আগাম নির্বাচনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচন হবে যথাসময়ে_ নির্দিষ্ট দিনে। ঈদের পর দল গোছানোর কাজ জোরেশোরে শুরু হবে। জোরদার করা হবে উন্নয়ন ও সুশাসনের ভিত্তি।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতাদের দৃষ্টিতে, আগামী ২০১৯ সালের আগে একাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী ওই বছরের ২৯ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। এর আগে নির্বাচনের কথা ভাবা স্বপ্নেরই নামান্তর।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অংশ নেয়নি। ভোটার উপস্থিতিও ছিল কম। ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা ও সমালোচনা কম হয়নি।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, ওই নির্বাচনের পর সরকার কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় পড়ে। ফলে তখন দলের ভেতরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এখন আর সেই
পরিস্থিতি নেই বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের ভাষায়, সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষতার কারণে গোটা পরিস্থিতি বদলে গেছে। আন্দোলনের নামে যারা পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে মানুষ পুড়িয়েছে, তাদের পরাজয় হয়েছে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিকভাবে সবকিছু সরকারের অনুকূলে রয়েছে।

সমকালের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। সরকার এখন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যস্ত। মানুষের কোনো অভিযোগ নেই। সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়টি একেবারেই কল্পনাপ্রসূত, অবাস্তব এবং ভিত্তিহীন। তাছাড়া আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপিকে উজ্জীবিত করতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের স্বপ্ন দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। তিনি বলেন, দেশে তো নয়ই, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য কোনো চাপ নেই।
উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। দেশজুড়ে শান্তি বিরাজ করছে। মোদির সফরে শেখ হাসিনার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনেও সরকার উজ্জীবিত। এই অবস্থায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। এর আগে নয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৯২ দিনের কথিত আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করেও পরাজিত হয়েছেন। এখন নতুন করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, নির্ধারিত সময়েই আগামী নির্বাচন হবে। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের ভাষায়, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে জঙ্গিবাদ তৈরি করতে গিয়ে যারা পরাজিত হয়েছেন তারাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলছেন। মানুষ মধ্যবর্তী নির্বাচনের নাটক দেখতে চায় না।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগে কোনো আলোচনাই নেই। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, সরকার নির্ধারিত সময়ে আগামী নির্বাচনের কথা ভাবছে। এ জন্য ঈদের পর দল গোছানোর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।(ডেস্ক)