-ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) ২০২০ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশে ব্যাংক ঋণের সুদহার দশ ভাগের নিচে বা এক অঙ্কে নেমে আসবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

তিনি বলেছেন, ব্যাংক মালিকরা ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে গত বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ব্যাংক মালিকরা সরকারের কাছ থেকে একের পর এক সুবিধা নিয়েছেন। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষ তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সুদের হার সিঙ্গল ডিজিট বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তবে সার্র্কুলার ইস্যু করেনি। তাদের একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম, সেই কমিটি কাজ শেষ করেছে। ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার চেষ্টা করছি, সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন ইস্যু করবে। সে প্রজ্ঞাপনে সবকিছু থাকবে, আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কাজ করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কয়েক দফা বসে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি কী সুপারিশ করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটি যেহেতু সুপারিশ করেছে, সেহেতু এটি পাবলিশ হয়নি, পাবলিশ হলে জানতে পারবেন- গোপন রাখব না কিছু। সারাবিশ্বে কোথাও এত হাই রেটে ইন্টারেস্ট নেই, সামঞ্জস্য করে চলতে হবে।

১ জানুয়ারি থেকেই সিঙ্গল ডিজিট কার্যকর হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সিঙ্গল ডিজিট ঠিক থাকবে। জানুয়ারির ১ তারিখ থেকেই হবে, এর মধ্যে আশা করি বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার ইস্যু করবে।’

সুদের হার সবার জন্য এক হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২ শতাংশ দিয়ে যারা রেজিস্ট্রেশন করছে তাদের জন্য একরকম, আবার যারা ভালো- তাদের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া থাকবে। যারা ঋণ খেলাপি- তাদের বলা হতে পারে তোমরা অর্ধেক টাকা দিয়ে স্বাভাবিক হও।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, টাকার মান ডলারের বিপরীতে কমানো হবে না। আমরা প্রয়োজনে ভিন্ন খাতকে প্রণোদনা দিব। তার পরও আমরা টাকার মান কমাব না। কারণ বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর। তাই টাকার মান কমালে আমাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সবাই চেয়েছিল যে আমাদের কারেন্সি ডিভাল্যুশন (টাকার মান ডলারের বিপরীতে কমানো) করা হোক। তাদের যুক্তি ছিল কারেন্সি ডিভাল্যু হলে রপ্তানি বাণিজ্য থেকে শুরু করে রেমিট্যান্স অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু আমরা বলেছি- অন্য যেসব দেশ কারেন্সি ডিভাল্যু করেছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকেও একটি পত্রিকায় দেখলাম পুঁজিবাজার থেকে সব বিদেশি বিনিয়োগ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা ধারণা করছে এখানে কারেন্সি ডিভ্যালু করা হবে। কিন্তু আমাদের সরকারের কারেন্সি ডিভাল্যুশন করার কোনো পরিকল্পনা নেই। চলতি বাজেটে এটি ছিল না, আগামী বজেটেও এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত থাকবে না। -ডেস্ক