(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা ভ্রাতৃত্ব এবং ঐক্যে বিশ্বাসী। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা সংসদকে সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছি। সংসদের বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছি। সংসদে প্রশ্নোত্তরে বুধবার মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের (মেহেরপুর-২) এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নের লিখিত জবাবে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা ভ্রাতৃত্ব এবং ঐক্যে বিশ্বাসী। এজন্য আমরা বিভিন্ন সময় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। গত ৩০ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আমরা টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছি। আমাদের দৃষ্টিতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক সমান। আমরা সবার জন্য কাজ করবো। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুর্বে আমরা দেশের সকল নিবন্ধিত দলের সঙ্গে সংলাপ করেছি। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা সংসদকে সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছি। সংসদের বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছি। মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ক্ষুধা-দারিদ্র নিরক্ষরতার অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এজন্য আমি দলমতা নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা চাই।

তিনি সংবিধানের ১৯ (০১ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে দেশের সকল নাগরিক সমান। সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাসি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময়ই জনগনের ঐক্যবদ্ধ শক্তির ওপর আস্থাশীল। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সকল নাগরিকের অংশগ্রহন জরুরি। আমরা ব্যক্তি হিসেবে বিভিন্ন দল/সংগঠন করতে পারি, আমাদের মতের ভিন্নতা থাকতে পারে। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় প্রতিপক্ষ দলকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা হয়।

এ প্রসঙ্গে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধ হত্যাকান্ডোর উল্লেখ করে বলেন, এরপর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীী লীগ এবং দলের নেতাকর্মীগণ এ ধরণের বৈরি আচরণের হয়েছেন বার বার। আমি ব্যক্তিগতভাবে বার বার হামলার শিকার হয়েছি। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০১ সালে নির্বাচন পরিবর্তী সময় এবং ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার কথা উল্লেখ করেন।

এম আবদুল লতিফের ( চট্টগ্রাম-১১) এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশি বিদেশি নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে উন্নয়ন, অগ্রগতি আর সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে আমাদের আজকের বাংলাদেশ। ৪২ বছর সল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় থাকার পর গত ১৭ মার্চ ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছে। যুদ্ধবিধস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ, যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার ইতিহাস।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের জন কল্যাণমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কারণে বাংলাদেশের এই উন্নয়ন এবং এ অদম্য অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে। আশি’র দশকের তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ কাটিয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন বিস্ময় হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত উম্মোচিত হচ্ছে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার। তিনি বলেন, দ্রততম সময়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখ বাস্তবায়নে আমাদের সরকারের সক্ষমতা ইতোমধ্যেই প্রমানিত হয়েছে। এটি শুধু আমাদের দাবি নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত সত্য। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা এখন বিশ্বের রোল মডেল। বর্তমানে দেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার। যা গত বছরে ছিল ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার।এক বছরে বেড়েছে ১৪১ ডলার। বিএনপির শাসনামল শেষে ২০০৬ সালে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৫৪৩ মার্কিন ডলার। এরপর মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিনগুনের বেশি। তিনি আরও জানান, রূপকল্প ২০৪১ অনুসারে ২০৪১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় ১৬ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।

এম এ মতিনের (কুড়িগ্রাম-৩) এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, নবম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামলীগ সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহন করে তখন বিদ্যূৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ক্যাপটিভসহ ২০হাজাার ৮৫৪মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশের শতকরা ৯৩ভাগ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে এবং শতকরা ৭ভাগ গ্রাহক অবশিষ্ট আছে। অবশিষ্ট গ্রাহকদেরকে ২০১৯-২০ সালের মধ্যেই বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। -ডেস্ক