1. dinajpur24@gmail.com : admin :
  2. dinajpur24@gmail.com : akashpcs :
  3. self@unliwalk.biz : brandymcguinness :
  4. ChristineTrent91@basic.intained.com : christinetrent4 :
  5. azegovvasudev@mail.ru : latricebohr8 :
  6. news@dinajpur24.com : nalam :
  7. vaughnfrodsham2412@456.dns-cloud.net : reneseward95 :
  8. Sonya.Hite@g.dietingadvise.club : sonya48q5311114 :
সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
নতুন রুপে আসছে দিনাজপুর২৪.কম! ২০১০ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের পুরনো নিউজ পোর্টালটির জন্য দেশব্যাপী সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা প্রয়োজন। সারাদেশে সংবাদকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা এখনই প্রয়োজনীয় জীবন বৃত্তান্ত সহ সিভি dinajpur24@gmail.com এ ইমেইলে পাঠান।

আইন-আদালতের নির্দেশ উপেক্ষিত, নেই ভাষানীতি : সর্বস্তরে বাংলা চালু কত দূর

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
  • ২ বার পঠিত

প্রতীক ইজাজ (দিনাজপুর২৪.কম) আজও দেশে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার চালু হয়নি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখনো তা রয়ে গেছে কাগজে-কলমে। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহার হচ্ছে না। এমনকি এ-সংক্রান্ত আইনের বাধ্যবাধকতাও মানতে বাধ্য করা যাচ্ছে না কাউকে।

বিশেষ করে এখনো দেশে ভাষা জরিপ হয়নি। হয়নি জাতীয় ভাষানীতি। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ প্রশাসন, রাষ্ট্র পরিচালনা, শিক্ষা-প্রযুক্তির প্রসার, ভাষার উন্নয়ন আর পাহাড়িদের ভাষার অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে এ জন্য জোরালো কোনো উদ্যোগও নেয়নি কোনো সরকার। মানা হচ্ছে না বাংলা ভাষা প্রচলন আইন। আদালতের দুই দফা নির্দেশনা আজও উপেক্ষিত। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ’ এবং বাংলা একাডেমি ‘প্রমিত বানানরীতি’ মানা হচ্ছে না।

এ অবস্থার মধ্য দিয়েই আজ ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর পূর্ণ হলো। পালিত হচ্ছে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এ দিনে মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে প্রাণ দিয়েছিল বাঙালি। সেই রক্তস্নাত পথ ধরেই একদিন স্বাধীনতার আন্দোলনে উজ্জীবিত হয়েছিল পূর্ব বাংলার মানুষ। একাত্তরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। দেশ স্বাধীনও হলো। কেবল উপেক্ষিত থেকে গেল সর্বত্র বাংলা ভাষা চালুর বিষয়টি।

এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভাষাসৈনিক, শিক্ষাবিদসহ বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের উদাসীনতার জন্যই সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন করা সম্ভব হয়নি।

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক বলেন, সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। তার মানে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। অথচ কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ে বিদেশি ভাষা ছেয়ে গেছে। বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে হলে ভাষার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ভাষার শৃঙ্খলা ও নিজের ভাষা রক্ষা করতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভাষানীতি থাকলেও আমাদের নেই। এটা আমাদের ব্যর্থতা। সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের জন্য ভাষানীতির দরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহরাব হোসেন বলেন, উপযুক্ত ভাষানীতির মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের বিলীন হতে বসা মাউরি ভাষা রক্ষা পায়। শ্রীলঙ্কা, ইকুয়েডর, জাপান, জার্মানি ও ফ্রান্স ইত্যাদি দেশ মাতৃভাষা রক্ষা করতে ভাষানীতিতে অনড়। কেবল আমাদেরই কোনো ভাষানীতি নেই। সর্বত্র নিজ ভাষা চালুর তাগিদ নেই।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। এ ছাড়া বাংলা ভাষা প্রচলন আইন-১৯৮৭ এর ৩নং ধারায় বলা হয়েছে, দেশের সব অফিস-আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন করা হবে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন করা হয়নি।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে খোঁজ নিয়ে ও ভাষাবিদদের সঙ্গে কথা বলে সর্বত্র বাংলা ভাষা চালুর এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

আদালতের নির্দেশ অমান্য : জানা গেছে, বেতার ও দূরদর্শনে বাংলা ভাষার বিকৃত উচ্চারণ ও দূষণ রোধে হাইকোর্টের রুলসহ দুটি নির্দেশনা রয়েছে। হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চ ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশনা দেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে, অন্যটি ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। আদেশ দুটিতে বেতার ও দূরদর্শনে বিকৃত উচ্চারণ, ভাষা ব্যঙ্গ ও দূষণ করে অনুষ্ঠান প্রচার না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। রুলে বাংলা ভাষার দূষণ ও বিকৃতি রোধে কেন পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলা ভাষার দূষণ, বিকৃত উচ্চারণ, সঠিক শব্দচয়ন, ভিন্ন ভাষার সুরে বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা ভাষার অবক্ষয় রোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করতে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে বলা হয়। পরে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে কমিটি গঠিত হয়। কমিটি ওই বছরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেয়। কমিটির সুপারিশে বলা হয়, হিন্দি চ্যানেলের ছড়াছড়ি বাংলা ভাষার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এটি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

প্রথম রুলের দুই বছর পর ২০১৪ সালে সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা প্রচলনের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। রিটে বলা হয়, সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদ এবং বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭-এর ৩ ধারা অনুসারে সর্বত্র তথা সরকারি অফিস, আদালত, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে (বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত) চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সাওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে। শুনানি নিয়ে আদালত ১৭ ফেব্রুয়ারি রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। কিন্তু আদালতের সে নির্দেশ মানা হচ্ছে না।

ওই আদেশে আদালত আরো বলেছিলেন, এক মাসের মধ্যে দেশের সব সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বর প্লেট, সরকারি দফতরের নামফলক (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) এবং গণমাধ্যমে ইংরেজি বিজ্ঞাপন ও মিশ্র ভাষার ব্যবহার বন্ধ করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে নির্দেশ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আমাদের মনমানসিকতার পরিবর্তন না হলে সর্বত্র বাংলার প্রচলন করা যাবে না। সাধারণ মানুষ বাংলা ভাষার কদর বোঝেন। কিন্ত সমাজে একশ্রেণির মানুষ আছেন, যারা ছেলে-মেয়েকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াতে চান, বিয়ের কার্ড ইংরেজিতে ছাপানো পছন্দ করেন। এই মনমানসিকতার পরিবর্তন দরকার।

আদালতেও উপেক্ষিত : সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হলেও উচ্চ আদালতে তা উপেক্ষিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট রুলসে ভাষা হিসেবে প্রথমে ‘বাংলা’ এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের ভাষা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন নেই। এর প্রতিকার চেয়ে কেউ কেউ আদালতে যান। আদালত আদেশ দিলেও এর বাস্তবায়ন এগোয়নি। সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক ক্যালেন্ডার ও দৈনন্দিন কার্যতালিকা (কজ লিস্ট) বাংলায় তৈরি করা হয়। উচ্চ আদালতের দাফতরিক অনেক কাজ বাংলায় সম্পাদন করা হয়। কিন্তু রায় বা আদেশ দেওয়া হয় ইংরেজিতে।

আইনজ্ঞদের মতে, দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারা সংশোধন না হওয়ায় উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বেশ কিছু দেওয়ানি বিষয়ের আবেদনপত্র নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ১৯৯১ সালের ৮ নভেম্বরে হাইকোর্ট একটি রায় দেন। ওই রায়ে বলা হয়, দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারার ১ উপধারা মতে, আদালতে ইংরেজির ব্যবহার- যথা রায়, আরজি, সাওয়াল-জবাব ইত্যাদি লেখা হলে তা বেআইনি হবে না। হাইকোর্টের এ রায়ের পর আর নিম্ন আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলত করা হয়নি।

এ ছাড়া বেঞ্চ কর্মকর্তারা বিচারকদের ডিরেকশন বাংলায় সহজে লিখতে পারেন না, বাংলা ভাষায় আইনের তেমন প্রতিশব্দ নেই, ইংরেজি ভাষায় রায় লেখা দীর্ঘদিনের প্রচলন, আইনের সব ভাষ্যই ইংরেজিতে ও ইংরেজিতে লেখা আইনগুলো ভাষান্তর না হওয়াÑএসব কারণেও আদালতে বাংলার প্রচলন করা যাচ্ছে না বলে জানান আইনজীবীরা।

মানা হচ্ছে না আইন : জানা গেছে, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী দেশের অফিস-আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের ৪ ধারায় আইনটি কার্যকর করার জন্য সরকারের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা আছে। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বিধি প্রণয়ন না করায় আইনটি মানতে বাধ্য করা যাচ্ছে না। অথচ আইনের ১৯৮৭ সালের আইনটির ২ ও ৩ (১) ধারায় বলা আছে, কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে। ৩ ধারায় বলা আছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ আইন অমান্য করলে তা সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিলবিধির অধীনে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অসদাচরণের সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতি।

ভাষানীতি ও জরিপ নেই : জানা গেছে, ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন’ প্রয়োগ করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ‘বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ’ এবং বাংলা একাডেমি ‘প্রমিত বানানরীতি’ প্রণয়ন করে। কিন্তু জাতীয় ভাষানীতি না থাকায় বানানে সমতা আনা যাচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানার অনেক প্রতিষ্ঠান প্রমিত বানানরীতি অনুসরণ করছে না। এই ভাষানীতির অভাবেই ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সরকারের এক আদেশে ও ’৭৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিপরিষদের সভাসহ বিভিন্ন সরকারের আমলে সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি।

অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত দেশে কোনো ভাষা জরিপ হয়নি। ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার জরিপ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়। ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র উদ্যোগে কার্যক্রমটি শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। জরিপের প্রশ্নমালাও সাজানো হয়। জনগণকে কার্যক্রমটি সম্পর্কে জানাতে ওই সময় পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে। শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইউম তখন দেশের তিনটি উপজেলায় প্রশ্নমালার ভিত্তিতে জরিপও করেন। তিনি তখন বাংলা একাডেমির সংকলন বিভাগের সহকারী অধ্যক্ষ ছিলেন। তবে ওই কার্যক্রমও পরে সফলতার মুখ দেখেনি। -ডেস্ক

নিউজট শেয়ার করুন..

এই ক্যাটাগরির আরো খবর